📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 পাকস্থলীতে স্বয়ংক্রিয় মেশিন সেট করা

📄 পাকস্থলীতে স্বয়ংক্রিয় মেশিন সেট করা


স্বাদ গ্রহণের উদ্দেশ্যে আপনি সব ধরনের খাদ্য মুখে ঢেলে দিয়ে গলধঃকরণ করছেন। ইফতারের সময় সম্পর্কে ভাবুন, আপনি কী করছেন! اینমাত্র মিষ্টি দ্রব্য খেলেন, টক-ঝাল খেলেন, পিঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনী খেলেন, পরে খেলেন খেজুর, সবই খেলেন। ভিতরে গিয়ে কী হবে তা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু আল্লাহ পাক আপনার ভেতরে একটি কারখানা স্থাপন করে দিয়েছেন, যা প্রতিটি বস্তুকে পৃথক করছে এবং ছাঁকছে। মানুষ স্বাদ গ্রহণের জন্য খাদ্য-অখাদ্য বহুত কিছু গিলছে। এজন্যে আল্লাহ তা'আলা ভিতরে একটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন বসিয়ে দিয়েছেন যা প্রত্যেক খাদ্যদ্রব্যকে পৃথক করছে। যে খাদ্য দ্বারা রক্ত তৈরি করার তা রক্ত তৈরি করছে। যে খাদ্য দ্বারা শক্তি অর্জন করা দরকার তা দ্বারা শক্তি লাভ হচ্ছে। যা অতিরিক্ত ও অবাঞ্ছিত তা বের হয়ে যাচ্ছে। একদিক থেকে খাদ্য ঢুকছে, অপর দিক থেকে খালাস হচ্ছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা, যা আল্লাহ পাকের সৃষ্টি।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বিনা দরখাস্তে আলাহ তা‘আলা এসব দিয়েছেন

📄 বিনা দরখাস্তে আলাহ তা‘আলা এসব দিয়েছেন


এই কুদরতি ব্যবস্থাপনার কোনো একটি যদি ঢিল হয়ে যায় তাহলে মানুষ অস্থির ও পেরেশান হয়ে যায়। তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এবার ডাক্তারের পেছনে দৌড়াচ্ছে। আপনি কী আল্লাহ তা'আলার কাছে আবেদন করেছিলেন যে, আমি খানা খাবো, আপনি খাবারের সব ব্যবস্থাপনা ঠিক করে দিন। আমাদের দেহের মধ্যে এমন কলিজা বানিয়ে দিন। গুর্দা বানিয়ে দিন। এমন পাকস্থলি বসিয়ে দিন! এমন দরখাস্ত কি আপনি আল্লাহ তা'আলার কাছে করেছিলেন? না, বরং তিনি কেবল দয়া ও অনুগ্রহ করে এই গোটা কারখানা বানিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়টিই মাওলানা রূমীর রহ. তাঁর কবিতায় এভাবে তুলে ধরেছেন-
ما نبودیم و تقاضه ما نبود
لطف او نا گفته ها می شنود
অর্থাৎ, আমরা অস্তিত্বহীন ছিলাম। আমাদের কোনো আবেদন ও চাহিদা ছিলো না। কিন্তু তাঁর দয়া আমাদের না বলা আবেদন শুনে এই কারখানা পয়দা করেছেন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 চোখ বিশাল এক নিয়ামত

📄 চোখ বিশাল এক নিয়ামত


চোখ একটি বিস্ময়কর কারখানা। এর সাথে পৃথিবীর কোনো কারখানার তুলনা হয় না। কোনো মানুষ এই কারখানা বানাতে চাইলে কোটি কোটি টাকাতেও তা সম্ভব হবে না। অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ এসব নিয়ামত দেখে, এগুলো নিয়ে ভাবে, চিন্তা করে, আর বলে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এই চক্ষু দান করেছেন। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত এই চোখ দিয়ে নয়নভিরাম দৃশ্যাবলী দেখছি। এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছি।
আপনার চিন্তায় কি কখনও এটা নিয়ামত হওয়ার কথা জেগেছে? কখনও কি এই নিয়ামতের শোকর আদায় করেছেন? বলেছেন কি, হে আল্লাহ! আপনি এই চক্ষু দিয়েছেন। এতে দৃষ্টিশক্তি ও আলো দান করেছেন। আমি এর শোকর আদায় করিনি। বরং গাফলতী ও উদাসীনতার সাথে এই মহান নিয়ামত ব্যবহার করছেন। বেপরোয়াভাবে একে কাজে লাগাচ্ছেন। আল্লাহ না করুন, এই দৃষ্টিশক্তি যদি কখনো নষ্ট হয়ে যায়, কিংবা কমে যায়, তখন বুঝতে পারবেন যে, এটা কতো বড়ো নিয়ামত ছিলো, যা আমার হাতছাড়া হয়ে গেছে। কিন্তু এখন বেপরোয়াভাবে এটা ব্যবহার করছেন। এটা ব্যবহারে হালাল-হারামের বাছ-বিচার করছেন না। সুতরাং মাঝে মধ্যে একটু ভাবুন! কতো বড়ো নিয়ামত এই চোখ!। এমন বিশাল নিয়ামত অর্জন করা কি আমাদের সাধ্যে ছিলো? একবার এই নেয়ামত চলে গেলে লাখো-কোটি টাকা খরচ করলেও আর ফিরে আসবে না। শুধু কী তাই, আল্লাহ পাক চোখের হেফাজতের জন্যে দুটি পাহারাদার বসিয়েছেন। চোখের পাতা হলো সেই পাহারাদার। কোনো কিছু চোখের দিকে ধেয়ে এলে চোখের পাতা তা আটকে দেয়। যাতে করে চোখে আঘাত না লাগে। কারণ চোখ এমনই স্পর্শকাতর অঙ্গ যে, সামান্য আঘাতে তা খারাপ হয়ে যেতে পারে। এমন মহান নিয়ামতের ব্যাপারে ভাবুন, চিন্তা করুন এবং শোকর আদায় করুন!

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 কান ও জিহ্বা বিস্ময়কর দু‘টি নিয়ামত

📄 কান ও জিহ্বা বিস্ময়কর দু‘টি নিয়ামত


কান আল্লাহ পাকের দেওয়া বিশাল এক নিয়ামত। যারা শ্রবণশক্তি থেকে বঞ্চিত তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখুন এর মূল্য কতো! আল্লাহ তা'আলা জিহ্বা ও বাকশক্তি দান করেছেন। আত্মার ভাব প্রকাশের উপকরণ দিয়েছেন। নতুবা অন্তরে আবেগের ঢেউ তরঙ্গায়িত হতো, কিন্তু জিহ্বা দিয়ে কিছুই বলতে পারতেন না। এর মূল্য তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, যাদের জিহ্বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছে। তারা কথা বলতে চায়, আবেগ প্রকাশ করতে চায়, কিন্তু সক্ষম হয় না। আল্লাহ তা'আলা আপনাকে বিনামূলে এই নিয়ামত দান করেছেন। মোটকথা, আপাদমস্তকের প্রতিটি অঙ্গ নিয়ে ভাবুন, আল্লাহ পাক আপনাকে কতো সব নিয়ামত দান করেছেন!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00