📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 চতুষ্পার্শ্বের নিয়ামতের শোকর

📄 চতুষ্পার্শ্বের নিয়ামতের শোকর


এরপর আপনার চতুর্পার্শ্বের নিয়ামতসমূহের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন এবং বলুন, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বাসস্থান দান করেছেন। যা শান্তির নীড়। না জানি কতো লোক বাস্তুহারা হয়ে জীবন যাপন করছে, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আরামদায়ক বিছানা দান করেছেন, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পরিবার-পরিজন দান করেছেন, যারা আমাকে ভালোবাসে, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। একেকটি বস্তুর কথা চিন্তা করুন এবং আল্লাহর শোকর আদায় করুন।
বিপদ ও পেরেশানির সময় নিয়ামতসমূহের কথা চিন্তা করা
মানুষের উপর কোনো না কোনো কষ্ট ও পেরেশানি বিভিন্ন সময় এসে থাকে। কিন্তু তা নিয়েই ব্যস্ত হওয়া এবং আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে ভুলে যাওয়া মানুষের কাজ এই নয়। বরং দুঃখ, কষ্ট ও পেরেশানির সময়ও যদি চিন্তা করে তাহলে তখনও আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য ও অগণিত নিয়ামত দেখতে পাবে। কিন্তু যেহেতু মানুষ ধৈর্যহীন, তাই কোনো কষ্ট দেখা দিলে তা নিয়েই সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়ামতসমূহ ভুলে যায়。

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মিয়াঁ ছাহেব রহ. জন্মগত ওলী ছিলেন

📄 মিয়াঁ ছাহেব রহ. জন্মগত ওলী ছিলেন


আমার ওয়ালেদ ছাহেবের একজন উস্তাদ ছিলেন, তাঁর নাম মিয় আসগর হুসাইন রহ.। তিনি 'মিয়াঁ ছাহেব' নামেই খ্যাত ছিলেন। বিস্ময়কর বুযুর্গ ও জন্মগত ওলী ছিলেন। আমার দাদা হযরত মাওলানা ইয়াসীন ছাহেব রহ.-এর শাগরিদ ছিলেন। আমার দাদাজান বলতেন, সে জন্মগত ওলী। শৈশবকালে আমার কাছে পড়তে আসতো। তখন থেকে আজ পর্যন্ত একটি মিথ্যা কথা সে বলেনি। বাচ্চাদেরকে যখন পড়াতাম, কোনো বাচ্চা দুষ্টুমি করলে আমি রেগে কড়া ভাষায় জিজ্ঞাসা করতাম, এ কাজ কে করেছে? সব বাচ্চা মুখ বুজে বসে থাকতো, কিন্তু মিয়াঁ আসগর দাঁড়িয়ে বলতো, ওস্তাদ জি! আমার দ্বারা এ ভুল হয়ে গেছে। এমন সময়ও কখনো তার মুখ দিয়ে মিথ্যা কথা বের হয়নি।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অসুস্থাবস্থায় শোকরের ধরন

📄 অসুস্থাবস্থায় শোকরের ধরন


আমার আব্বাজান বলতেন, একবার আমি খবর পেলাম, তিনি অসুস্থ। আমি তাঁর সেবায় গিয়ে দেখলাম, প্রচণ্ড জ্বরে তাঁর পুরো শরীর উত্তপ্ত। চরম অস্থির তিনি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হযরত এখন কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শোকর! আমার চোখ দুটি ঠিক মতো কাজ করছে। আল্লাহর শোকর! আমার কানও খুব কাজ করছে, اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ আলহামদু লিল্লাহ! বাকশক্তিও আমার বহাল আছে। আলহামদু লিল্লাহ! কলিজা, হৃৎপিণ্ড ও পাকস্থলী স্বাভাবিক আছে। সামান্য একটু জ্বর হয়েছে এই যা। দু'আ করুন! আল্লাহ পাক তা দূর করে দিন।
দেখুন! যে সব কষ্ট ছিলো না সেগুলোর কথা উল্লেখ করে আগে তার শোকর আদায় করলেন। অবশেষে বললেন, জ্বরের কথা। এঁরা এমন লোক যে, ঠিক কষ্টের মধ্যেও আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করছেন এবং শোকর আদায় করছেন। এরপর সামান্য আকারে কষ্টের কথা বললেন এবং তা আল্লাহর দরবারে পেশ করলেন। এই হলো একজন কৃতজ্ঞ বান্দার কর্মপদ্ধতি।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নিয়ামতসূহের শোকর আদায় করুন

📄 নিয়ামতসূহের শোকর আদায় করুন


আমাদের অবস্থা এই যে, সামান্য অসুখে পড়তেই সমস্ত নিয়ামতকে ভুলে যাই। অসুখ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সে জন্যে অভিযোগ অনুযোগ আরম্ভ করি। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেন,
وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
'আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ।'
যে সব নিয়ামতে আমি তাকে সব সময় ডুবিয়ে রেখেছি তার অনুভূতি নেই। সে দিকে মনযোগ নেই। এজন্য বলেন, নিয়ামতসমূহ স্মরণ করুন। তার শোকর আদায় করুন। যে সব কষ্ট আপনার হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলার কাছে তাও পেশ করুন। বলুন হে আল্লাহ! আমি কমজোর। এই কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। আপনি দয়া করে আমার এই কষ্ট দূর করে দিন। আপনি অসংখ্য অগণিত নিয়ামত দান করেছেন, কষ্ট দূর করার নিয়ামতটুকুও দান করুন। আল্লাহর ওয়াস্তে বর্তমান নিয়ামতের না-শোকরী করবেন না。

টিকাঃ
১. সূরা সাবা, আয়াত-১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00