📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 ভগ্ন হৃদয়ের সাথে আলাহ পাক থাকেন

📄 ভগ্ন হৃদয়ের সাথে আলাহ পাক থাকেন


আল্লাহ তা'আলা চান, আমার বান্দা মাঝে মাঝে তার আত্মাকে আঘাত করুক। যেমন একটি কাজ করতে মন চাইছে, কিন্তু মনে আঘাত হেনে সেই কাজ থেকে বান্দা বিরত থাকলো। যখন আল্লাহ তা'আলার খাতিরে অন্তরে আঘাত হানবে তখন আল্লাহ পাক বলবেন, আমি তার হৃদয়ে অবস্থান করবো। এই হৃদয়ে আমার আলো বিচ্ছুরিত হবে।
এখন আত্মা দুইভাবে ভাঙ্গতে পারে। অনিচ্ছাকৃতভাবে হৃদয় ভাঙ্গতে পারে। যেমন তার উপর কোনো মুসীবত পতিত হলো। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, আমি এদের সাথে আছি। দ্বিতীয় পদ্ধতি এই যে, অন্তরে গোনাহের চাহিদা হচ্ছিলো, তা দমন করে নিজের হৃদয় ভেঙ্গে ফেললো। তখনও আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি তোমার সাথে আছি।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মা নূর বিকিরণের কেন্দ্র

📄 আত্মা নূর বিকিরণের কেন্দ্র


এ কথাটি বুঝাতে গিয়ে আল্লামা ইকবাল বড়ো সুন্দর একটি কবিতা রচনা করেছেন-
تو بچا بچا کے نہ رکھ اسے ترا آئنہ ہے وہ آئنہ
کہ شکستہ ہو تو عزیز تر ہے نگاہ آئنہ ساز میں
অর্থাৎ, তোমার আত্মা বেঁচে থাকবে এবং তার যাবতীয় কামনা-বাসনা তুমি পুরা করতে থাকবে, এমনটি করো না। কেননা যে সত্তা আত্মাকে আয়েনা বানিয়েছেন তিনিই বলছেন যে, আত্মা নামক এ আয়েনা যতো বেশি ভাঙ্গা হবে ততো বেশি আমার প্রিয় হবে। ততো বেশি আমি তার সাথী হবো। আত্মাকে আল্লাহ তা'আলা নিজের জন্য বানিয়েছেন। আত্মা তাঁরই আলো বিকিরণ কেন্দ্র। এতে কারো অংশীদারিত্ব তিনি পছন্দ করেন না। খাহেশাতের কাঁচ ভেঙ্গে যখন চুরমার করা হয় কেবল তখনই তা আল্লাহ তা'আলার জন্য অবধারিত হয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আমি বিরান ঘরেই অবস্থান করবো

📄 আমি বিরান ঘরেই অবস্থান করবো


আমি একটি পংক্তি রচনা করেছিলাম। হযরত হাকীম আখতার ছাহেব রহ. তা খুব পছন্দ করে থাকেন। তাঁর মজলিসে তা পাঠ করে শুনিয়েও থাকেন। পংক্তিটি হলো-
درد دل دے کے مجھے اس نے یہ ارشاد کیا
ہم اس گھر میں رہیں گے جسے برباد کیا
হৃদয়-বেদনা দিয়ে তিনি বললেন, আমি বিরান ঘরেই অবস্থান করবো।
আত্মাকে বিরান করার অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলার জন্য মনের কাম বাসনাকে দলিত-মথিত করা। অন্তরে গোনাহ করার আকর্ষণ সৃষ্টি হয় গোনাহ করার চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে, চারদিকে ছড়ানো গোনাহের উপকরণসমূহ হাতছানি দিয়ে ডাকছে, কিন্তু আমি আল্লাহর খাতিরে আমার আত্মাকে বিক করছি। তাহলে আল্লাহ পাক ওই অন্তরে বসবাস শুরু করেন। তখন হয় আল্লাহ পাকের নূরের বিকিরণকেন্দ্রে পরিণত হয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মহব্বত দ্বারা আনুগত্য এবং আনুগত্য দ্বারা মহব্বতের ফল

📄 মহব্বত দ্বারা আনুগত্য এবং আনুগত্য দ্বারা মহব্বতের ফল


এ কথাটিই হযরত থানভী রহ. বলছেন যে, প্রথমে যখন আনুগত্যের জন্য কিছু কতাওবানী পেশ করবে, কিছুটা আগে বাড়বে এবং প্রবৃত্তি চাহিদাকে দমন করার চেষ্টা করবে, তখন আল্লাহ পাক দয়া ও মায়া করে তাঁর মহব্বত দান করবেন। এটা তাঁর ওয়াদা। এরপরও মহব্বত পয়দা হওয়া অসম্ভব। একবার মহব্বত পয়দা হয়ে গেলে পূর্বে যে কাজ কঠিন মনে হতো এখন তা সহজ মনে হবে। ফলে অতিরিক্ত আনুগত্য নসীব হবে। যখন অতিরিক্ত আনুগত্য নসীব হবে, তখন মহব্বত আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়তেই থাকবে। মহব্বত যতো বৃদ্ধি পেতে থাকবে আনুগত্যও ততো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। মৃত্যু পর্যন্ত এ ধারা চলতে থাকবে। এমনটা মৃত্যুর সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এই পয়গাম আসবে-
يَـٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً فَٱدْخُلِى فِى عِبَـٰدِى وَٱدْخُلِى جَنَّتِى )
'হে (আল্লহর ইবাদতে) প্রশান্তি লাভকারী প্রাণ! আজ তোমার পরওয়ারদেগারের দিকে ফিরে এসো, যার মহব্বতে তুমি দিনাতিপাত করেছো। আজ এসে আমার বান্দাদের দলে শামিল হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।'
এই হলো পরিণতি উপরোক্ত পরম্পরার। অর্থাৎ, আনুগত্য দ্বারা মহব্বত সৃষ্টি হবে এবং মহব্বত দ্বারা সৃষ্টি হবে আনুগত্য। এই আনুগত্যের কার আরো মহব্বত বৃদ্ধি পাবে এবং সেই মহব্বতের ফলে বৃদ্ধি পাবে আরো আনুগত্য। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাক এই মাকাম পর্যন্ত পৌঁছাবেন। আল্লাহ তা'আলা দয়া ও অনুগ্রহ করে আমাদেরকেও এ পথে অধিষ্ঠিত করুন।

টিকাঃ
১. সূরা ফাজর ২৭-৩০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00