📄 বিনয় আত্মার কাজ
আল্লাহ তা'আলা যেমন উপরোক্ত ইবাদতসমূহের সম্পর্ক করেছেন আমাদের দেহের সঙ্গে, তেমনি আমাদের রূহ ও আত্মার সাথে সম্পৃক্ত অনেকগুলো কাজকেও ফরয করেছেন। যেমন হুকুম দিয়েছেন যে, প্রত্যেক মানুষকে বিনয় অবলম্বন করতে হবে। বিনয় দেহের কাজ নয়, আত্মার কাজ। ভিতরের কাজ। আত্মার কাজ। আল্লাহ তা'আলা মানুষের অন্তরে এ গুণ অর্জন করার হুকুম দিয়েছেন।
অনেক অশিক্ষিত মানুষ কোনো মেহমান এলে তাকে আদর-যত্ন করা এবং খানা খাওয়ানোকে বিনয় মনে করে। বিনয়ের অর্থ এটা নয়। যারা শিক্ষিত মানুষ তারা অন্যের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করাকে মনে করে বিনয়। আবার কেউ কেউ মনে করে, মাথা নত করে এবং সীনা নোয়ায়ে যে মানুষ অন্যদের সঙ্গে মিলিত হয়, সে খুব বিনয়ী মানুষ। নরম মেযাজের মানুষ।
খুব ভালো করে বুঝুন যে, দেহের সঙ্গে বিনয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বিনয়ের সম্পর্ক তো হলো আত্মার সঙ্গে। নিজের মনে নিজেকে মূল্যহীন মনে করা, তুচ্ছ মনে করা, ক্ষমতাহীন মনে করা এবং নিজেকে অসহায় ও অক্ষম মনে করাকে বলা হয় বিনয়। আল্লাহ তা'আলা এরই নির্দেশ দিয়েছেন।
📄 ইখলাস আত্মার একটি অবস্থার নাম
আল্লাহ তা'আলা ইখলাসের হুকুম দিয়েছেন। নিজের মধ্যে ইখলাস পয়দা করবে। ইবাদতের মধ্যে ইখলাস পয়দা করবে। যে কোনো কাজ করবে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করবে, এটা হলো ইখলাস। মুখে প্রকাশ করলেই ইখলাস হয় না। ইখলাস তো আত্মার একটা অবস্থার নাম। একটা অভ্যন্তরীণ গুণ। আমাদেরকে এটা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
📄 শোকর আত্মার কাজ
আল্লাহ তা'আলা শোকরের হুকুম দিয়েছেন। যখন কোনো নেয়ামত লাভ হবে তখন আল্লাহর শোকর আদায় করবে। এই শোকরও আত্মার কাজ। হৃদয়ের কাজ। যতো বেশি শোকর আদায় করবে, রূহ ততো বেশি শক্তিশালী হবে।
📄 সবরের হাকীকত
আল্লাহ তা'আলা সবর তথা ধৈর্য ধারণের হুকুম দিয়েছেন। অপ্রিয় কোনো অবস্থা দেখা দিলে মনে করবে যে এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এসেছে। যা কিছু হয়েছে আল্লাহর হিকমত অনুপাতেই হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা মতোই হয়েছে। আমার যতোই খারাপ লাগুক না কেন, এর মধ্যেই আল্লাহ তা'আলার মাসলাহাত রয়েছে। প্রত্যেক অপ্রিয় ঘটনার সময় মানুষ এ কথা চিন্তা করবে, অন্তরে এই অনুভূতি জাগ্রত করবে; একে সবর ও ধৈর্য বলে।