📄 আমি তো রাত-দিন আত্মহারা হয়ে থাকতে চাই
গালেবের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে। আল্লাহ ভালো জানেন, মানুষ এর কী অর্থ গ্রহণ করে থাকে। আমাদের হযরত তো এর খুব চমৎকার অর্থ বের করেছেন। কবিতাটি হলো,
سے غرض نشاط ہے کس روسیاہ کو
اک گونہ بے خودی دن رات چاہئے
'মদের স্বাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো মদ পান করে রাত-দিন আত্মহারা হয়ে থাকতে চাই'
তোমরা আমাকে মদে অভ্যস্থ করেছো, আর তাতে আমি আত্মহারা হতে পেরেছি। মদের স্বাদ উপলব্ধি হচ্ছে। যদি তোমরা আমাকে আল্লাহর স্মরণ, তাঁর যিকির ও তাঁর আনুগত্যে অভ্যস্থ বানাতে, তাহলে আমি আল্লাহর যিকিরে আত্মহারা হওয়ার স্বাদ লাভ করতাম এবং তাতেই আনন্দ বোধ করতাম। এটা তোমাদেরই ভুল যে, তোমরা আমাকে এগুলোর পরিবর্তে মদে অভ্যস্থ করেছো。
📄 নফসকে নিষ্পেষিত করতে ভালো লাগবে
এমনিভাবে মুজাহাদা ও সাধনা প্রথমে তো খুব মুশকিল মনে হয় যে, বড়ো কঠিন সবক দেওয়া হচ্ছে। নফসের বিরোধিতা করো, নফসের কামনা-বাসনার বিরুদ্ধাচরণ করো। নফস গীবত করতে চাচ্ছে, মজলিসের মধ্যে গীবত চলছেও। তাতে অংশ নিতে খুব মন চাচ্ছে। তখন তাকে সংযত করা যে, এ কাজ কোরো না, এটা খুব কষ্টসাধ্য মনে হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, দূর থেকেই এটা কষ্টকর মনে হয়। মানুষ যখন পোক্ত সংকল্প করে যে, এ কাজ করবো না, তখন আল্লাহ তা'আলার দয়া ও অনুগ্রহে সাহায্যও লাভ হয়। তুমি যে এই স্বাদ ও কামনা-বাসনাকে নিষ্পেষিত করলে, এতে যে স্বাদ লাভ হবে, ইনশা আল্লাহ, ছুম্মা ইনশা আল্লাহ, এর স্বাদ গীবতের স্বাদের চেয়ে অনেক বেশি হবে।
📄 ঈমানের মধুরতা লাভ করুন
এক ব্যক্তির অন্তরে কুদৃষ্টি করার চাহিদা পয়দা হলো- আর এমন কে আছে যার অন্তরে এ চাহিদা সৃষ্টি হয় না?- মনের মধ্যে খুব ছটফট করছে, তাকে দেখবোই। কিন্তু আপনি আল্লাহ তা'আলার ভয়ে নজরের হেফাজত করলেন, কুদৃষ্টি দিলেন না। খুব কষ্ট হলো। আত্মা চৌচির হলো। এই কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ ৩. আলা ঈমানের এমন মধুরতা দান করবেন যে, তার তুলনায় কুদৃষ্টির স্বাদ তুচ্ছ। এটা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াদা, যা হাদীস শরীফে বিদ্যমান রয়েছে।'
এই ওয়াদা শুধুমাত্র কুদৃষ্টির গোনাহের সাথে নির্ধারিত নয়, বরং যাবতীয় গোনাহ ছাড়ার ব্যাপারেই এই ওয়াদা রয়েছে। যেমন গীবত করতে খুব মজা লাগছে। কিন্তু একবার আপনি মহান আল্লাহর কথা স্মরণ করে গীবত করতে করতে থেমে গেলেন, আল্লাহর ভয়ে গীবতের শব্দ মুখে আসতে আসতে সংযম অবলম্বন করলেন, তখন দেখবেন কেমন স্বাদ উপভোগ হয়। মানুষ যখন গোনাহের স্বাদের পরিবর্তে এই স্বাদে অভ্যস্ত হতে থাকে, তখন আল্লাহ তা'আলার মহব্বত এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়。
টিকাঃ
১. মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৬৪
📄 তাসাউফের সারকথা
হযরত হাকীমুল উম্মত (কু.সি.) বড়ো চমৎকার কথা বলেছেন, যা সবার মনে রাখার মতো। তিনি বলেন,
'যেই সামান্য বিষয় তাসাওউফের সার, তা হলো, আল্লাহর কোনো হুকুম পালনে যখন অলসতা লাগে, যেমন, নামাযের সময় হয়েছে, কিন্তু নামাযে যেতে অলসতা লাগছে, তখন অলসতার মোকাবেলা করে ঐ হুকুমটি পালন করবে। আর যখন কোনো গোনাহ থেকে আত্মরক্ষা করতে অলসতা লাগে, তখন ঐ অলসতার মোকাবেলা করে ঐ গোনাহ থেকে বেঁচে থাকবে।'
তারপর হযরত থানভী রহ. বলেন,
'ব্যস! এর দ্বারাই তা'আল্লুক মা'আল্লাহ সৃষ্টি হয় এবং এর দ্বারাই তা'আল্লুক মা'আল্লাহতে উন্নতি ঘটে। যার এই গুণ লাভ হলো, তার আর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই।'
প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার উপর করাত চালিয়ে এবং হাতুড়ি মেরে যখন তাকে পিষে ফেলবে, তখন তা আল্লাহ তা'আলার তাজাল্লীর ক্ষেত্রে পরিণত হবে।