📄 ‘মহব্বত’ বাম্পের মতো
হযরত বলেন, ট্রেন দ্রুত গতিতে চলার জন্য দুটি জিনিস দরকার। এক. বাষ্প, দুই. চাকা। যদি ইঞ্জিনে বাষ্প না থাকে, তাহলে শুধু চাকা দ্বারা ট্রেন জোরে চলতে পারবে না। পক্ষান্তরে যদি বাষ্প থাকে কিন্তু চাকা না থাকে, তাহলে বাষ্প এই ট্রেনকে ধ্বংস করে দেবে। ট্রেন জমিনে ধ্বসে যাবে। সুতরাং যেমন বাষ্প প্রয়োজন, তেমনি চাকাও প্রয়োজন।
হযরত থানভী রহ. বলেন, এভাবে মানুষের ভিতরের 'মহব্বত' বাষ্পের সাথে তুল্য, আর আমল চাকার সাথে তুলনীয়। এজন্য সামান্য আমল করতে হবে। পরে এই আমলের মাধ্যমে যখন মহব্বতের বাষ্প পয়দা হবে তখন দ্রুতই উন্নতি হবে এবং দ্রুততার সাথে আমল হবে।
📄 ফ্লাইয়ের পূর্বে রানওয়েতে বিমান চলা
আজকাল উপমাটি এভাবেও বোঝা যেতে পারে যে, যেমন ধরুন বিমান হাওয়ায় ওড়ে। হাওয়ার মাঝে ভেসে ঘণ্টায় ৫০০ মাইল চলে। কিন্তু ফ্লাইয়ের পূর্বে রানওয়েতে চক্কর দেয়া লাগে। এমন কোনো বিমান নেই যা চক্কর না দিয়ে সরাসরি আকাশে ফ্লাই করে। খানিকক্ষণ তাকে রানওয়ের উপর কারের মতো চলতে হয়। এ সময়টি আমার মতো প্যাসেঞ্জারের জন্য খুবই ধৈর্য্যবহ হয়ে থাকে। কেননা যখন জাহাজ উড়াল দেয় তখন আমি আমার লেখার কাজ শুরু করে দেই। যতক্ষণ রানওয়েতে চলে ততক্ষণ কলম বন্ধ রাখতে হয়। মোটকথা, বিমান মাত্রই ফ্লাই করার আগে জমিনে কিছুক্ষণ চলে থাকে। পরে সে শূন্যে উড়ে যায়। মহব্বত পয়দা করার জন্য ঠিক এমন সামান্য মেহনত করতে হবে, সামান্য আমল করতে হবে। যখন আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালনার্থে কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করবেন, তখন আপনার মধ্যে মহব্বতের বাষ্প পয়দা হবে এবং দ্রুত উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন হবে।
📄 ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করুন
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসের মর্মও এই যে, যদি কোনো বেগানার প্রতি দৃষ্টি দিতে মন চায় এবং তার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে স্বাদ আস্বাদন করার তীব্র চাহিদা সৃষ্টি হয়, তখন যদি আপনি আল্লাহর ভয়ে এবং আল্লাহর হুকুমের প্রতি লক্ষ করে তার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে নজর হেফাজত করার কষ্ট সহ্য করেন তাহলে এর ফলে আল্লাহ তা'আলা আপনাকে ঈমানের এমন এক স্বাদ আস্বাদন করাবেন, যার তুলনায় গোনাহের স্বাদ তুচ্ছাতিতুচ্ছ। আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'বান্দা! সকাল-সন্ধ্যা আমি তোমার প্রতি কতো নেয়ামতই না বর্ষণ করে চলেছি। বিনিময়ে তোমার কাছে আমার চাওয়া এই যে, আমার খাতিরে অল্প সময়ের জন্য অবৈধ কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে নিজে বাঁচিয়ে রাখবে। যদি তুমি নিজেকে বাঁচাতে পারো তাহলে আমি তোমার কাছে ওয়াদা করছি-
وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
অর্থাৎ, যারা আমার রাস্তায় সামান্য চেষ্টা করবে অবশ্য অবশ্যই আমি তাদেরকে হাত ধরে আমার পথে তুলে নেবো।'
টিকাঃ
১. সূরা আনকাবুত ৬৯
📄 প্রবৃত্তি দমনে এ চিন্তা উপকারী
অতএব সামান্য কতাওবানী করতে হবে। জান্নাত এতো সস্তা নয়। আল্লাহর মহব্বতও এতো সস্তা নয়। আর সেই কতাওবানী হচ্ছে, নফসকে নাজায়েয খাহেশাত থেকে প্রতিহত করার অভ্যাস গড়া। সহজে এ কাজ করার জন্য চিন্তা করুন যে, এটা দুনিয়া, জান্নাত নয়। দুনিয়ার বড়ো থেকে বড়ো কোনো মানুষ- সে অনেক বড়ো প্রশাসক হোক, পুঁজিপতি হোক বা বিত্তশালী হোক- সে কি দাবি করতে পারে যে, দুনিয়াতে সবকিছু আমার মর্জি মতো হচ্ছে? বরং দুনিয়াতে প্রত্যেক মানুষের উপর তার মর্জি বিরোধী অনেক অবস্থা এসে থাকে এবং আসতে থাকবে। এ থেকে বাঁচা অসম্ভব।
আজ যাদের হাতে সারা দুনিয়ার শাসনভার। যাদের কাছে বিত্ত-বৈভবের পাহাড়, নকর-চাকর, পেয়াদা-বরকন্দাজ মওজুদ, দুনিয়ার যাবতীয় উপকরণ যাদের হাতে, তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, তোমাদের মর্জির বাইরে কোনো কাজ হয়েছে কি না? অনেক সময় তাদের মনের বিরুদ্ধে এমন সব কাজ হয়, যা আমার আপনার বিরুদ্ধে হয় না। সুতরাং এটা তো হতে পারে না যে, আমি সবসময় খুশি থাকবো। কোনো কষ্ট-মুসীবত আমাকে স্পর্শ করবে না। কোনো দুঃখ-বেদনা আমাকে স্পর্শ করবে না। কখনো আমার মনের বিরুদ্ধে কিছু হবে না। সুতরাং মনের বিরুদ্ধে নানা রকম অবস্থা আসতে থাকবে।