📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এ পিপাসা নিবারিত হওয়ার নয়

📄 এ পিপাসা নিবারিত হওয়ার নয়


আপনারা 'গো-ক্ষুধা' নামে এক ব্যাধির কথা শুনেছেন। সেই ব্যাধির বৈশিষ্ট্য হলো, তাতে কেবলই ক্ষুধা লেগে থাকে। যা মন চায় খাও, যতো মন চায় খাও, কিন্তু ক্ষুধা মেটে না। এমন আরেকটি ব্যাধি রয়েছে যাকে 'ইসতিসকা' বলে। এ রোগে মানুষের কেবলই পিপাসা লেগে থাকে। কলসের পর কলস পান করলেও এমনকি কুপের সব পানি পান করলেও পিপাসা নিবারিত হয় না। মানুষের কামনা-বাসনার অবস্থাও একই। তা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, আয়ত্তে রাখা না হয়, শরীয়ত ও নীতি চরিত্রের বন্ধনে আবদ্ধ রাখা না হয় তাহলে 'ইসতিসকা' রোগীর ন্যায় ভোগ-উপভোগের কোনো পর্যায়ে গিয়েই স্থিরতা লাভ হয় না। এ কামনা শুধু বৃদ্ধিই পেতে থাকে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সামান্য কষ্ট সহ্য করুন

📄 সামান্য কষ্ট সহ্য করুন


এ কারণে আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, প্রবৃত্তির কামনার অনুগামী হয়ো না, তার পিছনে পড়ো না। কারণ, তা তোমাকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করবে। তাকে সামান্য নিয়ন্ত্রণে রাখো, তাকে শরীয়তের যৌক্তিক সীমার মধ্যে রাখো। তাকে সীমার মধ্যে রাখতে গেলে প্রথম প্রথম প্রবৃত্তি তোমাকে কষ্ট দিবে, উত্ত্যক্ত করবে, ব্যথা হবে, বেদনা হবে। একটি কাজ করতে মনে চাহিদা জাগছে কিন্তু আপনি তাকে থামিয়ে রাখছেন। উদাহরণস্বরূপ, মন চাচ্ছে টিভি দেখবে, টিভির খারাপ খারাপ ফিল্ম দেখবে। এখন যে ব্যক্তি এতে অভ্যস্থ তাকে যদি বলা হয় যে, এটা দেখো না, প্রবৃত্তির এ চাহিদা অনুপাতে কাজ করো না। এখন সে যদি তা না দেখে চোখকে নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে প্রথম প্রথম তার কষ্ট হবে, খারাপ লাগবে। কারণ সে দেখতে অভ্যস্থ। না দেখলে শান্তি পায় না, মজা পায় না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 প্রবৃত্তি দুর্বলের জন্য সিংহের ন্যায়

📄 প্রবৃত্তি দুর্বলের জন্য সিংহের ন্যায়


আল্লাহ তা'আলা প্রবৃত্তির মধ্যে এ বৈশিষ্ট্যও রেখেছেন যে, কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি যদি একবার দৃঢ়তা দেখায় যে, যতো কষ্টই হোক, আত্মা ফেটে চৌচির হোক তবুও এ কাজ আমি করবো না, তাহলে প্রবৃত্তির চাহিদা আপনা-আপনি শিথিল হতে আরম্ভ করবে। নফস ও শয়তান দুর্বলের জন্য সিংহের মতো সবল। যে ব্যক্তি তার সামনে ভেজা বিড়াল হয়ে থাকবে, তার চাহিদা অনুপাতে চলবে, প্রবৃত্তি তার উপর প্রবল হবে এবং আধিপত্য বিস্তার করবে। আর যে ব্যক্তি একবার পোক্ত সংকল্প করে তার সামনে অটল হয়ে দাঁড়াবে এবং সিদ্ধান্ত নিবে যে, যতো চাহিদাই সৃষ্টি হোক, আত্মা যতো ক্লীষ্টই হোক, এ কাজ করবো না, তখন প্রবৃত্তি নরম হয়ে যাবে। এ কাজ না করার ফলে প্রথম দিন যে পরিমাণ কষ্ট হয়েছিলো, দ্বিতীয় দিন তার চেয়ে কম কষ্ট হবে, তৃতীয় দিন আরো কম কষ্ট হবে। ক্রমান্বয়ে একদিন এ কষ্ট মোটেই থাকবে না। প্রবৃত্তি এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 প্রবৃত্তি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ন্যায়

📄 প্রবৃত্তি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ন্যায়


আল্লামা বুসীরী রহ. অনেক বড়ো বুযুর্গ ছিলেন। তাঁর রচিত 'কাসীদায়ে বুরদাহ' অত্যধিক প্রসিদ্ধ। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে প্রশস্তিমূলক একটি কাসিদা। তাতে তিনি বিরল বিস্ময়কর এক প্রজ্ঞাপূর্ণ শের বলেছেন,
النَّفْسُ كَالطِفْلِ إِنْ تُهْمِلْهُ شَبَ عَلَى
حب الرَّضَاعِ وَإِنْ تُفْطِمْهُ يَنْفَطِم
অর্থাৎ, মানব-প্রবৃত্তি দুগ্ধপোষ্য শিশুর ন্যায়, যা দুধ পান করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাকে দুধ ছাড়াতে চেষ্টা করলে সে কাঁদবে, চিৎকার করবে, হৈ চৈ করবে। এখন মা-বাবা যদি চিন্তা করে যে, দুধ ছাড়াতে তার খুব কষ্ট হচ্ছে, তাই তাকে ছেড়ে দাও, সে দুধ পান করতে থাকুক। তাহলে সে যুবক হয়ে যাবে কিন্তু দুধ ছাড়ানো যাবে না। কারণ, তুমি তার কষ্ট, চিৎকার ও আহাজারিতে ভয় পেয়ে গেছো। যার ফলে দুধ ছাড়াতে পারোনি। এখন যদি তার সামনে রুটি এনে দেওয়া হয় তাহলে সে বলবে আমি তো রুটি খাবো না। আমি তো দুধই পান করবো। কিন্তু দুনিয়াতে এমন কোন মা-বাবা পাওয়া যাবে না, যে বলবে যে, দুধ ছাড়াতে যেহেতু বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে তাই দুধ ছাড়াবো না। মা-বাবা জানে দুধ ছাড়ালে কাঁদবে, চিৎকার করবে, রাতে ঘুম আসবে না, নিজেও জেগে থাকবে, আমাদেরকেও জাগ্রত রাখবে, কিন্তু তার পরেও দুধ ছাড়ায়। কারণ তারা জানে এতেই সন্তানের কল্যাণ। আর যদি তাকে দুধ ছাড়ানো না হয় তাহলে সারা জীবনেও সে রুটি খাওয়ার উপযুক্ত হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00