📄 ক্ষুধা কখন লাগে?
মানুষ মনে করে আমার ক্ষুধা লেগেছে। ক্ষুধা দূর করতে সে খাদ্য গ্রহণ করে। স্বাদ আস্বাদনের জন্য খাবার খাচ্ছে। কিন্তু নির্বোধ এই মানুষের খবরও নেই যে, এখন সরকারী এই মেশিনের তেল দরকার। জ্বালানি দরকার। এই তেল কখন শেষ হচ্ছে এবং কতটুকু বাকী থাকছে, তা জানার জন্য তো মিটার লাগানো নেই। গাড়ীর মধ্যে আপনি মিটার লাগিয়েছেন, যদ্দারা আপনি জানতে পারছেন যে, গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে আসছে এখন এতে পেট্রোল দিতে হবে। এই দেহের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা খুব সুস্বাদু এক মিটার বসিয়ে দিয়েছেন। যখনই এর জ্বালানির দরকার হয়, তখনই ক্ষুধা লাগে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবারের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কিন্তু নির্বোধ মানুষ মনে করে, ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার গ্রহণ করছি। স্বাদ ও তৃপ্তির জন্য খানা খাচ্ছি।
📄 ‘আস্বাদন’ শক্তি এক বিশাল নিয়ামত
আল্লাহ পাক মুখের মধ্যে 'আস্বাদন' শক্তি বসিয়ে দিয়েছেন। যাতে স্বাদ গ্রহণের জন্য মানুষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়। স্বাদের চাহিদা মেটানোর জন্যে খাবার খায়। প্রকৃতপক্ষে দেহের পুষ্টির জন্য খাবারের দরকার হয়। আল্লাহ তা'আলা এই ছোট্ট জিহ্বার মধ্যে আস্বাদন শক্তি বসিয়ে দিয়েছেন। সুস্বাদু খাবার যদি আপনি নাকের উপর রাখেন, কিংবা দেহের অন্য কোনো অঙ্গের উপর রাখেন তাহলে স্বাদ অনুভব হবে কি? তিতা না মিঠা, বুঝে আসবে কি? মোটেই বুঝে আসবে না। কিন্তু ছোট্ট এই জিহ্বাতে আল্লাহ তা'আলা এমন লালা দিয়েছেন যে, এর ফলে স্বাদ অনুভূত হয় এবং খাবার মজা লাগে। আস্বাদন শক্তি নষ্ট হয়ে গেলে সুস্বাদু বস্তুও তিতা লাগে।
📄 যদি আস্বাদন শক্তি নষ্ট হয়ে যায়
আমার স্মরণ আছে, একবার আমার সর্দি লেগেছিলো। ফলে কিছুই স্বাদ লাগতো না। তখন এক জায়গায় দাওয়াত খেতে যাই। একজন প্রথমে ঝাল কিমা এনে দেয়। তারপর মিঠাই ক্ষীর এনে দেয়। আপনাদেরকে সত্য বলছি, ঝাল কিমা আর মিষ্টি ক্ষীরের মধ্যে তারতম্য করতে পারিনি। না মরিচের ঝাল অনুভব হচ্ছিলো, আর না মিষ্টির মিষ্টতা। কেবল গিলেছি। সাধারণ অবস্থায় আল্লাহ পাক জিহ্বায় এমন স্বাদ গ্রহণের শক্তি দান করেছেন যাতে খাবারে মজা আসে। এই স্বাদ আস্বাদনের জন্যই মানুষ নানা প্রকারের বিচিত্র সব খাদ্য তৈরি করে। আপনাদের স্বাদ নিবারণ ও পরিতৃপ্ত করার জন্য বিশাল একদল মাখলুক দিন-রাত কাজ করে চলছে। মানুষ মনে করছে আমি রসনা পরিতৃপ্ত করছি এবং স্বাদ আস্বাদন করছি। অথচ এর দ্বারা তার শরীরে পুষ্টি লাভ হচ্ছে। শরীরে জ্বালানি মিলছে।
📄 পাকস্থলীতে স্বয়ংক্রিয় মেশিন সেট করা
স্বাদ গ্রহণের উদ্দেশ্যে আপনি সব ধরনের খাদ্য মুখে ঢেলে দিয়ে গলধঃকরণ করছেন। ইফতারের সময় সম্পর্কে ভাবুন, আপনি কী করছেন! اینমাত্র মিষ্টি দ্রব্য খেলেন, টক-ঝাল খেলেন, পিঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনী খেলেন, পরে খেলেন খেজুর, সবই খেলেন। ভিতরে গিয়ে কী হবে তা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু আল্লাহ পাক আপনার ভেতরে একটি কারখানা স্থাপন করে দিয়েছেন, যা প্রতিটি বস্তুকে পৃথক করছে এবং ছাঁকছে। মানুষ স্বাদ গ্রহণের জন্য খাদ্য-অখাদ্য বহুত কিছু গিলছে। এজন্যে আল্লাহ তা'আলা ভিতরে একটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন বসিয়ে দিয়েছেন যা প্রত্যেক খাদ্যদ্রব্যকে পৃথক করছে। যে খাদ্য দ্বারা রক্ত তৈরি করার তা রক্ত তৈরি করছে। যে খাদ্য দ্বারা শক্তি অর্জন করা দরকার তা দ্বারা শক্তি লাভ হচ্ছে। যা অতিরিক্ত ও অবাঞ্ছিত তা বের হয়ে যাচ্ছে। একদিক থেকে খাদ্য ঢুকছে, অপর দিক থেকে খালাস হচ্ছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা, যা আল্লাহ পাকের সৃষ্টি।