📄 আমি বিরান ঘরেই অবস্থান করবো
আমি একটি পংক্তি রচনা করেছিলাম। হযরত হাকীম আখতার ছাহেব রহ. তা খুব পছন্দ করে থাকেন। তাঁর মজলিসে তা পাঠ করে শুনিয়েও থাকেন। পংক্তিটি হলো-
درد دل دے کے مجھے اس نے یہ ارشاد کیا
ہم اس گھر میں رہیں گے جسے برباد کیا
হৃদয়-বেদনা দিয়ে তিনি বললেন, আমি বিরান ঘরেই অবস্থান করবো।
আত্মাকে বিরান করার অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলার জন্য মনের কাম বাসনাকে দলিত-মথিত করা। অন্তরে গোনাহ করার আকর্ষণ সৃষ্টি হয় গোনাহ করার চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে, চারদিকে ছড়ানো গোনাহের উপকরণসমূহ হাতছানি দিয়ে ডাকছে, কিন্তু আমি আল্লাহর খাতিরে আমার আত্মাকে বিক করছি। তাহলে আল্লাহ পাক ওই অন্তরে বসবাস শুরু করেন। তখন হয় আল্লাহ পাকের নূরের বিকিরণকেন্দ্রে পরিণত হয়।
📄 মহব্বত দ্বারা আনুগত্য এবং আনুগত্য দ্বারা মহব্বতের ফল
এ কথাটিই হযরত থানভী রহ. বলছেন যে, প্রথমে যখন আনুগত্যের জন্য কিছু কতাওবানী পেশ করবে, কিছুটা আগে বাড়বে এবং প্রবৃত্তি চাহিদাকে দমন করার চেষ্টা করবে, তখন আল্লাহ পাক দয়া ও মায়া করে তাঁর মহব্বত দান করবেন। এটা তাঁর ওয়াদা। এরপরও মহব্বত পয়দা হওয়া অসম্ভব। একবার মহব্বত পয়দা হয়ে গেলে পূর্বে যে কাজ কঠিন মনে হতো এখন তা সহজ মনে হবে। ফলে অতিরিক্ত আনুগত্য নসীব হবে। যখন অতিরিক্ত আনুগত্য নসীব হবে, তখন মহব্বত আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়তেই থাকবে। মহব্বত যতো বৃদ্ধি পেতে থাকবে আনুগত্যও ততো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। মৃত্যু পর্যন্ত এ ধারা চলতে থাকবে। এমনটা মৃত্যুর সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এই পয়গাম আসবে-
يَـٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً فَٱدْخُلِى فِى عِبَـٰدِى وَٱدْخُلِى جَنَّتِى )
'হে (আল্লহর ইবাদতে) প্রশান্তি লাভকারী প্রাণ! আজ তোমার পরওয়ারদেগারের দিকে ফিরে এসো, যার মহব্বতে তুমি দিনাতিপাত করেছো। আজ এসে আমার বান্দাদের দলে শামিল হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।'
এই হলো পরিণতি উপরোক্ত পরম্পরার। অর্থাৎ, আনুগত্য দ্বারা মহব্বত সৃষ্টি হবে এবং মহব্বত দ্বারা সৃষ্টি হবে আনুগত্য। এই আনুগত্যের কার আরো মহব্বত বৃদ্ধি পাবে এবং সেই মহব্বতের ফলে বৃদ্ধি পাবে আরো আনুগত্য। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাক এই মাকাম পর্যন্ত পৌঁছাবেন। আল্লাহ তা'আলা দয়া ও অনুগ্রহ করে আমাদেরকেও এ পথে অধিষ্ঠিত করুন।
টিকাঃ
১. সূরা ফাজর ২৭-৩০
📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ আনুগত্যের সহজ পন্থা
এই আনুগত্য অর্জনের সহজ ও সংক্ষিপ্ত ব্যবস্থাপত্র, যা আল্লাহ পাক কুরআনুল কারীমে মহব্বত পয়দা করা সম্পর্কে বলেছেন, তা হলো,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
'আল্লাহ তা'আলা হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, আপনি সকল ঈমানদারকে বলুন, যদি সত্যিই তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে মহব্বত করো, এর আরেকটি অর্থ হতে পারে, যদি তোমরা আল্লাহ তা'আলার সাথে মহব্বত করতে চাও তাহলে এর সহজ রাস্তা এই যে, তোমরা আমার অনুসরণ করো। অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করো। এর ফলে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে মহব্বত করবেন।'
টিকাঃ
১. আলে ইমরান ১৩
📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করুন, আল্লাহ তা‘আলা মহব্বত করবেন
বাহ্যত বলা দরকার ছিলো যে, আল্লাহকে মহব্বত করার সহজ রাস্তা হলো, তোমরা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করো। যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করবে তখন আল্লাহ পাকের মহব্বত পয়দা হবে এবং তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে মহব্বত করতে শুরু করবে, কিন্তু এভাবে বলেননি। বরং বলেছেন, যদি আল্লাহ তা'আলাকে মহব্বত করতে চাইলে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে মহব্বত করবেন। এভাবে কেন বললেন? প্রকৃতপক্ষে এর দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত করা উদ্দেশ্য যে, তোমরা আল্লাহর সাথে মহব্বত করতে চাও কীভাবে! আল্লাহ কোথায়, আর তোমরা কোথায়! তোমাদের অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ, তোমাদের সত্তা অসম্পূর্ণ ও সীমাবদ্ধ। ওদিকে আল্লাহর সত্তা অবিনশ্বর ও অসীম। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তা'আলার সাথে মহব্বত কীভাবে করবে? আল্লাহ তা'আলার সাথে প্রকৃত ভালোবাসা ও তার পূর্ণতা তোমাদের কীভাবে লাভ হতে পারে? অবশ্য তোমরা যদি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করো তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে মহব্বত করবেন। পরে এই মহব্বতের প্রতিবিম্ব তোমাদের অন্তরে পড়বে। এই প্রতিবিম্বের নামই আল্লাহ তা'আলার মহব্বত।