📄 নিয়ামতসূহের শোকর আদায় করুন
আমাদের অবস্থা এই যে, সামান্য অসুখে পড়তেই সমস্ত নিয়ামতকে ভুলে যাই। অসুখ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সে জন্যে অভিযোগ অনুযোগ আরম্ভ করি। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেন,
وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
'আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ।'
যে সব নিয়ামতে আমি তাকে সব সময় ডুবিয়ে রেখেছি তার অনুভূতি নেই। সে দিকে মনযোগ নেই। এজন্য বলেন, নিয়ামতসমূহ স্মরণ করুন। তার শোকর আদায় করুন। যে সব কষ্ট আপনার হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলার কাছে তাও পেশ করুন। বলুন হে আল্লাহ! আমি কমজোর। এই কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। আপনি দয়া করে আমার এই কষ্ট দূর করে দিন। আপনি অসংখ্য অগণিত নিয়ামত দান করেছেন, কষ্ট দূর করার নিয়ামতটুকুও দান করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে বর্তমান নিয়ামতের না-শোকরী করবেন না。
টিকাঃ
১. সূরা সাবা, আয়াত-১৩
📄 দাঁত এক বিশাল নিয়ামত
আমাদের এক বোনের বয়স হয়ে যখন দাঁত পড়া শুরু হলো, তখন একবার তিনি দাঁত ফেলে এসে আব্বাকে বলতে লাগলেন, আব্বাজান! দাঁত এক অদ্ভুত বস্তু। এটা উঠার সময়েও কষ্ট দেয়, আবার পড়ে যাওয়ার সময়ও কষ্ট দেয়। তাঁর কথার উদ্দেশ্য ছিলো, শৈশবে যখন দাঁত উঠে তখন পেটের পীড়া হয়, কখনও বা জ্বর আসে। এদিকে শেষ বয়সে যখন পড়তে শুরু করে তখনও এটা অনেক কষ্ট দেয়। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব তাঁর কথা শুনে জোরে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন এবং বললেন, আল্লাহর বান্দী! এই দাঁতের কেবল দুটি দিকই তোমার স্মরণে আছে যে, তা উঠার সময়ও কষ্ট দিয়েছে আবার পড়ে যাওয়ার সময়ও কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু এর মাঝের সুদীর্ঘ ৫০-৬০ বছর এ দাঁত দ্বারা যে মজা লুটেছো, যে শান্তি উপভোগ করেছো এবং যে স্বাদ আস্বাদন করেছো, তার কথা কখনো স্মরণ হলো না? বুঝলাম, ওঠতে ও পড়তে কষ্ট হয়, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আল্লাহপ্রদত্ত এই দন্তমালা দ্বারা মণকে মণ, টনকে টন খাদ্য পেষণ করেছো, একে তোমার শরীরের অঙ্গ বানিয়েছো, তার প্রতি খেয়াল যায় না? সামান্য কষ্ট হলে আমরা তা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ি, আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা ভুলে যাই!
📄 আল্লাহওয়ালাগণের সোহবতের ফায়দা
আল্লাহওয়ালাগণের সোহবতের ফায়দা এই হয় যে, তারা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক করে দেন। এ যাবৎ দৃষ্টি কেবল কষ্ট, মুসীবত ও পেরেশানীর দিকে গেছে। আল্লাহওয়ালাদের সোহবতে তা নিয়امতের উপরে পড়তে আরম্ভ করেছে। যতো কষ্ট আছে, সব আল্লাহর সমীপে পেশ করে বলবে, হে আল্লাহ! আমি দুর্বল। আমি এই কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। হে আল্লাহ! দয়া করে এটা দূর করে দিন। কিন্তু যিনি আপনাকে এতো নিয়ামত দিয়েছেন কমপক্ষে তাঁকে ভুলবেন না।
📄 উপকারীর সঙ্গে কী মহব্বত হবে না?
সুতরাং রাতে শোয়ার পূর্বে খানিকক্ষণ বসে নিয়ামতের সমীক্ষা করুন। নিজের দেহের নিয়ামতসমূহ, পারিপার্শ্বিক নিয়ামতসমূহ এবং পরিবারের উপর প্রদত্ত নিয়মতসমূহ সমীক্ষা করুন। এর প্রত্যেকটির জন্য শোকর আদায় করুন। এরই নাম 'মুরাকাবা'। 'মুরাকাবা' অব্যর্থ ব্যবস্থাপত্র। প্রতিদিন করে দেখুন। প্রতিদিন আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতসমূহের মুরাকাবা করার ফলে আপনাআপনি আল্লাহ তা'আলার মহব্বত অন্তরে পয়দা হবে। ধরুন, এক ব্যক্তি প্রতিদিন আপনার দরজায় পয়সা রেখে চলে যায়। আপনি তা তুলে নিয়ে প্রয়োজন পুরা করেন। এভাবে আপনার কাজ সমাধা হয়। তখন আপনার অন্তরে তাকে দেখার বাসনা জাগবে। যে লোক প্রতিদিন আমার দরজায় পয়সা রেখে যায়, ফলে আমার প্রয়োজন পুরা হয়, তাকে একটু দেখি তো! তাকে দেখার সুযোগ হোক বা না হোক তার মহব্বত অন্তরে অবশ্যই সৃষ্টি হবে। একজন মানুষ দিনে একবার মাত্র আপনার দরজায় পয়সা ফেলছে এবং তা দিয়ে আপনার প্রয়োজন মিটছে, তার কল্পনায় যদি আপনার অন্তরে মহব্বত পয়দা হতে পারে; তাহলে যে মহান সত্তা প্রতি মুহূর্তে আপনার প্রতি নিয়ামত বর্ষণ করছেন, সেই সত্তাকে যদিও আপনি দেখতে পাচ্ছেন না, তাই বলে কি আপনি তাঁকে মহব্বত করবেন না? তাঁর নিয়امতের কথা স্মরণ করে কি তাঁর সঙ্গে ভালোবাসা জন্মাবে না। এজন্য প্রতি রাতে ১০ মিনিটের জন্য তাঁর নিয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করে মুরাকাবা করুন এবং প্রত্যেক নিয়امতের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করুন।