📄 ক্রোধের স্বরূপ
আখলাক পরিশুদ্ধ হয় কীভাবে? একটা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে বিষয়টি সহজে বুঝে আসবে। উদাহরণস্বরূপ, ক্রোধ মানুষের অভ্যন্তরীণ একটি চরিত্র, যা মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়। তারপর অনেক সময় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মানুষের হাত ও পায়ের মাধ্যমে আর অনেক সময় প্রকাশ পায় জিহ্বার মাধ্যমে। ক্রোধের সৃষ্টি হলে এবং মানুষ ক্রোধের কাছে পরাভূত হলে মুখমণ্ডল লাল হয়ে যায়, রগ টান টান হয়ে যায়, জিহ্বা নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে উলট-পালট বকতে আরম্ভ করে, হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে থাকে; এগুলো ক্রোধের পরিণতি। কিন্তু প্রকৃত ক্রোধ সেই অবস্থার নাম, যা মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়। এই ক্রোধ অসংখ্য আধ্যাত্মিক রোগের মূল। এর কারণে অনেক গোনাহ সংঘটিত হয় এবং অনেক আধ্যাত্মিক ব্যাধির সৃষ্টি হয়।
📄 ক্রোধের উদ্রেক না হওয়া একটি রোগ
মানুষের মধ্যে যদি ক্রোধ একেবারেই না থাকে, কেউ যতো কিছুই করুক না কেন তার ক্রোধের উদ্রেকই হয় না; এটাও একটা ব্যাধি। আল্লাহ তা'আলা মানুষকে এ উদ্দেশ্যে ক্রোধ দিয়েছেন, যেন মানুষ নিজের জানের, মানের ও দ্বীনের উপর থেকে আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। কেউ পিস্তল তাক করে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রাণ হরণ করতে চাচ্ছে এরপরও যদি কারো ক্রোধের উদ্রেক না হয়; তাহলেও এটাও একটা রোগ। নাউযুবিল্লাহ। কেউ রাসূলের শানে গোস্তাখি করছে, এক ব্যক্তির তখনও ক্রোধ আসছে না; তার অর্থ হলো, সে অসুস্থ। এমন ক্ষেত্রে ক্রোধ আসা উচিত ছিলো, কিন্তু আসছে না, তাহলে এটা একটা ব্যাধি।
📄 ক্রোধের মধ্যেও ভারসাম্য কাম্য
ক্রোধ যদি ভারসাম্যের সীমা অতিক্রম করে যায় তাহলে এটাও ব্যাধি। অন্যের অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষার জন্য যদি ক্রোধের উদ্রেক হয়, তাহলে এ পরিমাণ ক্রোধ তো ঠিক আছে। কিন্তু যদি প্রয়োজনের চেয়ে অধিক ক্রোধ হয়, যেমন একটা থাপ্পড় মারলেই কাজ হয়ে যেতো কিন্তু সে ক্রোধের শিকার হয়ে অবিরাম মেরেই চলছে তাহলে এই ক্রোধ সীমাতিরিক্ত ও গোনাহ। বিধায় ক্রোধ কম হলেও তা আধ্যাত্মিক ব্যাধি এবং বেশি হলেও আধ্যাত্মিক ব্যাধি। ক্রোধ সীমার মধ্যে থাকতে হবে। প্রয়োজনের সময় প্রয়োগ করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে প্রয়োগ করা যাবে না। বিনা প্রয়োজনে ক্রোধ সৃষ্টি হলেও তা প্রয়োগ করা যাবে না।
📄 হযরত আলী রাযি. ও ক্রোধ
হযরত আলী রাযি.-এর ঘটনা আছে যে, এক ইহুদি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেয়াদবিপূর্ণ কোনো কথা বললে হযরত আলী রাযি. ক্রোধান্বিত হন। তিনি ঐ ইহুদিকে ধরাশায়ি করে তার বুকের উপর উঠে বসেন। ইহুদি যখন দেখলো আর কোনো উপায় নেই তখন সে মাটিতে শোয়া অবস্থায়ই হযরত আলী রাযি.-এর চেহারায় থুথু নিক্ষেপ করে। এবার তো সে আরো বেশি গোস্তাখি করলো, ফলে তাকে আরো বেশি মারা উচিত ছিলো, কিন্তু তিনি বললেন- সে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে গোস্তাখি করোছলো বলে আমি তাকে শাস্তি দিয়েছিলাম। তখন আমার ক্রোধ আমার নিজের জন্য ছিলো না, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা রক্ষার্থে ছিলো, এজন্য আমি তার উপর উঠে বসি। কিন্তু যখন সে আমাকে থুথু নিক্ষেপ করে তখন আমার অন্তরে নিজের জন্য ক্রোধের সৃষ্টি হয়, নিজের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণের প্রেরণা অন্তরে জাগে, তখন আমার স্মরণ হয় যে, নিজের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ করা ভালো নয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত এই যে, তিনি কখনই নিজের জন্য কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। এজন্য আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। এটা হলো ক্রোধের ভারসাম্য। প্রথমে ক্রোধের উপযুক্ত ক্ষেত্র ছিলো, তাই ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছিলো এবং তার উপর আমলও করেছেন। দ্বিতীয়টি ক্রোধের সঠিক ক্ষেত্র ছিলো না তাই তার উপর আমল করেননি। তিনি ইহুদিকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে যান।