📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আধ্যাত্মিক রোগসমূহ

📄 আধ্যাত্মিক রোগসমূহ


মানব দেহের যেমন অনেকগুলো গুণ রয়েছে, কখনো দেহ সুস্থ থাকে সুন্দর থাকে, শক্তিশালী থাকে, আবার কখনো দুর্বল, জীর্ণ, অসুস্থ ও অসুন্দর হয়ে যায়। তেমনিভাবে মানবাত্মারও কিছু গুণ রয়েছে। কখনো আত্মা শক্তিশালী থাকে আর কখনো দুর্বল হয়ে যায়। কখনো ভালো গুণের অধিকারী হয় আর কখনো খারাপ গুণের অধিকারী হয়। মানব দেহ যেমন রোগাক্রান্ত হয়- কখনো জ্বর হয়, কখনো পেট খারাপ হয়, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কখনো দাস্ত হয়; তেমনিভাবে মানবআত্মারও অনেক রোগ হয়ে থাকে। আত্মার রোগ কি? কখনো তার মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হয়, কখনো হিংসা প্রতিপালিত হয়, কখনো বিদ্বেষ জন্মায়, কখনো অকৃতজ্ঞতা সৃষ্টি হয়; এ সবই আত্মার ব্যাধি।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মার সৌন্দর্য

📄 আত্মার সৌন্দর্য


মানব দেহের যেমন সৌন্দর্য রয়েছে, মানুষ বলে তার চেহারা খুব সুন্দর, তার নয়নযুগল অপরূপ, তার দেহ অতিসুন্দর; তেমনই আত্মারও কিছু সৌন্দর্য রয়েছে, তারও কিছু রূপ রয়েছে। আত্মার সৌন্দর্য কি? আত্মার সৌন্দর্য হলো, মানুষের মধ্যে বিনয় থাকবে, সবর ও শোকর থাকবে, ইখলাস থাকবে এবং আত্মাশ্লাঘা থাকবে না, মানুষকে দেখানোর প্রবৃত্তি থাকবে না। এগুলো হলো আত্মার রূপ-সৌন্দর্য।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দৈহিক ইবাদত

📄 দৈহিক ইবাদত


আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এমন অনেকগুলো বিধান দিয়েছেন, যেগুলোর সম্পর্ক আমাদের বাহ্যিক দেহের সঙ্গে। যেমন নামায। নামায কিভাবে পড়া হয়? কখনো দাঁড়ায়, কখনো রূকু করে, কখনো সেজদা করে, কখনো সালাম ফেরায়; এসমস্ত কাজ দেহের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। রোযা কিভাবে রাখে? নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত ক্ষুৎ-পিপাসায় থাকে; এটাও দৈহিক একটা ইবাদত। সম্পদের নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ অভাবীদেরকে দেওয়া ফরয করা হয়েছে, যাকে যাকাত বলা হয়; এটাও হাত দ্বারা দেওয়া হয়। হজ্ব-ও একটি দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত। হজ্বের মধ্যে পরিশ্রম করতে হয়, সফর করতে হয়, বিশেষ বিশেষ রোকন পালন করতে হয়। এ সব কাজ শরীরের মাধ্যমে করা হয়। এজন্য এটাও একটি দৈহিক ইবাদত।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বিনয় আত্মার কাজ

📄 বিনয় আত্মার কাজ


আল্লাহ তা'আলা যেমন উপরোক্ত ইবাদতসমূহের সম্পর্ক করেছেন আমাদের দেহের সঙ্গে, তেমনি আমাদের রূহ ও আত্মার সাথে সম্পৃক্ত অনেকগুলো কাজকেও ফরয করেছেন। যেমন হুকুম দিয়েছেন যে, প্রত্যেক মানুষকে বিনয় অবলম্বন করতে হবে। বিনয় দেহের কাজ নয়, আত্মার কাজ। ভিতরের কাজ। আত্মার কাজ। আল্লাহ তা'আলা মানুষের অন্তরে এ গুণ অর্জন করার হুকুম দিয়েছেন।

অনেক অশিক্ষিত মানুষ কোনো মেহমান এলে তাকে আদর-যত্ন করা এবং খানা খাওয়ানোকে বিনয় মনে করে। বিনয়ের অর্থ এটা নয়। যারা শিক্ষিত মানুষ তারা অন্যের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করাকে মনে করে বিনয়। আবার কেউ কেউ মনে করে, মাথা নত করে এবং সীনা নোয়ায়ে যে মানুষ অন্যদের সঙ্গে মিলিত হয়, সে খুব বিনয়ী মানুষ। নরম মেযাজের মানুষ।

খুব ভালো করে বুঝুন যে, দেহের সঙ্গে বিনয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বিনয়ের সম্পর্ক তো হলো আত্মার সঙ্গে। নিজের মনে নিজেকে মূল্যহীন মনে করা, তুচ্ছ মনে করা, ক্ষমতাহীন মনে করা এবং নিজেকে অসহায় ও অক্ষম মনে করাকে বলা হয় বিনয়। আল্লাহ তা'আলা এরই নির্দেশ দিয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00