📄 রাতে শোয়ার পূর্বে এই আমল করুন
এসব নিয়ামত সম্পর্কে মুরাকাবা করুন। এই মুরাকাবার ফল এই হবে যে, যেই সত্তা এসব নিয়ামত দান করেছেন তাঁর সাথে মহব্বত পয়দা হবে। মুরাকাবার উত্তম পদ্ধতি হযরত থানভী রহ. এই বলেছেন যে, রাতে শোয়ার পূর্বে ৫-১০ মিনিট মুরাকাবার জন্য নির্ধারণ করুন। ওই মুরকাবায় আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতরাজি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করুন। একেকটি নিয়ামতের কথা স্মরণ করে আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করুন। বলুন, হে আল্লাহ! আপনি দয়া করে আমাকে চক্ষু দান করেছেন, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমার চোখকে সুস্থ ও দৃষ্টিসম্পন্ন করেছেন, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে কান দান করেছেন এবং একে আপনি শ্রবণশক্তিসম্পন্ন করেছেন اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জিহ্বা দান করে একে বাকশক্তিসম্পন্ন করেছেন اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে দন্তরাজি দান করে একে সুস্থ-সবল করেছেন এবং খাদ্য গ্রহণের কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পা দান করেছেন এবং এর দ্বারা চলাফেরা করার শক্তি দিয়েছেন, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হাত দিয়েছেন এবং আমি আমার সকল কাজ এই হাত দ্বারা সম্পন্ন করছি, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। এভাবে একেকটি অঙ্গের কল্পনা করে এর ভিতরে যেসব নিয়ামত আল্লাহ পাক দান করেছেন সেগুলোর কথা স্মরণ করুন এবং শোকর আদায় করুন।
📄 চতুষ্পার্শ্বের নিয়ামতের শোকর
এরপর আপনার চতুর্পার্শ্বের নিয়ামতসমূহের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন এবং বলুন, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে বাসস্থান দান করেছেন। যা শান্তির নীড়। না জানি কতো লোক বাস্তুহারা হয়ে জীবন যাপন করছে, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আরামদায়ক বিছানা দান করেছেন, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পরিবার-পরিজন দান করেছেন, যারা আমাকে ভালোবাসে, اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ। একেকটি বস্তুর কথা চিন্তা করুন এবং আল্লাহর শোকর আদায় করুন।
বিপদ ও পেরেশানির সময় নিয়ামতসমূহের কথা চিন্তা করা
মানুষের উপর কোনো না কোনো কষ্ট ও পেরেশানি বিভিন্ন সময় এসে থাকে। কিন্তু তা নিয়েই ব্যস্ত হওয়া এবং আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে ভুলে যাওয়া মানুষের কাজ এই নয়। বরং দুঃখ, কষ্ট ও পেরেশানির সময়ও যদি চিন্তা করে তাহলে তখনও আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য ও অগণিত নিয়ামত দেখতে পাবে। কিন্তু যেহেতু মানুষ ধৈর্যহীন, তাই কোনো কষ্ট দেখা দিলে তা নিয়েই সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়ামতসমূহ ভুলে যায়。
📄 মিয়াঁ ছাহেব রহ. জন্মগত ওলী ছিলেন
আমার ওয়ালেদ ছাহেবের একজন উস্তাদ ছিলেন, তাঁর নাম মিয় আসগর হুসাইন রহ.। তিনি 'মিয়াঁ ছাহেব' নামেই খ্যাত ছিলেন। বিস্ময়কর বুযুর্গ ও জন্মগত ওলী ছিলেন। আমার দাদা হযরত মাওলানা ইয়াসীন ছাহেব রহ.-এর শাগরিদ ছিলেন। আমার দাদাজান বলতেন, সে জন্মগত ওলী। শৈশবকালে আমার কাছে পড়তে আসতো। তখন থেকে আজ পর্যন্ত একটি মিথ্যা কথা সে বলেনি। বাচ্চাদেরকে যখন পড়াতাম, কোনো বাচ্চা দুষ্টুমি করলে আমি রেগে কড়া ভাষায় জিজ্ঞাসা করতাম, এ কাজ কে করেছে? সব বাচ্চা মুখ বুজে বসে থাকতো, কিন্তু মিয়াঁ আসগর দাঁড়িয়ে বলতো, ওস্তাদ জি! আমার দ্বারা এ ভুল হয়ে গেছে। এমন সময়ও কখনো তার মুখ দিয়ে মিথ্যা কথা বের হয়নি।
📄 অসুস্থাবস্থায় শোকরের ধরন
আমার আব্বাজান বলতেন, একবার আমি খবর পেলাম, তিনি অসুস্থ। আমি তাঁর সেবায় গিয়ে দেখলাম, প্রচণ্ড জ্বরে তাঁর পুরো শরীর উত্তপ্ত। চরম অস্থির তিনি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হযরত এখন কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শোকর! আমার চোখ দুটি ঠিক মতো কাজ করছে। আল্লাহর শোকর! আমার কানও খুব কাজ করছে, اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ আলহামদু লিল্লাহ! বাকশক্তিও আমার বহাল আছে। আলহামদু লিল্লাহ! কলিজা, হৃৎপিণ্ড ও পাকস্থলী স্বাভাবিক আছে। সামান্য একটু জ্বর হয়েছে এই যা। দু'আ করুন! আল্লাহ পাক তা দূর করে দিন।
দেখুন! যে সব কষ্ট ছিলো না সেগুলোর কথা উল্লেখ করে আগে তার শোকর আদায় করলেন। অবশেষে বললেন, জ্বরের কথা। এঁরা এমন লোক যে, ঠিক কষ্টের মধ্যেও আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করছেন এবং শোকর আদায় করছেন। এরপর সামান্য আকারে কষ্টের কথা বললেন এবং তা আল্লাহর দরবারে পেশ করলেন। এই হলো একজন কৃতজ্ঞ বান্দার কর্মপদ্ধতি।