📄 বাইতুল্লাহর প্রতি পয়লা নজরের দু‘আ
মানুষ প্রথম যখন বাইতুল্লাহ শরীফের উপর দৃষ্টিপাত করে তখন তার বুঝে আসে না যে, এ সুবর্ণ মুহূর্তে কী দু'আ করবে? আল্লাহর বান্দাদের এ সময় বিস্ময়কর সব অনুভূতি জাগে। ইমাম আবু হানীফা রহ.-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিলো যে, এ সময় কি দু'আ করবো? ইমাম ছাহেব বললেন, মিঞা! এই দু'আ করবে যে, হে আল্লাহ! আমাকে 'মুসতাজাবুদ দাওয়াত' বানিয়ে দিন। আমার সারা জীবনের সব দু'আই যেন কবুল হয়। আল্লাহ তা'আলা ইমাম ছাহেবের মনে এই দু'আ ঢেলে দিয়েছিলেন।
মোটকথা, চাওয়াও একটি বিদ্যা, একটি শাস্ত্র, যা সকলেই পারে না। আমার যখন হারামাইনে (মক্কা-মদীনায়) যাওয়া হলো এবং বাইতুল্লাহ শরীফের উপর নজর পড়লো, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার বুঝে আসছে না যে আমি কি দু'আ করবো। হে আল্লাহ! আপনার নিকট যে দু'আ আমার পক্ষে উত্তম তা আমার হৃদয়ে ঢেলে দিন এবং সেভাবে দু'আ করার তাওফীক দান করুন।
এ বিষয়টিই হযরতের কথায় ফুটে উঠেছে যে, ঝুলিও তাঁর কাছেই চাও। এভাবে মহব্বতও তাঁর কাছেই কামনা করুন যে, হে আল্লাহ! আপনার মহব্বত আমার অন্তরে পয়দা করে দিন এবং এই মহব্বতকে সকল মহব্বতের ওপর প্রবল করে দিন।
📄 মহব্বত লাভের উপায়সমূহের সারকথা
মোটকথা, হযরত থানভী রহ. মহব্বত লাভের মোট ছয়টি উপায় বলেছেন। ১. অধিকহারে আল্লাহ পাকের যিকির করা। ২. আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে স্মরণ করা। ৩. নিজের কর্মকাণ্ড আচরণ ও বাস্তবতাকে চিন্তা করা। ৪. কোনো আল্লাহ ওয়ালার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। ৫. নিয়মিত ইবাদত করা। ৬. আল্লাহর কাছে দু'আ করা।
এ ছয়টি জিনিস দ্বারা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত হয় এবং তাঁর মহব্বত অন্তরে পরিপক্ক হয়। আল্লাহ তাঁর ফযল ও করমে এসব কথার উপর আমল করার তাওফীক দান করুন।
📄 মহব্বতের বিশেষ কোনো স্তর কামনা করো না
এরপর হযরত থানভী রহ.-এর মুজাদ্দিদসুলভ কথা শুনুন। তিনি বলেন, এ সব উপায় ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল নেই, তবে শুধুমাত্র একটি ইলমী ভুলের আশংকা রয়েছে, যে বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। তা এই যে, নিজের থেকে মহব্বতের কোনো স্তর নির্ধারণ করে তা লাভের অপেক্ষায় থাকা অবশ্য ভুল।'
অর্থাৎ, মহব্বত পয়দা করার বিষয়ে যে সব কথা এবং যেসব উপকরণ বলা হয়েছে এতে কোনো ভুল নেই। এগুলো ইনশা আল্লাহ সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ, নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণসিদ্ধ। ইনশা আল্লাহ, এর দ্বারাই মহব্বত পয়দা হবে। কিন্তু ভুল এভাবে হয় যে, মহব্বতের বিশেষ কোনো স্তর ঠিক করে মানুষ অপেক্ষমান থাকে যে, আমার মহব্বতের ঐ স্তর হাসিল হতে হবে। যেমন মনে মনে এই পরিকল্পনা এঁকে বসলো যে, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.-এর মহব্বতের যেই স্তর লাভ হয়েছিলো, আমার তা লাভ হোক। কিংবা হযরত উয়াইস করনী রহ.-এর যেই ভালোবাসা লাভ হয়েছিলো, আমারও তা লাভ হোক। হযরত শাহ আবদুল কাদের জিলানী রহ.-এর যেই মহব্বত লাভ হয়েছিলো, তা আমারও লাভ হোক। মোটকথা, মহব্বতের একটি স্তর নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, আমারও মহব্বতের এই স্তর লাভ হতে হবে এবং সেই স্তর লাভের প্রতীক্ষায় থাকা ভুল। কারণ, পরে যখন সেই স্তর লাভ হয় না, তখন এই লোক হয় আল্লাহ পাকের নাশোকরী করে, না হয় মহব্বত লাভের উপকরণসমূহ সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে, আর না হয় হতাশার শিকার হয়。
টিকাঃ
১. আনফাসে ঈসা, পৃষ্ঠা-১৯৪
📄 পাত্র মোতাবেক মহব্বত দেওয়া হয়
এ জন্য কোন স্তরের 'মহব্বত' আপনি অর্জন করবেন, সে ফয়সালা করার অধিকার আপনার নেই। আপনাকে কোন স্তরের মহব্বত দান করবেন তা তিনিই ফয়সালা করবেন যিনি মহব্বত দান করবেন। যে স্তরের মহব্বত আপনাকে দেওয়া হবে, তাই আপনার জন্য উপকারীও বটে। পাত্র হিসেবে বস্তু দেওয়া হয়। আপনার পাত্র যতোটুকু, ততোটুকু মহব্বতই আপনি পাবেন। মহব্বতের বিশেষ কোনো স্তর নির্ধারণ করে আপনি বলবেন যে, এই স্তরের মহব্বত আমাকে পেতে হবে, এ অধিকার আপনার নেই। তবে মহব্বতের যেই স্তর আপনি লাভ করবেন তা আপনার জন্য যথেষ্ট হবে ইনশা আল্লাহ। তবে শর্ত হলো, এসব তদবীরের উপর আমল করতে হবে।