📄 দোস্তদের দিয়েছেন অভাব-অনটন এবং দুশমনদের দিয়েছেন স্বচ্ছলতা
বরং কোনো কোনো সময় আল্লাহ পাক ইচ্ছা করে প্রিয় বান্দাদেরকে এই দুনিয়ায় অভাব-অনটনে ফেলেন এবং শত্রুদের ধন-সম্পদে পূর্ণ করেন। এ প্রসঙ্গে মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
ما پروریم دشمن و ما می کشیم دوست
کس را چراں وچوں نہ رسد در قضائے ما
অর্থাৎ, কখনো আমি দুশমনকে লালন করি এবং দোস্তকে হত্যা করি। যেভাবে সামেরী যাদুকরকে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম দ্বারা লালন করা হয়েছে। অপরদিকে ইলিয়াস আলাইহিস সালামকে করাত দ্বারা দ্বি-খণ্ডিত করা হয়েছে। সুতরাং ইহজগতে আল্লাহ পাকের নিয়ামত দোস্ত-দুশমন ও মুসলিম-কাফের সকলের জন্যে অবারিত। আল্লাহ পাকের নিয়امতে কোনো ঘাটতি হয় না।
📄 এসব নেয়ামতের প্রতি মনোযোগ নেই
کوئی جو ناشناس ادا ہو تو کیا علاج
ان کی نوازشوں میں تو کوئی کمی نہیں
'কেউ যদি অকৃতজ্ঞ হয় তাহলে তার চিকিৎসা কী?
তাঁর দান-অনুদানে তো কোনো কমতি নেই।'
তার অনুগ্রহ-বারি তো সর্বদা অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন শুধু চিন্তা করা। আমরা তার নিয়امতের প্রতি গাফেল, চিন্তা করি না। এজন্য নিয়امতের প্রতি খেয়াল নেই। আল্লাহ পাক যদি তাঁর ধ্যান করার তাওফীক দান করেন, তাহলে এটা মোটেই সম্ভব নয় যে, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত সম্পর্কে চিন্তা করার পরও অন্তরে তাঁর মহব্বত পয়দা হবে না। এজন্য গতকাল আমি আরজ করেছিলাম যে, রাতে শোয়ার পূর্বে নেয়ামতসমূহের কথা চিন্তা করুন এবং এর শোকর আদায় করুন। মোটকথা, মহব্বত পয়দা করার দ্বিতীয় তরীকা হলো, আল্লাহ তা'আলার নিয়امতের কথা চিন্তা করা।
📄 তৃতীয় পদ্ধতি: নিজের আচরণ ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা
এরপর হযরত বলেন, এর পাশাপাশি নিজের আচরণ ও কর্ম নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করবে। অর্থাৎ, এ কথা চিন্তা করবে যে, একদিকে বৃষ্টির মতো অবিরাম ধারায় আল্লাহ পাকের নিয়ামত বর্ষিত হচ্ছে, অপরদিকে আল্লাহ পাক সামান্য যেই ইবাদতের হুকুম দিয়েছেন, তাতে আমি অলসতা করছি। যে গোনাহ থেকে তিনি বিরত থাকার আদেশ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রেও অলসতা করছি।
মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
کارساز ما بساز کار ما
فکر ما در کار ما آزار ما
অর্থাৎ, আমাদের কর্ম-নিয়ন্তা দিন-রাত আমাদের কাজে লেগে আছেন। আমাদের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করছেন। আমাদের প্রতি তাঁর নিয়ামত বর্ষণ করছেন। কিন্তু যে কাজ তিনি আমাদের উপর ন্যস্ত করেছেন, সে কাজকে আমরা বিপদ মনে করছি। আমরা নামায পড়া, রোযা রাখা এবং গোনাহ থেকে বেঁচে থাকাকে মুসীবত মনে করছি। আল্লাহ তা'আলার নিয়امতের প্রতিদানে বান্দার কর্মকাণ্ড কতোই না নাশোকরীতে ভরা। যদি মানুষ একথা চিন্তা করে যে, আমার এমন কর্মকাণ্ডের পরও আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আমার উপর নিয়امতের বারি বর্ষণ হচ্ছে, তাহলে আল্লাহর মহব্বত অন্তরে পয়দা হবে। এজন্য হযরত থানভী রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলার নিয়ামতসমূহ এবং প্রতিদানে নিজের আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুন।
📄 নিজের অবস্থান নিয়ে চিন্তা করুন
হযরত থানভী রহ.-এর উপরোক্ত কথার আরেকটি মর্ম হতে পারে, যা তিনি অন্যত্র বর্ণনা করেছেন। যেমন, আমাদের ভাই কালীম সাহেব বলেছেন, তিনি হযরতের কোনো এক ওয়াজে এই ব্যাখ্যা পাঠ করেছেন যে, যেভাবে আল্লাহ তা'আলার নিয়ামত এবং নিজের কর্ম নিয়ে ভাবলে আল্লাহ তা'আলার মহব্বত পয়দা হয়, একইভাবে আল্লাহ পাকের নিয়ামত এবং নিজ অবস্থান সম্পর্কে চিন্তা করার দ্বারাও অন্তরে মহব্বত পয়দা হয়। নিজ অবস্থান নিয়ে চিন্তা করার অর্থ এই যে, আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব, মহত্ব, প্রতিপত্তি, তাঁর রহমত, পূর্ণ শক্তি ও মহা কৌশলের কথা চিন্তা করবে। অপরদিকে নিজের অবস্থানগত দৈন্য কল্পনা করবে যে, আমার কোনো মূল্য নেই। আমি তো কোনো কাজের যোগ্য নই। আমার কাছে যা আছে সবই তো তাঁর দান। নতুবা আমার কাছে তো কিছুই ছিলো না। আমি নিজে নিজেকে অস্তিত্ব দান করতে সক্ষম নই। আমি নিজেকে জীবিত রাখতেও সক্ষম নই। চেহারা, অবয়ব, সুস্থতা ও জ্ঞান কোনোটিই আমি অর্জন করতে সক্ষম নই। এর কিছুই আমার ছিলো না। এসবই তাঁর দান। তিনি চাইলে এগুলো ছিনিয়ে নিতে পারেন। ফিরিয়ে নিতে পারেন।