📄 মাওলার মহব্বত যেন লাইলির মহব্বত থেকে কম না হয়
মাওলানা রূমী রহ. মসনবী শরীফে মহব্বত সংক্রান্ত বিস্ময়কর সব ঘটনা লিখেছেন। লাইলি-মজনুর ঘটনা লিখেছেন যে, মজনু লাইলির জন্য কীভাবে পাগল হলো। দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা ভোগ করলো। দুধের নহর প্রবাহিত করার সংকল্প নিয়ে বের হলো। কেউ যদি তাকে বলে, তুমি অনেক কষ্টের কাজ করছো, এটা বাদ দাও। উত্তরে সে বলে, যার খাতিরে এসব কাজ করছি, যার ভালোবাসায় এসব কষ্ট স্বীকার করছি, তার জন্য হাজার কষ্ট-ক্লেশ নিবেদিত। আমার তো নহর খুদতেই ভালো লাগছে। কারণ, আমার প্রিয়ার জন্য আমি এ কাজ করছি। মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
عشق مولی کے کم از لیلی بود
گوئے گشتن بهر او اولی بود
'মাওলার প্রকৃত প্রেম লাইলির প্রেমের চেয়ে কি করে কম হতে পারে? মাওলার প্রেমে বলি হওয়া অধিকতর উত্তম।'
ভালোবাসার খাতিরে মানুষ যখন কষ্ট করে, তখন তাতে বড়ো স্বাদ উপলব্ধি হয়।
📄 বেতন-ভাতার ভালোবাসা
একজন মানুষ চাকরি করে। ভোর-বিহানে উঠতে হয়। তীব্র শীতের মধ্যে গরম বিছানায় শুয়ে আছে। অফিসে যাওয়ার সময় হয়েছে। বিছানা ছেড়ে সে চলে যায়। মন চায় গরম বিছানায় পড়ে থাকি। কিন্তু ঘর-বাড়ি ছেড়ে, পরিবার-পরিজন ছেড়ে অফিসে চলে যায়। সারাদিন কষ্ট করে অনেক রাতে ঘরে ফেরে। এমন অসংখ্য মানুষ আছে যারা ভোরে নিজের সন্তানদেরকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে যায় এবং রাতে ফিরে এসে ঘুমন্ত অবস্থায় পায়। এ ব্যক্তি চাকুরির খাতিরে এতো কষ্ট করছে। এখন যদি কেউ তাকে বলে যে, আরে ভাই! চাকরি করতে গিয়ে তো তোমাকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। আসো আমি তোমাকে চাকরিমুক্ত করে দেই। সে উত্তর দিবে, না ভাই, না! অনেক কষ্টে এ চাকরি লাভ হয়েছে। এটা মুক্ত করো না। ভোর-বিহানে উঠে যাওয়ার মধ্যেই সে মজা পাচ্ছে। পরিবার-পরিজন ছেড়ে যাওয়ার মধ্যেই সে মজা পাচ্ছে। কেন? কারণ, মাসের শেষে সে যেই বেতন পায়, তার ভালোবাসায় এসব কষ্ট সুস্বাদু হয়ে গেছে। কোনো সময় চাকরি চলে গেলে সে কাঁদতে থাকে। হায়! ঐ দিন কোথায় গেলো, যখন কাক ডাকা ভোরে উঠে যেতাম? বিভিন্ন জনকে ধরে ধরে সুপারিশ করায় যে, আমাকে চাকরিতে পুনরায় বহাল করা হোক। কোনো জিনিসের ভালোবাসা অন্তরে গেঁথে গেলে সে পথের সব কষ্ট সহজ ও সুস্বাদু হয়ে যায় এবং তাতেই আনন্দ বোধ হয়।
এমনিভাবে گোনাহ ছাড়তে অবশ্যই কষ্ট রয়েছে। প্রথম প্রথম কষ্ট হবে। কিন্তু একবার যখন অবিচল সংকল্প করবে এবং সে মতে আমল আরম্ভ করবে, তখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সাহায্যও করা হবে। তখন ইনশা আল্লাহ এই কষ্টে স্বাদ অনুভব হবে এবং আল্লাহর হুকুম মানতে মজা লাগবে।
📄 নফসকে ইবাদতের স্বাদে পরিচিত করুন
আমাদের হযরত ডা. আবদুল হাই ছাহেব (কু.সি.) একবার বিস্ময়কর এক কথা বলেন। মানুষের নফস স্বাদ চায়। স্বাদ ও ভোগ-বিলাসিতা নফসের খাদ্য। কিন্তু স্বাদের নির্দিষ্ট কোনো রূপ তার কাম্য নয় যে, এ ধরনের স্বাদ চাই, আর এ ধরনের স্বাদ চাই না। তার কেবল স্বাদ চাই। এখন তোমরা তাকে খারাপ স্বাদে অভ্যস্ত করেছো, খারাপ ভোগ-উপভোগে অভ্যস্ত করেছে। একবার তাকে আল্লাহ তা'আলার ইবাদত ও ইতাআতের স্বাদে পরিচিত করো। আল্লাহ তা'আলার হুকুম অনুপাতে জীবন যাপনের স্বাদে অভ্যস্ত করো। তাহলে এই নফস্ তাতেই মজা ও স্বাদ উপভোগ করতে থাকবে।
📄 আমি তো রাত-দিন আত্মহারা হয়ে থাকতে চাই
গালেবের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে। আল্লাহ ভালো জানেন, মানুষ এর কী অর্থ গ্রহণ করে থাকে। আমাদের হযরত তো এর খুব চমৎকার অর্থ বের করেছেন। কবিতাটি হলো,
سے غرض نشاط ہے کس روسیاہ کو
اک گونہ بے خودی دن رات چاہئے
'মদের স্বাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো মদ পান করে রাত-দিন আত্মহারা হয়ে থাকতে চাই'
তোমরা আমাকে মদে অভ্যস্থ করেছো, আর তাতে আমি আত্মহারা হতে পেরেছি। মদের স্বাদ উপলব্ধি হচ্ছে। যদি তোমরা আমাকে আল্লাহর স্মরণ, তাঁর যিকির ও তাঁর আনুগত্যে অভ্যস্থ বানাতে, তাহলে আমি আল্লাহর যিকিরে আত্মহারা হওয়ার স্বাদ লাভ করতাম এবং তাতেই আনন্দ বোধ করতাম। এটা তোমাদেরই ভুল যে, তোমরা আমাকে এগুলোর পরিবর্তে মদে অভ্যস্থ করেছো。