📄 পাত্র মোতাবেক মহব্বত দেওয়া হয়
এ জন্য কোন স্তরের 'মহব্বত' আপনি অর্জন করবেন, সে ফয়সালা করার অধিকার আপনার নেই। আপনাকে কোন স্তরের মহব্বত দান করবেন তা তিনিই ফয়সালা করবেন যিনি মহব্বত দান করবেন। যে স্তরের মহব্বত আপনাকে দেওয়া হবে, তাই আপনার জন্য উপকারীও বটে। পাত্র হিসেবে বস্তু দেওয়া হয়। আপনার পাত্র যতোটুকু, ততোটুকু মহব্বতই আপনি পাবেন। মহব্বতের বিশেষ কোনো স্তর নির্ধারণ করে আপনি বলবেন যে, এই স্তরের মহব্বত আমাকে পেতে হবে, এ অধিকার আপনার নেই। তবে মহব্বতের যেই স্তর আপনি লাভ করবেন তা আপনার জন্য যথেষ্ট হবে ইনশা আল্লাহ। তবে শর্ত হলো, এসব তদবীরের উপর আমল করতে হবে।
📄 অকৃতজ্ঞতা ও হতাশার শিকার হয়ে পড়বেন
কিন্তু আমাদের অবস্থা হলো, একদিকে আমরা বুযুর্গদের বাতানো তদবীরসমূহের উপর আমল শুরু করে দেই, আর অপর দিকে নিজের জন্য কোনো একটি উঁচু স্তর সাব্যস্ত করে নেই যে, এটি আমার গন্তব্য। এই গন্তব্যে আমাকে পৌছতে হবে। সে সব তদবীরের উপর আমল শুরু করার পর যখন সেই গন্তব্য অনেক দূরে দৃষ্টিগোচর হয়, তখন এ যাবত যাকিছু হাসিল হয়েছে তার অবমূল্যায়ন ও না-শোকরী করতে আরম্ভ করি এবং কাঙ্খিত গন্তব্য লাভ না হওয়ার ফলে হতাশার শিকার হয়ে পড়ি। ফলে এক সময় সে সব উপকরণের উপর আমল করা ছেড়ে দেই। এজন্য হযরত থানভী রহ. বলছেন যে, নিজের পক্ষ থেকে কোনো স্তর নির্ধারণ করো না।
উপকরণ শুদ্ধ হলে ইনশাআল্লাহ ফল অবশ্যই লাভ হবে। আপনি যেই স্তর নির্ধারণ করেছেন সেই স্তর হয় তো লাভ হবে না। তবে আপনার জন্য যতোটুকু উপকারী তা অবশ্যই লাভ হবে। জনৈক কবি বড়ো চমৎকার বলেছেন,
بر صراط مستقیم اے دل کے گمراہ نیست
হে মন! সিরাতে মুস্তাকীমে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বিপথগামী হয় না।
যখন এই পথে এসে গেছেন তখন ইনশাআল্লাহ অবশ্যই কামিয়াব হবেন। সুতরাং এদিক সেদিক দেখার দরকার নেই। যা কিছু আপনি পেয়েছেন এর উপর শোকর আদায় করুন এবং তদবীর চালিয়ে যান। এটুকুই আপনার জন্য যথেষ্ট।
📄 আমার পানপাত্রে আমার উপযুক্ত মদিরাই রয়েছে
আমাদের শাইখ হযরত ডা. আবদুল হাই আরেফী রহ. একটি বিস্ময়কর কবিতা রচনা করেন। বক্ষমান আলোচনা সামনে না থাকলে অন্য কেউ এ কবিতার মর্মই বুঝতে সক্ষম হবে না। তিনি বলেন-
مجھ کو اس سے کیا غرض کس جام میں ہے کتنی ہے
میرے پیمانے میں لیکن حاصل میخانہ ہے
অর্থাৎ, অন্যরা কী পেয়েছে আর কী পায়নি, তা দিয়ে আমার দরকার কী। আল্লাহ তা'আলা আমাকে যা দান করেছেন তাই আমার জন্য উপযুক্ত এবং তাই আমার লাভ হয়েছে।
সুতরাং নিজের জন্য কোনো স্তর সাব্যস্ত করা, পরে অপ্রাপ্তির দরুন অভিযোগ করা, নিরাশ হওয়া এ সবই ভুল। তদবীর যখন বিশুদ্ধ তখন তার ফল অবশ্যই প্রকাশ পাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।
📄 একটি চিঠি ও হযরতের জবাব
একবার আমি হযরতকে চিঠি লিখি যে, অমুক অমুক কাজ আমার দ্বারা হয় না। যে লোকের দ্বারা এতোটুকু কাজও হয় না সে দুনিয়াতে আর কী কাজ করবে? হযরত আমার শেষের লাইনটির নিচে দাগ টেনে এর সামনে জবাব লেখেন যে, ‘নিজের সত্তা সম্পর্কে কি উচ্চাঙ্গ বিষয়ের আশাবাদী?’ অর্থাৎ, তোমার এ কথা যে, যার দ্বারা এতোটুকু কাজও হয় না, তার দ্বারা আর কি কাজ হবে। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, তুমি নিজের ব্যাপারে বড়ো বড়ো কাজের প্রত্যাশা নিয়ে বসে আছো যে, আমি খুব উঁচু স্তরের মানুষ। কাজেই আমার দ্বারা এমন উঁচু স্তরের কাজ হওয়া উচিৎ। সে সব যেহেতু হচ্ছে না, তাই হতাশা হচ্ছে।
মূলত এই জবাব দ্বারা তিনি সতর্ক করেছেন যে, প্রকৃতপক্ষে মনে এ ধরনের চিন্তা জাগার কারণ অহংকার। অর্থাৎ, নিজের জন্য উচ্চাঙ্গের সব বিষয় সাব্যস্ত করে রেখেছো, সেগুলো যখন হচ্ছে না, তখন হতাশ হচ্ছো। এর উৎস অহংকার।