📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহর ওয়াদা মিথ্যা হতে পারে না

📄 আল্লাহর ওয়াদা মিথ্যা হতে পারে না


একই সাথে আল্লাহ তা'আলা এ ওয়াদাও করেছেন-
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
'যেসব লোক আমার জন্য চেষ্টা করে আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পৌছাবো।'
যে সব লোক আমার পথে মেহনত-মুজাহাদা করে, পরিবেশ, সমাজ, প্রবৃত্তি, শয়তান ও কামনা-বাসনার চাহিদা ত্যাগ করে আমার বিধান মতো চলতে চায় তাদেরকে
لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
'আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পৌছাবো।'
হযরত থানভী রহ.-এর তরজমা করেছেন- 'আমি তাদের হাত ধরে নিয়ে যাবো।' এমন নয় যে, দূর থেকে দেখিয়ে দিলো 'এটা পথ'। বরং বলেছেন- আমি তাদের হাত ধরে নিয়ে যাবো। কিন্তু পা তো একটু বাড়াতে হবে। ইচ্ছা তো করতে হবে। প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে একটু শক্ত অবস্থান তো নিতে হবে। তাহলে আল্লাহ তা'আলার সাহায্য আসবে। এটা আল্লাহ তা'আলার ওয়াদা, যা কখনো মিথ্যা হতে পারে না।
মুজাহাদা এরই নাম যে, একবার দৃঢ় সংকল্প করবে- এ কাজ আমি করবো না। আত্মা চৌচির হবে, কামনা-বাসনা পদদলিত হবে, মন-মগজে প্রলয় ঘটবে, কিন্তু গোনাহের এ কাজ আমি করবো না। যেদিন প্রবৃত্তির সামনে অটল হয়ে দাঁড়ালো আল্লাহ তা'আলা বলেন সেদিন থেকে আমার প্রিয় হয়ে গেলো। এখন আমি নিজে তার হাত ধরে আমার পথে নিয়ে যাবো。

টিকাঃ
১. সূরা আনকাবুত ৬৯
২. সূরা আনকাবুত ৬৯

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এখন তো এ আত্মাকে তোমার উপযুক্ত বানাতেই হবে

📄 এখন তো এ আত্মাকে তোমার উপযুক্ত বানাতেই হবে


এজন্য ইসলাহের পথে সর্বপ্রথম পদক্ষেপ হলো 'মুজাহাদা'। মুজাহাদা করার সংকল্প করতে হবে। আমাদের হযরত ডা. আব্দুল হাই ছাহেব রহ. এই শের পাঠ করতেন,
আرزুওঁ খূন হোঁউ য়া হাসরাতিঁ পায়মাল হোঁউ।
আব তো উস দিল কো বানানা হ্যায় তেরে কাবিল মুঝে।
'অন্তরে যেসব বাসনা জাগছে তা ধ্বংস হোক, তা খুন হোক, কিন্তু আমি তো এখন সংকল্প করেছি আমার এ আত্মাকে তোমার উপযুক্ত বানাতেই হবে।'
এখন এ অন্তরে মহান আল্লাহর নূর অবতীর্ণ হবে। আল্লাহর ভালোবাসা অন্তরে বদ্ধমূল হবে। এখন আর এসব গোনাহ হবে না। তাহলে দেখবে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কী পরিমাণ রহমত অবতীর্ণ হয় এবং মানুষ এ পথে অগ্রসর হয়।
মনে রাখবেন! প্রথম প্রথম এ কাজ করতে খুব কষ্ট হবে। মন কিছু একটা চাচ্ছে আল্লাহর খাতিরে তা ত্যাগ করতে খুব কষ্ট হবে। কিন্তু পরবর্তীতে এ কষ্টের মধ্যেই স্বাদ উপলব্ধি হয়, মজা লাগে। যখন এ চিন্তা জাগে যে, আমি প্রবৃত্তিকে নিষ্পেষিত করছি, কামনা-বাসনাকে খুন করছি, আর তা করছি আমার মালিক ও খালিক আল্লাহর জন্য; এর মধ্যে যে স্বাদ আর মজা রয়েছে, আপনি এখন তা চিন্তাও করতে পারবেন না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এ কষ্ট মা কেন সহ্য করে?

