📄 মিয়াঁ ছাহেব রহ. জন্মগত ওলী ছিলেন
আমার ওয়ালেদ ছাহেবের একজন উস্তাদ ছিলেন, তাঁর নাম মিয় আসগর হুসাইন রহ.। তিনি 'মিয়াঁ ছাহেব' নামেই খ্যাত ছিলেন। বিস্ময়কর বুযুর্গ ও জন্মগত ওলী ছিলেন। আমার দাদা হযরত মাওলানা ইয়াসীন ছাহেব রহ.-এর শাগরিদ ছিলেন। আমার দাদাজান বলতেন, সে জন্মগত ওলী। শৈশবকালে আমার কাছে পড়তে আসতো। তখন থেকে আজ পর্যন্ত একটি মিথ্যা কথা সে বলেনি। বাচ্চাদেরকে যখন পড়াতাম, কোনো বাচ্চা দুষ্টুমি করলে আমি রেগে কড়া ভাষায় জিজ্ঞাসা করতাম, এ কাজ কে করেছে? সব বাচ্চা মুখ বুজে বসে থাকতো, কিন্তু মিয়াঁ আসগর দাঁড়িয়ে বলতো, ওস্তাদ জি! আমার দ্বারা এ ভুল হয়ে গেছে। এমন সময়ও কখনো তার মুখ দিয়ে মিথ্যা কথা বের হয়নি।
📄 অসুস্থাবস্থায় শোকরের ধরন
আমার আব্বাজান বলতেন, একবার আমি খবর পেলাম, তিনি অসুস্থ। আমি তাঁর সেবায় গিয়ে দেখলাম, প্রচণ্ড জ্বরে তাঁর পুরো শরীর উত্তপ্ত। চরম অস্থির তিনি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হযরত এখন কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শোকর! আমার চোখ দুটি ঠিক মতো কাজ করছে। আল্লাহর শোকর! আমার কানও খুব কাজ করছে, اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ আলহামদু লিল্লাহ! বাকশক্তিও আমার বহাল আছে। আলহামদু লিল্লাহ! কলিজা, হৃৎপিণ্ড ও পাকস্থলী স্বাভাবিক আছে। সামান্য একটু জ্বর হয়েছে এই যা। দু'আ করুন! আল্লাহ পাক তা দূর করে দিন।
দেখুন! যে সব কষ্ট ছিলো না সেগুলোর কথা উল্লেখ করে আগে তার শোকর আদায় করলেন। অবশেষে বললেন, জ্বরের কথা। এঁরা এমন লোক যে, ঠিক কষ্টের মধ্যেও আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করছেন এবং শোকর আদায় করছেন। এরপর সামান্য আকারে কষ্টের কথা বললেন এবং তা আল্লাহর দরবারে পেশ করলেন। এই হলো একজন কৃতজ্ঞ বান্দার কর্মপদ্ধতি।
📄 নিয়ামতসূহের শোকর আদায় করুন
আমাদের অবস্থা এই যে, সামান্য অসুখে পড়তেই সমস্ত নিয়ামতকে ভুলে যাই। অসুখ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সে জন্যে অভিযোগ অনুযোগ আরম্ভ করি। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেন,
وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
'আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ।'
যে সব নিয়ামতে আমি তাকে সব সময় ডুবিয়ে রেখেছি তার অনুভূতি নেই। সে দিকে মনযোগ নেই। এজন্য বলেন, নিয়ামতসমূহ স্মরণ করুন। তার শোকর আদায় করুন। যে সব কষ্ট আপনার হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলার কাছে তাও পেশ করুন। বলুন হে আল্লাহ! আমি কমজোর। এই কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। আপনি দয়া করে আমার এই কষ্ট দূর করে দিন। আপনি অসংখ্য অগণিত নিয়ামত দান করেছেন, কষ্ট দূর করার নিয়ামতটুকুও দান করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে বর্তমান নিয়ামতের না-শোকরী করবেন না。
টিকাঃ
১. সূরা সাবা, আয়াত-১৩
📄 দাঁত এক বিশাল নিয়ামত
আমাদের এক বোনের বয়স হয়ে যখন দাঁত পড়া শুরু হলো, তখন একবার তিনি দাঁত ফেলে এসে আব্বাকে বলতে লাগলেন, আব্বাজান! দাঁত এক অদ্ভুত বস্তু। এটা উঠার সময়েও কষ্ট দেয়, আবার পড়ে যাওয়ার সময়ও কষ্ট দেয়। তাঁর কথার উদ্দেশ্য ছিলো, শৈশবে যখন দাঁত উঠে তখন পেটের পীড়া হয়, কখনও বা জ্বর আসে। এদিকে শেষ বয়সে যখন পড়তে শুরু করে তখনও এটা অনেক কষ্ট দেয়। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব তাঁর কথা শুনে জোরে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন এবং বললেন, আল্লাহর বান্দী! এই দাঁতের কেবল দুটি দিকই তোমার স্মরণে আছে যে, তা উঠার সময়ও কষ্ট দিয়েছে আবার পড়ে যাওয়ার সময়ও কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু এর মাঝের সুদীর্ঘ ৫০-৬০ বছর এ দাঁত দ্বারা যে মজা লুটেছো, যে শান্তি উপভোগ করেছো এবং যে স্বাদ আস্বাদন করেছো, তার কথা কখনো স্মরণ হলো না? বুঝলাম, ওঠতে ও পড়তে কষ্ট হয়, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে আল্লাহপ্রদত্ত এই দন্তমালা দ্বারা মণকে মণ, টনকে টন খাদ্য পেষণ করেছো, একে তোমার শরীরের অঙ্গ বানিয়েছো, তার প্রতি খেয়াল যায় না? সামান্য কষ্ট হলে আমরা তা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ি, আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা ভুলে যাই!