📄 শুরুতে সামান্য মেহনত ও হিম্মত প্রয়োজন
এর জবাব এই যে, আল্লাহ পাক তাঁর আনুগত্যের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য রেখেছেন যে, যখন কোনো বান্দা শুরুতে সামান্য মেহনت করে আনুগত্য করে তখন আল্লাহ তা'আলা এর ফলে 'মহব্বতের' এক বিশেষ স্তর তাকে দান করেন। পরে বিশেষ স্তরের এই 'মহব্বতের' পরিণতিতে অতিরিক্ত আনুগত্যের জযবা পয়দা হয়। সারকথা হলো, শুরুতে মেহনত ও আমল ছাড়া এমনিতেই কোনো প্রকার মহব্বত পয়দা হয় না। আর এমনিতেই আনুগত্য করা সহজ হয় না। বরং দ্বীন শুরুতে কিছু ত্যাগ চায়। সামান্য হিম্মত ও মেহনত চায়। এই হিম্মত ও মেহনত ছাড়া এই দৌলত অর্জন করা যায় না। সুতরাং শুরুতে মানুষের এই কাজ করতে হবে যে, প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা এবং পার্থিব ও মানবিক চাহিদার বিপরীত মেহনত করতে হবে। মানুষ একবার যখন এই মেহনত করে তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর অন্তরে মহব্বতের একটি নূর পয়াদা করে দেন।
📄 বাম্পের চাপে রেলগাড়ি জোরে চলে
বিষয়টিকে হযরত থানভী রহ. অন্য একজায়গায় একটি উপমা দ্বারা বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি রেলগাড়ির ইঞ্জিনে বাষ্প ভরা থাকে (সে যুগে বাষ্পীয় ইঞ্জিন চলতো, পেট্রোল ও ডিজেল পাওয়া যেতো না) তাহলে রেলগাড়ি খুব জোরে চলে। আর যদি গাড়িতে সবকিছু মওজুদ থাকে, চাকার লাগানো থাকে, কিন্তু ইঞ্জিনে বাষ্প না থাকে, এমতাবস্থায় ধাক্কা লাগিয়ে ট্রেন চালাতে চাইলে সারাদিনে বড়জোর এক-দু'কিলোমিটার যেতে পারবে। পক্ষান্তরে ইঞ্জিনে বাষ্প ভরা থাকলে একদিনে চার-পাঁচশো মাইল পথ অতিক্রম করবে।
📄 ‘মহব্বত’ বাম্পের মতো
হযরত বলেন, ট্রেন দ্রুত গতিতে চলার জন্য দুটি জিনিস দরকার। এক. বাষ্প, দুই. চাকা। যদি ইঞ্জিনে বাষ্প না থাকে, তাহলে শুধু চাকা দ্বারা ট্রেন জোরে চলতে পারবে না। পক্ষান্তরে যদি বাষ্প থাকে কিন্তু চাকা না থাকে, তাহলে বাষ্প এই ট্রেনকে ধ্বংস করে দেবে। ট্রেন জমিনে ধ্বসে যাবে। সুতরাং যেমন বাষ্প প্রয়োজন, তেমনি চাকাও প্রয়োজন।
হযরত থানভী রহ. বলেন, এভাবে মানুষের ভিতরের 'মহব্বত' বাষ্পের সাথে তুল্য, আর আমল চাকার সাথে তুলনীয়। এজন্য সামান্য আমল করতে হবে। পরে এই আমলের মাধ্যমে যখন মহব্বতের বাষ্প পয়দা হবে তখন দ্রুতই উন্নতি হবে এবং দ্রুততার সাথে আমল হবে।
📄 ফ্লাইয়ের পূর্বে রানওয়েতে বিমান চলা
আজকাল উপমাটি এভাবেও বোঝা যেতে পারে যে, যেমন ধরুন বিমান হাওয়ায় ওড়ে। হাওয়ার মাঝে ভেসে ঘণ্টায় ৫০০ মাইল চলে। কিন্তু ফ্লাইয়ের পূর্বে রানওয়েতে চক্কর দেয়া লাগে। এমন কোনো বিমান নেই যা চক্কর না দিয়ে সরাসরি আকাশে ফ্লাই করে। খানিকক্ষণ তাকে রানওয়ের উপর কারের মতো চলতে হয়। এ সময়টি আমার মতো প্যাসেঞ্জারের জন্য খুবই ধৈর্য্যবহ হয়ে থাকে। কেননা যখন জাহাজ উড়াল দেয় তখন আমি আমার লেখার কাজ শুরু করে দেই। যতক্ষণ রানওয়েতে চলে ততক্ষণ কলম বন্ধ রাখতে হয়। মোটকথা, বিমান মাত্রই ফ্লাই করার আগে জমিনে কিছুক্ষণ চলে থাকে। পরে সে শূন্যে উড়ে যায়। মহব্বত পয়দা করার জন্য ঠিক এমন সামান্য মেহনত করতে হবে, সামান্য আমল করতে হবে। যখন আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালনার্থে কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করবেন, তখন আপনার মধ্যে মহব্বতের বাষ্প পয়দা হবে এবং দ্রুত উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন হবে।