📄 দ্রুত দাফন করো
আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পূর্বে যে মানুষ অন্যদের প্রিয় ছিলো, সম্মানিত ছিলো, ভালোবাসার পাত্র ছিলো, জায়গা সম্পত্তির মালিক ছিলো, পরিবার-পরিজনের দেখা-শোনা করতো, বন্ধু-বান্ধবের আত্মাঙ্গ ছিলো, কিন্তু যেই তার দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে গেলো, সেই না জায়গা-সম্পত্তি তার থাকলো, না স্ত্রীর স্বামী থাকলো এবং না পরিবার-পরিজনের তত্ত্বাবধায়ক থাকলো। যেসব লোক তাকে মহব্বত করতো, ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখতো, নিজের কাছে রাখতে চাইতো, এখন তারা অতি দ্রুত তাকে দাফন করার চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত।
কেউ যদি বলে ভাই! লোক তো তোমাদের প্রিয় ছিলো তাকে ঘরে রেখে দাও, তাহলে কেউই এর জন্য প্রস্তুত হবে না। বেশির চেয়ে বেশি এক-দুই দিন রাখবে। এরচে' বেশি রাখলে বরফ ইত্যাদি লাগিয়ে হয়তো এক সপ্তাহ রাখবে। এর অধিক কেউ রাখবে না। এখন সকলেই তাকে দ্রুত সমাহিত করার চিন্তা করবে। যারা তাকে ভালোবাসতো, দিন-রাত তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতো, তার ইশারায় উঠতো বসতো, কিন্তু আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পর তারাই এখন তাকে সমাহিত করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। সন্তান নিজ হাতে পিতাকে কবরে রাখতে চায়। দ্রুত তাকে দাফন করতে চায়।
জনৈক ব্যক্তি ঘটনা শুনিয়েছে যে, একবার পত্রিকায় এসেছে, এক ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেছিলো। মরে গেছে মনে করে মানুষ তাকে দাফন করে। চেতনা ফিরে এলে সে কোনো উপায়ে কবর থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে আসে। দরজায় করাঘাত করলে বাপ ভিতর থেকে জিজ্ঞাসা করে, 'কে?' সে তার নাম বললে বাপ ঘর থেকে লাঠি নিয়ে বের হয়ে তাকে এই মনে করে আঘাত করতে থাকে যে, তার ভূত কোথেকে এলো? বেচারা আগে তো মরেনি। এবার লাঠির আঘাতে সে মরে গেলো।
এই বিরাট বিপ্লব কি করে ঘটলো যে, পুরো দেহ আগের মতো থাকা সত্ত্বেও কেউ তাকে ঘরে রাখতে প্রস্তুত নয়। পার্থক্য তো এই হয়েছে যে, তার দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে গেছে। বোঝা গেলো, মানব দেহের মধ্যে আসল জিনিস হলো তার রূহ। দেহে রূহ বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত মানুষ মানুষ থাকে। রূহ বের হয়ে গেলে সে আর মানুষ থাকে না। লাশ হয়ে যায়। তার সাথে কারো সম্পর্ক থাকে না। সবাই দ্রুত তাকে কবরস্ত করার চিন্তায় থাকে।
📄 আধ্যাত্মিক রোগসমূহ
মানব দেহের যেমন অনেকগুলো গুণ রয়েছে, কখনো দেহ সুস্থ থাকে সুন্দর থাকে, শক্তিশালী থাকে, আবার কখনো দুর্বল, জীর্ণ, অসুস্থ ও অসুন্দর হয়ে যায়। তেমনিভাবে মানবাত্মারও কিছু গুণ রয়েছে। কখনো আত্মা শক্তিশালী থাকে আর কখনো দুর্বল হয়ে যায়। কখনো ভালো গুণের অধিকারী হয় আর কখনো খারাপ গুণের অধিকারী হয়। মানব দেহ যেমন রোগাক্রান্ত হয়- কখনো জ্বর হয়, কখনো পেট খারাপ হয়, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কখনো দাস্ত হয়; তেমনিভাবে মানবআত্মারও অনেক রোগ হয়ে থাকে। আত্মার রোগ কি? কখনো তার মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হয়, কখনো হিংসা প্রতিপালিত হয়, কখনো বিদ্বেষ জন্মায়, কখনো অকৃতজ্ঞতা সৃষ্টি হয়; এ সবই আত্মার ব্যাধি।
📄 আত্মার সৌন্দর্য
মানব দেহের যেমন সৌন্দর্য রয়েছে, মানুষ বলে তার চেহারা খুব সুন্দর, তার নয়নযুগল অপরূপ, তার দেহ অতিসুন্দর; তেমনই আত্মারও কিছু সৌন্দর্য রয়েছে, তারও কিছু রূপ রয়েছে। আত্মার সৌন্দর্য কি? আত্মার সৌন্দর্য হলো, মানুষের মধ্যে বিনয় থাকবে, সবর ও শোকর থাকবে, ইখলাস থাকবে এবং আত্মাশ্লাঘা থাকবে না, মানুষকে দেখানোর প্রবৃত্তি থাকবে না। এগুলো হলো আত্মার রূপ-সৌন্দর্য।
📄 দৈহিক ইবাদত
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এমন অনেকগুলো বিধান দিয়েছেন, যেগুলোর সম্পর্ক আমাদের বাহ্যিক দেহের সঙ্গে। যেমন নামায। নামায কিভাবে পড়া হয়? কখনো দাঁড়ায়, কখনো রূকু করে, কখনো সেজদা করে, কখনো সালাম ফেরায়; এসমস্ত কাজ দেহের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। রোযা কিভাবে রাখে? নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত ক্ষুৎ-পিপাসায় থাকে; এটাও দৈহিক একটা ইবাদত। সম্পদের নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ অভাবীদেরকে দেওয়া ফরয করা হয়েছে, যাকে যাকাত বলা হয়; এটাও হাত দ্বারা দেওয়া হয়। হজ্ব-ও একটি দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত। হজ্বের মধ্যে পরিশ্রম করতে হয়, সফর করতে হয়, বিশেষ বিশেষ রোকন পালন করতে হয়। এ সব কাজ শরীরের মাধ্যমে করা হয়। এজন্য এটাও একটি দৈহিক ইবাদত।