📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ‘আখলাকে’র স্বরূপ ও গুরুত্ব

📄 ‘আখলাকে’র স্বরূপ ও গুরুত্ব


সাধারণত সমাজে আখলাক বলা হয় হাসিমুখে কারো সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং নরমভাবে কথা বলাকে। কেউ এরূপ করলে তার সম্পর্কে বলা হয় যে, সে খুব সদাচারী। তার আখলাক খুব ভালো। কিন্তু যেই আখলাকের কথা আমি বলছি এবং দ্বীন ও শরীয়ত আমাদের থেকে যেই আখলাক দাবী করে তার অর্থ ও তাৎপর্য অনেক বিস্তৃত। শুধু মানুষের সাথে হাসিমুখে দেখা করা আখলাক নয়, এটা আখলাকের একটা পরিণতি। মূলত আখলাক হলো মানুষের আত্মা ও আত্মার একটি গুণ। মানুষের অভ্যন্তরে নানা ধরনের আবেগ, চিন্তা ও কামনা-বাসনা প্রবৃদ্ধি লাভ করে। এগুলোকে আখলাক বলে। এগুলোকে পরিশুদ্ধ করার ব্যাপারে শরীয়তে অনেক জোর দেওয়া হয়েছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মার গুরুত্ব

📄 আত্মার গুরুত্ব


বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্যে মানুষ কাকে বলে তা জানা জরুরী। মানুষ দেহ ও আত্মার সমন্বয়ের নাম। শুধু দেহের নাম মানুষ নয়, বরং আত্মাবিশিষ্ট দেহের নাম মানুষ। ধরুন, এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে। তাতে তার বাহ্যিক দেহের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে? চোখ, নাক, কান, জিহ্বা যথাপূর্ব রয়েছে। মুখমণ্ডল পূর্বের ন্যায় রয়েছে। হাত-পা পূর্বের ন্যায় রয়েছে। সারা দেহ যেমন ছিলো, তেমনই রয়েছে। কিন্তু কি পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে? পার্থক্য এই সৃষ্টি হয়েছে যে, পূর্বে এই দেহের মধ্যে আত্মা ছিলো। এখন তা বের হয়ে গেছে। আত্মা বের হয়ে যাওয়ার ফলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। লাশে পরিণত হয়ে যায়। জড়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দ্রুত দাফন করো

📄 দ্রুত দাফন করো


আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পূর্বে যে মানুষ অন্যদের প্রিয় ছিলো, সম্মানিত ছিলো, ভালোবাসার পাত্র ছিলো, জায়গা সম্পত্তির মালিক ছিলো, পরিবার-পরিজনের দেখা-শোনা করতো, বন্ধু-বান্ধবের আত্মাঙ্গ ছিলো, কিন্তু যেই তার দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে গেলো, সেই না জায়গা-সম্পত্তি তার থাকলো, না স্ত্রীর স্বামী থাকলো এবং না পরিবার-পরিজনের তত্ত্বাবধায়ক থাকলো। যেসব লোক তাকে মহব্বত করতো, ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখতো, নিজের কাছে রাখতে চাইতো, এখন তারা অতি দ্রুত তাকে দাফন করার চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত।

কেউ যদি বলে ভাই! লোক তো তোমাদের প্রিয় ছিলো তাকে ঘরে রেখে দাও, তাহলে কেউই এর জন্য প্রস্তুত হবে না। বেশির চেয়ে বেশি এক-দুই দিন রাখবে। এরচে' বেশি রাখলে বরফ ইত্যাদি লাগিয়ে হয়তো এক সপ্তাহ রাখবে। এর অধিক কেউ রাখবে না। এখন সকলেই তাকে দ্রুত সমাহিত করার চিন্তা করবে। যারা তাকে ভালোবাসতো, দিন-রাত তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতো, তার ইশারায় উঠতো বসতো, কিন্তু আত্মা বের হয়ে যাওয়ার পর তারাই এখন তাকে সমাহিত করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। সন্তান নিজ হাতে পিতাকে কবরে রাখতে চায়। দ্রুত তাকে দাফন করতে চায়।

জনৈক ব্যক্তি ঘটনা শুনিয়েছে যে, একবার পত্রিকায় এসেছে, এক ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেছিলো। মরে গেছে মনে করে মানুষ তাকে দাফন করে। চেতনা ফিরে এলে সে কোনো উপায়ে কবর থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে আসে। দরজায় করাঘাত করলে বাপ ভিতর থেকে জিজ্ঞাসা করে, 'কে?' সে তার নাম বললে বাপ ঘর থেকে লাঠি নিয়ে বের হয়ে তাকে এই মনে করে আঘাত করতে থাকে যে, তার ভূত কোথেকে এলো? বেচারা আগে তো মরেনি। এবার লাঠির আঘাতে সে মরে গেলো।

এই বিরাট বিপ্লব কি করে ঘটলো যে, পুরো দেহ আগের মতো থাকা সত্ত্বেও কেউ তাকে ঘরে রাখতে প্রস্তুত নয়। পার্থক্য তো এই হয়েছে যে, তার দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে গেছে। বোঝা গেলো, মানব দেহের মধ্যে আসল জিনিস হলো তার রূহ। দেহে রূহ বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত মানুষ মানুষ থাকে। রূহ বের হয়ে গেলে সে আর মানুষ থাকে না। লাশ হয়ে যায়। তার সাথে কারো সম্পর্ক থাকে না। সবাই দ্রুত তাকে কবরস্ত করার চিন্তায় থাকে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আধ্যাত্মিক রোগসমূহ

📄 আধ্যাত্মিক রোগসমূহ


মানব দেহের যেমন অনেকগুলো গুণ রয়েছে, কখনো দেহ সুস্থ থাকে সুন্দর থাকে, শক্তিশালী থাকে, আবার কখনো দুর্বল, জীর্ণ, অসুস্থ ও অসুন্দর হয়ে যায়। তেমনিভাবে মানবাত্মারও কিছু গুণ রয়েছে। কখনো আত্মা শক্তিশালী থাকে আর কখনো দুর্বল হয়ে যায়। কখনো ভালো গুণের অধিকারী হয় আর কখনো খারাপ গুণের অধিকারী হয়। মানব দেহ যেমন রোগাক্রান্ত হয়- কখনো জ্বর হয়, কখনো পেট খারাপ হয়, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কখনো দাস্ত হয়; তেমনিভাবে মানবআত্মারও অনেক রোগ হয়ে থাকে। আত্মার রোগ কি? কখনো তার মধ্যে অহংকার সৃষ্টি হয়, কখনো হিংসা প্রতিপালিত হয়, কখনো বিদ্বেষ জন্মায়, কখনো অকৃতজ্ঞতা সৃষ্টি হয়; এ সবই আত্মার ব্যাধি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00