📄 প্রবৃত্তি দমনে এ চিন্তা উপকারী
অতএব সামান্য কতাওবানী করতে হবে। জান্নাত এতো সস্তা নয়। আল্লাহর মহব্বতও এতো সস্তা নয়। আর সেই কতাওবানী হচ্ছে, নফসকে নাজায়েয খাহেশাত থেকে প্রতিহত করার অভ্যাস গড়া। সহজে এ কাজ করার জন্য চিন্তা করুন যে, এটা দুনিয়া, জান্নাত নয়। দুনিয়ার বড়ো থেকে বড়ো কোনো মানুষ- সে অনেক বড়ো প্রশাসক হোক, পুঁজিপতি হোক বা বিত্তশালী হোক- সে কি দাবি করতে পারে যে, দুনিয়াতে সবকিছু আমার মর্জি মতো হচ্ছে? বরং দুনিয়াতে প্রত্যেক মানুষের উপর তার মর্জি বিরোধী অনেক অবস্থা এসে থাকে এবং আসতে থাকবে। এ থেকে বাঁচা অসম্ভব।
আজ যাদের হাতে সারা দুনিয়ার শাসনভার। যাদের কাছে বিত্ত-বৈভবের পাহাড়, নকর-চাকর, পেয়াদা-বরকন্দাজ মওজুদ, দুনিয়ার যাবতীয় উপকরণ যাদের হাতে, তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, তোমাদের মর্জির বাইরে কোনো কাজ হয়েছে কি না? অনেক সময় তাদের মনের বিরুদ্ধে এমন সব কাজ হয়, যা আমার আপনার বিরুদ্ধে হয় না। সুতরাং এটা তো হতে পারে না যে, আমি সবসময় খুশি থাকবো। কোনো কষ্ট-মুসীবত আমাকে স্পর্শ করবে না। কোনো দুঃখ-বেদনা আমাকে স্পর্শ করবে না। কখনো আমার মনের বিরুদ্ধে কিছু হবে না। সুতরাং মনের বিরুদ্ধে নানা রকম অবস্থা আসতে থাকবে।
📄 দু‘টি পথ: খোদার পথ ও প্রবৃত্তির পথ
এখন দু'টি পথ খোলা রয়েছে। একটি পথ এই যে, নিজের মনের বিরুদ্ধে এমন পথ অবলম্বন করবে, যার পরিণতিতে আল্লাহ পাক খুশি হবেন এবং বলবেন, দেখো! আমার বান্দা আমার খাতিরে নিজের মনের চাহিদাকে পদদলিত করেছে।
দ্বিতীয় পথ হলো, নিজের প্রবৃত্তির চাহিদাকে পুরা করতে থাকবে। সারাক্ষণ এ চেষ্টায় ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু এর ফল এই হবে যে, আপনি সারা জীবন প্রবৃত্তির চাহিদা পুরা করতে থাকবেন এবং আল্লাহর থেকে দূরে সরে যেতে থাকবেন। যতো যাই করুন না কেন আপনার মনের বিরুদ্ধে যখন কাজ হবেই, তখন আল্লাহকে খুশি করার জন্য মনের বিরুদ্ধে কেন কাজ করবেন না?
📄 কষ্ট সুস্বাদু হয়ে যাবে
যখন আপনি চিন্তা করবেন যে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মনের বিরুদ্ধে এ কাজ করছেন, তখন এই কষ্টও শেষ পর্যন্ত সুস্বাদু হয়ে যাবে। কারণ, যখন চিন্তা করবেন যে, আলহামদুলিল্লাহ, প্রকৃত প্রেমাস্পদের জন্য আমি আমার কু-প্রবৃত্তিকে দমন করছি, তখন মনে যেই প্রশস্ততা ও প্রফুল্লতা সৃষ্টি হবে এবং যেই নূর পয়দা হবে, তার সামনে দুনিয়ার হাজারো স্বাদ ও মজা কতাওবান।
📄 ভগ্ন হৃদয়ের সাথে আলাহ পাক থাকেন
আল্লাহ তা'আলা চান, আমার বান্দা মাঝে মাঝে তার আত্মাকে আঘাত করুক। যেমন একটি কাজ করতে মন চাইছে, কিন্তু মনে আঘাত হেনে সেই কাজ থেকে বান্দা বিরত থাকলো। যখন আল্লাহ তা'আলার খাতিরে অন্তরে আঘাত হানবে তখন আল্লাহ পাক বলবেন, আমি তার হৃদয়ে অবস্থান করবো। এই হৃদয়ে আমার আলো বিচ্ছুরিত হবে।
এখন আত্মা দুইভাবে ভাঙ্গতে পারে। অনিচ্ছাকৃতভাবে হৃদয় ভাঙ্গতে পারে। যেমন তার উপর কোনো মুসীবত পতিত হলো। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, আমি এদের সাথে আছি। দ্বিতীয় পদ্ধতি এই যে, অন্তরে গোনাহের চাহিদা হচ্ছিলো, তা দমন করে নিজের হৃদয় ভেঙ্গে ফেললো। তখনও আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি তোমার সাথে আছি।