📄 এ কষ্ট মা কেন সহ্য করে?


মায়ের প্রতি লক্ষ্য করুন! প্রচণ্ড শীতের সময় রাতের বেলায় লেপ গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে। পাশে শুয়ে আছে শিশু সন্তান। এমতাবস্থায় শিশুটি পেশাব করলো, তখন মন চায় যে, এই গরম বিছানা ছেড়ে কোথাও যাবো না। প্রচণ্ড শীতের মৌসুম। গরম বিছানা ছেড়ে যাওয়া বড়ো মুশকিল। কিন্তু মা চিন্তা করে যে, আমি যদি না যাই তাহলে বাচ্চা ভেজা কাপড়ের মধ্যে পড়ে থাকবে, ফলে তার জ্বর হতে পারে, স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। সে বেচারী মনের চাহিদার বিরুদ্ধে তীব্র শীতের মধ্যে বাইরে গিয়ে ঠাণ্ডা পানি দ্বারা তার কাপড় ধুচ্ছে, তার কাপড় পরিবর্তন করে দিচ্ছে। এটা সামান্য কোনো কষ্ট নয়। কিন্তু মা এই কষ্ট সহ্য করছে। কেন করছে? কারণ তার শিশুর সুস্থতা ও আরাম তার দৃষ্টিতে রয়েছে। যার ফলে সে প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও নফসের চাহিদাকে পদদলিত করে এসব কাজ করছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ভালোবাসা কষ্টকে বিলুপ্ত করে দেয়

📄 ভালোবাসা কষ্টকে বিলুপ্ত করে দেয়


যে মহিলার কোনো সন্তান নেই। সে বলে ভাই আমার চিকিৎসা করাও যাতে সন্তান হয়। এর জন্য দুআ করাতে থাকে। মানুষের কাছে আবেদন করে, আল্লাহর কাছে দু'আ করো আমাকে যেন তিনি সন্তান দান করেন। তার জন্য তাবিজ-কবজ আরো কতো কিছু করে থাকে। অন্য এক মহিলা যদি তাকে বলে যে, আরে তুমি কোন ধান্ধায় পড়ে আছো? সন্তান হলে তো অনেক কষ্ট করতে হবে। শীতের রাতে উঠে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে কাপড় ধুতে হবে। তখন মহিলা উত্তর দেয়, আমার এক সন্তানের জন্য হাজার শীতের রাত কতাওবান। কারণ এ সন্তানের মূল্য ও তার গুরুত্বের অনুভূতি তার অন্ত রে রয়েছে। এ কারণে ঐ মায়ের জন্য সব কষ্ট শান্তিতে পরিণত হয়েছে। মা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে যে, হে আল্লাহ! আমাকে সন্তান দিন, এর অর্থ তো এই যে, সন্তানের যতো দায়িত্ব রয়েছে, যতো কষ্ট রয়েছে তা আমাকে দান করুন। কিন্তু সে সব কষ্ট তার দৃষ্টিতে কোনো কষ্টই নয়, বরং তা শান্তি।
যে মা শীতের রাতে উঠে কাপড় ধুচ্ছে, সহজাতভাবে তার অবশ্যই কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সে প্রশান্তি লাভ করছে। সে চিন্তা করছে যে, আমি আমার সন্তানের মঙ্গলের জন্য এসব করছি। অন্তরে এ প্রশান্তি যখন জাগে তখন নিজের কামনা-বাসনা নিষ্পেষিত করতেও স্বাদ উপভোগ হয়। এ বিষয়টিই মাওলানা রূমী রহ. এভাবে উপস্থাপন করেছেন,
از محبت تلمها شیریں شود
অর্থাৎ, ভালোবাসা সৃষ্টি হলে প্রচণ্ড তিতা জিনিসও মিষ্টি মনে হয়। যে সব কাজ ছিলো কষ্টের, ভালোবাসার সুবাদে তার মধ্যে স্বাদ উপভোগ হতে আরম্ভ করে। তার মধ্যে মজা চলে আসে যে, ভালোবাসার খাতিরে আমি এসব কাজ করছি。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00