📄 সবরের হাকীকত
আল্লাহ তা'আলা সবর তথা ধৈর্য ধারণের হুকুম দিয়েছেন। অপ্রিয় কোনো অবস্থা দেখা দিলে মনে করবে যে এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এসেছে। যা কিছু হয়েছে আল্লাহর হিকমত অনুপাতেই হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা মতোই হয়েছে। আমার যতোই খারাপ লাগুক না কেন, এর মধ্যেই আল্লাহ তা'আলার মাসলাহাত রয়েছে। প্রত্যেক অপ্রিয় ঘটনার সময় মানুষ এ কথা চিন্তা করবে, অন্তরে এই অনুভূতি জাগ্রত করবে; একে সবর ও ধৈর্য বলে।
📄 আধ্যাত্মিক গুণ অর্জন করা ফরয
আল্লাহ তা'আলা এমন অনেক বিধান দিয়েছেন, যেগুলোর সম্পর্ক আমাদের রূহ ও আত্মার সঙ্গে। মনে রাখবেন! সবর করা তেমনি ফরয, যেমন ফরয নামায পড়া। শোকর করা তেমনি ফরয, যেমন ফরয রোযা রাখা। ইখলাস তেমনি ফরয, যেমন ফরয যাকাত দেওয়া। এগুলোও আমাদের উপর আল্লাহ প্রদত্ত ফরয।
📄 আধ্যাত্মিক ব্যাধিসমূহ হারাম
বাহ্যিক এবং দৈহিকভাবে অনেক কাজকে গোনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা, ঘুষ নেয়া, সুদ খাওয়া, মদ পান করা, ডাকাতি করা এসব গোনাহের কাজ। এগুলো আমাদের দেহের সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের অঙ্গ দ্বারা এ সব সংঘটিত হয়। এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা অনেক অভ্যন্তরীণ কাজকেও গোনাহ সাব্যস্ত করেছেন। যেমন অহংকার একটি অভ্যন্তরীণ ব্যাধি। যা হাত পা দ্বারা সম্পাদিত হয় না। এটা মানুষের আধ্যাত্মিক একটি রোগ। আল্লাহ তা'আলা একে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। মদ পান করা যেমন হারাম, সুদ খাওয়া যেমন হারাম এবং ব্যভিচার করা যেমন হারাম, এটাও ঠিক একই রকম হারাম। এমনিভাবে হিংসাও একটি অভ্যন্তরীণ রোগ। একেও আল্লাহ তা'আলা হারাম সাব্যস্ত করেছেন। এটাও তেমনি হারাম, যেমন পূর্বোল্লিখিত গোনাহসমূহ হারাম।
সারকথা এই যে, আল্লাহ তা'আলা মানুষের আত্মার সাথে সম্পৃক্ত কিছু বিধানও দিয়েছেন। কিছু গুণ অর্জন করার হুকুম দিয়েছেন। কিছু চরিত্র থেকে বাঁচার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা যে সমস্ত গুণ অর্জন করার হুকুম দিয়েছেন সেগুলো নিজের ভিতরে সৃষ্টি করলে এবং যে সমস্ত দোষ থেকে বাঁচার হুকুম দিয়েছেন সেগুলো থেকে নিজের অভ্যন্তরকে মুক্ত করলে তখন বলা হবে যে, তার আখলাক তথা নীতি-চরিত্র পরিশুদ্ধ হয়েছে। আখলাক এসমস্ত অভ্যন্তরীণ অবস্থা ও আত্মিক গুণের নাম, যেগুলোর উল্লেখ উপরে করা হয়েছে। যে সমস্ত ভালো গুণ অন্তরে সৃষ্টি করতে হবে সেগুলোকে 'আখলাকে ফাযেলা' বা উত্তম চরিত্র এবং যে সমস্ত খারাপ দোষ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে সেগুলোকে 'আখলাকে রাযীলা' বা মন্দ চরিত্র বলা হয়।
আশা করি এ বিষয়টি বুঝে এসেছে যে, আখলাকের অর্থ পরস্পরে ভালোভাবে কথা বলা বা হাসিমুখে মিলিত হওয়া নয়, বরং এটা তার একটি পরিণতি। যখন মানুষের আখলাক পরিশুদ্ধ হয় তখন অন্য সকলের সঙ্গে তার আচরণ উত্তম হয়। কিন্তু মৌলিকভাবে একে আখলাক বলা হয় না। আখলাকের হাকীকত হলো, মানুষের অভ্যন্তর পরিশুদ্ধ হওয়া, উত্তম গুণাবলী লাভ হওয়া, মন্দ চরিত্র দূর হওয়া এবং মানবাত্মাকে আল্লাহর হুকুম মোতাবেক ঢেলে সাজানো।
📄 ক্রোধের স্বরূপ
আখলাক পরিশুদ্ধ হয় কীভাবে? একটা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে বিষয়টি সহজে বুঝে আসবে। উদাহরণস্বরূপ, ক্রোধ মানুষের অভ্যন্তরীণ একটি চরিত্র, যা মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়। তারপর অনেক সময় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মানুষের হাত ও পায়ের মাধ্যমে আর অনেক সময় প্রকাশ পায় জিহ্বার মাধ্যমে। ক্রোধের সৃষ্টি হলে এবং মানুষ ক্রোধের কাছে পরাভূত হলে মুখমণ্ডল লাল হয়ে যায়, রগ টান টান হয়ে যায়, জিহ্বা নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে উলট-পালট বকতে আরম্ভ করে, হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে থাকে; এগুলো ক্রোধের পরিণতি। কিন্তু প্রকৃত ক্রোধ সেই অবস্থার নাম, যা মানুষের অন্তরে সৃষ্টি হয়। এই ক্রোধ অসংখ্য আধ্যাত্মিক রোগের মূল। এর কারণে অনেক গোনাহ সংঘটিত হয় এবং অনেক আধ্যাত্মিক ব্যাধির সৃষ্টি হয়।