📄 স্বাদ ও ভোগের কোনো সীমা নেই
বর্তমানে যাদেরকে উন্নত জাতি বলা হয় তারা এ কথাই বলেছে যে, মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলাবে না। যার মনে যা চায় তাকে তা করতে দাও। যে কাজে যার মজা লাগে তাকে তা করতে দাও। তাকে বাধা দিও না। তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করো না, তার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করো না। তাই দেখুন, আজ মানুষের ভোগ বিলাসিতায় ও স্বাদ উপভোগে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। না আইনগত বাধা, না ধর্মীয় বাধা, না নীতি-নৈতিকতার বাধা, না সামাজিক বাধা- কোনো প্রকার বাধা নেই। প্রত্যেকে যার যার মর্জি মতো কাজ করছে। কিন্তু তাদেরকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে যে, তোমাদের উদ্দেশ্য অর্জন হয়েছে কি? ইহজগত থেকে যেই পরিমাণ স্বাদ উপভোগ করার ইচ্ছা তোমাদের ছিলো সেই ভোগের শেষ গন্ত ব্য এবং সেই উপভোগের শেষ স্তর তোমাদের লাভ হয়েছে কি, যার পর তোমাদের আর কিছু চাওয়ার নেই? কোনো ব্যক্তিই এ প্রশ্নের উত্তর 'হাঁ' দ্বারা দিবে না। বরং প্রত্যেকেই বলবে যে, আমার আরো লাভ হোক, আমি আরো পেতে চাই, আমি আরো সম্মুখে অগ্রসর হতে চাই। কারণ, এক চাহিদা আরেক চাহিদাকে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে।
📄 পাশ্চাত্যে প্রকাশ্যে ব্যভিচারের ঢল
পাশ্চাত্য সমাজে নারী-পুরুষ পরস্পরে জৈবিক চাহিদা পুরা করতে চাইলে কোনো বাধা নেই। কেউ ঠেকাবে না। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এমন এক সময় আসবে, যখন ব্যভিচার এতো ব্যাপক আকার ধারণ করবে যে, দুনিয়াতে সবচে' নেককার ব্যক্তি সে হবে, চৌরাস্তার মোড়ে দুই ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে যে বলবে গাছের আড়ালে গিয়ে করো। সে তাদেকে ব্যভিচার করতে নিষেধ করবে না। বলবে না যে, এটা মন্দ কাজ। বরং সে বলবে যে, সবার সম্মুখে না করে গাছের আড়ালে গিয়ে করো। এ ব্যক্তি হবে সবচে' নেককার।' আজ সেই যুগ প্রায় চলে এসেছে। কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়া খোলামেলাভাবে ব্যভিচার হচ্ছে।
টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ৩৮৮৮৬, খণ্ড-১৪, পৃষ্ঠা-৩৪৫, তারীখে দামেশক, খণ্ড-৬৪, পৃষ্ঠা-২৬৮
📄 আম আমেরিকায় ধর্ষণের আধিক্য কেন
আমেরিকাতে কোনো ব্যক্তি যদি তার জৈবিক চাহিদা পুরা করার জন্য অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতে চায় তার জন্য সব দরজা উন্মুক্ত। উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে এ কাজ করতে সেখানে কোনো বাধা নেই। প্রত্যেকে নিজের ইচ্ছা মতো এ চাহিদা পুরা করতে পারে। এতদসত্ত্বেও ধর্ষণের যতো ঘটনা আমেরিকায় ঘটে পৃথিবীর অন্য কোথাও তা ঘটে না। এর কারণ কী? এর কারণ এই যে, সম্মতিক্রমে ব্যভিচার করে এবং তার স্বাদ ভোগ করে দেখেছে, কিন্তু প্রশান্তি লাভ হয়নি। তাই জোরপূর্বক ব্যভিচার করার আবেগ সৃষ্টি হচ্ছে, যাতে করে ধর্ষণের স্বাদও উপভোগ করতে পারে। তাই মানুষের এ চাহিদা কোনো পর্যায়ে গিয়ে ক্ষ্যান্ত হয় না, বরং আরো অগ্রসর হতে থাকে। এ কামনার অন্ত নেই।
📄 এ পিপাসা নিবারিত হওয়ার নয়
আপনারা 'গো-ক্ষুধা' নামে এক ব্যাধির কথা শুনেছেন। সেই ব্যাধির বৈশিষ্ট্য হলো, তাতে কেবলই ক্ষুধা লেগে থাকে। যা মন চায় খাও, যতো মন চায় খাও, কিন্তু ক্ষুধা মেটে না। এমন আরেকটি ব্যাধি রয়েছে যাকে 'ইসতিসকা' বলে। এ রোগে মানুষের কেবলই পিপাসা লেগে থাকে। কলসের পর কলস পান করলেও এমনকি কুপের সব পানি পান করলেও পিপাসা নিবারিত হয় না। মানুষের কামনা-বাসনার অবস্থাও একই। তা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, আয়ত্তে রাখা না হয়, শরীয়ত ও নীতি চরিত্রের বন্ধনে আবদ্ধ রাখা না হয় তাহলে 'ইসতিসকা' রোগীর ন্যায় ভোগ-উপভোগের কোনো পর্যায়ে গিয়েই স্থিরতা লাভ হয় না। এ কামনা শুধু বৃদ্ধিই পেতে থাকে।