📄 থলি ও পেয়ালা তাঁর কাছেই চান
আমার ওয়ালেদ ছাহেব ঘটনা শোনাতেন যে, একবার হযরত থানভী রহ. তাঁর মজলিসে এ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন যে, সব কিছু আল্লাহর কাছে চাওয়া উচিৎ। কেননা তাঁর দানে কমতি নেই।
হযরত বলেন, চাওয়ায় ঘাটতি থেকে যায়, নয়তো মানুষ যদি চায় তাহলে আল্লাহর দেওয়ার কোনো কমতি নেই। আল্লাহর সামনে থলি পাতার লোক দরকার। আল্লাহ পাক থলি ভরেই ফেরত দিবেন। হযরত মাজযুব ছাহেব রহ. প্রশ্ন করেন, হযরত! কারো কাছে যদি থলিই না থাকে, সে কী পাতবে? হযরত বলেন, থলিও তাঁর কাছেই চাও। বলো, হে আল্লাহ! আমার থলিও নেই। দয়া করে আমাকে থলি দান করুন। আমি চাইতে জানি না, আমাকে চাওয়ার যোগ্যতাও দান করুন।
📄 চাওয়ার পদ্ধতিও তাঁর কাছেই চান
সুতরাং এক দু'আয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে চেয়েছেন যে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَسْئَلَةِ وَخَيْرَ الدُّعَاءِ وَخَيْرَ الْإِجَابَةِ
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তমভাবে চাওয়ার পদ্ধতি কামনা করছি। অর্থাৎ, আমি আপনার কাছে উত্তমভাবে চাইবো। ভালো সব বিষয় কামনা করবো। হে আল্লাহ! আপনার কাছে ভালো দু'আ করার তাওফীক কামনা করছি এবং তা যেন ভালোভাবে কবুল হয় এ কামনাও করছি।'
টিকাঃ
১. হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে এ দু'আ বর্ণিত হয়েছে। আরো বিস্তারিতভাবেও বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু غَيْرَ الْإِجَابَةِ এ দু'আতে পাইনি। দু'আটির শব্দমালা এ﴿ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ خَيْرَ الدُّعَاءِ وَخَيْرَ الْمَسْأَلَةِ وَخَيْرَ النَّجَاحِ وَخَيْرَ الْعَمَلِ وَ خَيْرَ الثَّوَابِ وَخَيْرَ الْحَيَاةِ وَ خَيْرَ الْمَمَاتِ
ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৪২৭, আলমু'জামুল কাবীর লিত তবরানী, খণ্ড-১৭, পৃষ্ঠা-১৪৩, আলমুসতাদরাক লিল হাকেম, হাদীস নং ১৯১১, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৭৮, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ৩৮২০, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২১৪, জামিউল আহাদীস, হাদীস নং ৪৯৩৭, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৬৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৫২৫
📄 তাঁর কাছেই ভালো দু‘আ করার তাওফীক কামনা করুন
সুতরাং ঝুলিও তাঁর কাছেই চান।
আপনি যখন দু'আ কবুলের বিশেষ সময় বা স্থান পাবেন, যেখানে দু'আ কবুলের অধিক আশা করা যায়; যেমন ইফতারের সময়, সাহারীর সময়, তাহাজ্জুদের সময়, জুমুআর দিন, বাইতুল্লাহ শরীফের প্রতি পয়লা নজরের সময় কিংবা তাওয়াফ করার সময়। এ সব জায়গায় দু'আ করার পূর্বে এভাবে চান, হে আল্লাহ! আমাকে ভালো দু'আর তাওফীক দান করুন। অর্থাৎ, আমি যেন এমন দু'আ করি, যা আমার দ্বীন-দুনিয়ার জন্য উপকারী হয়। হে আল্লাহ! আমার সেই দু'আ যেন কবুলও করুন। সুতরাং দু'আ কবুলের স্থানে দু'আ করার তাওফীকও তাঁর কাছেই চান।
📄 বাইতুল্লাহর প্রতি পয়লা নজরের দু‘আ
মানুষ প্রথম যখন বাইতুল্লাহ শরীফের উপর দৃষ্টিপাত করে তখন তার বুঝে আসে না যে, এ সুবর্ণ মুহূর্তে কী দু'আ করবে? আল্লাহর বান্দাদের এ সময় বিস্ময়কর সব অনুভূতি জাগে। ইমাম আবু হানীফা রহ.-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিলো যে, এ সময় কি দু'আ করবো? ইমাম ছাহেব বললেন, মিঞা! এই দু'আ করবে যে, হে আল্লাহ! আমাকে 'মুসতাজাবুদ দাওয়াত' বানিয়ে দিন। আমার সারা জীবনের সব দু'আই যেন কবুল হয়। আল্লাহ তা'আলা ইমাম ছাহেবের মনে এই দু'আ ঢেলে দিয়েছিলেন।
মোটকথা, চাওয়াও একটি বিদ্যা, একটি শাস্ত্র, যা সকলেই পারে না। আমার যখন হারামাইনে (মক্কা-মদীনায়) যাওয়া হলো এবং বাইতুল্লাহ শরীফের উপর নজর পড়লো, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার বুঝে আসছে না যে আমি কি দু'আ করবো। হে আল্লাহ! আপনার নিকট যে দু'আ আমার পক্ষে উত্তম তা আমার হৃদয়ে ঢেলে দিন এবং সেভাবে দু'আ করার তাওফীক দান করুন।
এ বিষয়টিই হযরতের কথায় ফুটে উঠেছে যে, ঝুলিও তাঁর কাছেই চাও। এভাবে মহব্বতও তাঁর কাছেই কামনা করুন যে, হে আল্লাহ! আপনার মহব্বত আমার অন্তরে পয়দা করে দিন এবং এই মহব্বতকে সকল মহব্বতের ওপর প্রবল করে দিন।