📄 আধ্যাত্মিক ব্যাধিসমূহ হারাম
বাহ্যিক এবং দৈহিকভাবে অনেক কাজকে গোনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা, ঘুষ নেয়া, সুদ খাওয়া, মদ পান করা, ডাকাতি করা এসব গোনাহের কাজ। এগুলো আমাদের দেহের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের অঙ্গ দ্বারা এ সব সংঘটিত হয়। এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা অনেক অভ্যন্তরীণ কাজকেও গোনাহ সাব্যস্ত করেছেন। যেমন অহংকার একটি অভ্যন্তরীণ ব্যাধি। যা হাত পা দ্বারা সম্পাদিত হয় না। এটা মানুষের আধ্যাত্মিক একটি রোগ। আল্লাহ তা'আলা একে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। মদ পান করা যেমন হারাম, সুদ খাওয়া যেমন হারাম এবং ব্যভিচার করা যেমন হারাম, এটাও ঠিক একই রকম হারাম। এমনিভাবে হিংসাও একটি অভ্যন্তরীণ রোগ। একেও আল্লাহ তা'আলা হারাম সাব্যস্ত করেছেন। এটাও তেমনি হারাম, যেমন পূর্বোল্লিখিত গোনাহসমূহ হারাম।
সারকথা এই যে, আল্লাহ তা'আলা মানুষের আত্মার সাথে সম্পৃক্ত কিছু বিধানও দিয়েছেন। কিছু গুণ অর্জন করার হুকুম দিয়েছেন। কিছু চরিত্র থেকে বাঁচার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা যে সমস্ত গুণ অর্জন করার হুকুম দিয়েছেন সেগুলো নিজের ভিতরে সৃষ্টি করলে এবং যে সমস্ত দোষ থেকে বাঁচার হুকুম দিয়েছেন সেগুলো থেকে নিজের অভ্যন্তরকে মুক্ত করলে তখন বলা হবে যে, তার আখলাক তথা নীতি-চরিত্র পরিশুদ্ধ হয়েছে। আখলাক এসমস্ত অভ্যন্তরীণ অবস্থা ও আত্মিক গুণের নাম, যেগুলোর উল্লেখ উপরে করা হয়েছে। যে সমস্ত ভালো গুণ অন্তরে সৃষ্টি করতে হবে সেগুলোকে 'আখলাকে ফাযেলা' বা উত্তম চরিত্র এবং যে সমস্ত খারাপ দোষ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে সেগুলোকে 'আখলাকে রাযীলা' বা মন্দ চরিত্র বলা হয়।
আশা করি এ বিষয়টি বুঝে এসেছে যে, আখলাকের অর্থ পরস্পরে ভালোভাবে কথা বলা বা হাসিমুখে মিলিত হওয়া নয়, বরং এটা তার একটি পরিণতি। যখন মানুষের আখলাক পরিশুদ্ধ হয় তখন অন্য সকলের সঙ্গে তার আচরণ উত্তম হয়। কিন্তু মৌলিকভাবে একে আখলাক বলা হয় না। আখলাকের হাকীকত হলো, মানুষের অভ্যন্তর পরিশুদ্ধ হওয়া, উত্তম গুণাবলী লাভ হওয়া, মন্দ চরিত্র দূর হওয়া এবং মানবাত্মাকে আল্লাহর হুকুম মোতাবেক ঢেলে সাজানো।
📄 ক্রোধের স্বরূপ
আখলাক পরিশুদ্ধ হয় কীভাবে? একটা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে বিষয়টি সহজে বুঝে আসবে। উদাহরণস্বরূপ, ক্রোধ মানুষের অভ্যন্তরীণ একটি চরিত্র, যা মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়। তারপর অনেক সময় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মানুষের হাত ও পায়ের মাধ্যমে আর অনেক সময় প্রকাশ পায় জিহ্বার মাধ্যমে। ক্রোধের সৃষ্টি হলে এবং মানুষ ক্রোধের কাছে পরাভূত হলে মুখমণ্ডল লাল হয়ে যায়, রগ টান টান হয়ে যায়, জিহ্বা নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে উলট-পালট বকতে আরম্ভ করে, হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে থাকে; এগুলো ক্রোধের পরিণতি। কিন্তু প্রকৃত ক্রোধ সেই অবস্থার নাম, যা মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়। এই ক্রোধ অসংখ্য আধ্যাত্মিক রোগের মূল। এর কারণে অনেক গোনাহ সংঘটিত হয় এবং অনেক আধ্যাত্মিক ব্যাধির সৃষ্টি হয়।
📄 ক্রোধের উদ্রেক না হওয়া একটি রোগ
মানুষের মধ্যে যদি ক্রোধ একেবারেই না থাকে, কেউ যতো কিছুই করুক না কেন তার ক্রোধের উদ্রেকই হয় না; এটাও একটা ব্যাধি। আল্লাহ তা'আলা মানুষকে এ উদ্দেশ্যে ক্রোধ দিয়েছেন, যেন মানুষ নিজের জানের, মানের ও দ্বীনের উপর থেকে আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। কেউ পিস্তল তাক করে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রাণ হরণ করতে চাচ্ছে এরপরও যদি কারো ক্রোধের উদ্রেক না হয়; তাহলেও এটাও একটা রোগ। নাউযুবিল্লাহ। কেউ রাসূলের শানে গোস্তাখি করছে, এক ব্যক্তির তখনও ক্রোধ আসছে না; তার অর্থ হলো, সে অসুস্থ। এমন ক্ষেত্রে ক্রোধ আসা উচিত ছিলো, কিন্তু আসছে না, তাহলে এটা একটা ব্যাধি।
📄 ক্রোধের মধ্যেও ভারসাম্য কাম্য
ক্রোধ যদি ভারসাম্যের সীমা অতিক্রম করে যায় তাহলে এটাও ব্যাধি। অন্যের অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষার জন্য যদি ক্রোধের উদ্রেক হয়, তাহলে এ পরিমাণ ক্রোধ তো ঠিক আছে। কিন্তু যদি প্রয়োজনের চেয়ে অধিক ক্রোধ হয়, যেমন একটা থাপ্পড় মারলেই কাজ হয়ে যেতো কিন্তু সে ক্রোধের শিকার হয়ে অবিরাম মেরেই চলছে তাহলে এই ক্রোধ সীমাতিরিক্ত ও গোনাহ। বিধায় ক্রোধ কম হলেও তা আধ্যাত্মিক ব্যাধি এবং বেশি হলেও আধ্যাত্মিক ব্যাধি। ক্রোধ সীমার মধ্যে থাকতে হবে। প্রয়োজনের সময় প্রয়োগ করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে প্রয়োগ করা যাবে না। বিনা প্রয়োজনে ক্রোধ সৃষ্টি হলেও তা প্রয়োগ করা যাবে না।