📄 নিজের দেহ নিয়ে ভাবুন
এগুলো তো 'দিগন্তে'র কথা। আপনি আপনার দেহ নিয়ে চিন্তা করুন। মাথা থেকে পাতা এবং চুল থেকে নখ পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গেই আল্লাহর অপরিসীম কুদরত, তাঁর অপরূপ সৃষ্টিকৌশল এবং অবারিত রহমতের কারিশমা বিদ্যমান। আপনাদের তো এ কথাও জানা নেই যে, আপনাদের দেহের ভিতর কী হচ্ছে এবং কী ঘটছে! এখনো পর্যন্ত আপনারা নিজের দেহকে পর্যন্ত উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হননি যে, আপনার দেহের কোন্ অঙ্গ কী কাজ করছে। যখন থেকে মানুষ চিন্তা করতে শুরু করেছে, তখন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্বের আবিষ্কারে মত্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞান এ গবেষণায় মত্ত যে, এই ছয় ফুট দেহের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা কী অদ্ভুত কারখানা সেট করেছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত পরিপূর্ণরূপে এর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। যতটুকু আবিষ্কার করা গেছে তাতে জানা গেছে যে, এটা কুদরতের এক অদ্ভুত কারখানা। দুনিয়ার কোনো কারখানা, কোনো ফ্যাক্টরী, কোনো মিল এমন অদ্ভুত নয়, যেমনটি আল্লাহ পাকের সৃষ্টি মানবদেহের ফ্যাক্টরী। মানুষ এই চলমান ফ্যাক্টরীকে নিয়ে এদিক সেদিক চলাফেরা করছে, এর ব্যবহার করছে, এর একেকটি অঙ্গ থেকে উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু তার নিজেরই জানা নেই যে, এর ভিতরে কী হচ্ছে।
📄 ক্ষুধা কখন লাগে?
মানুষ মনে করে আমার ক্ষুধা লেগেছে। ক্ষুধা দূর করতে সে খাদ্য গ্রহণ করে। স্বাদ আস্বাদনের জন্য খাবার খাচ্ছে। কিন্তু নির্বোধ এই মানুষের খবরও নেই যে, এখন সরকারী এই মেশিনের তেল দরকার। জ্বালানি দরকার। এই তেল কখন শেষ হচ্ছে এবং কতটুকু বাকী থাকছে, তা জানার জন্য তো মিটার লাগানো নেই। গাড়ীর মধ্যে আপনি মিটার লাগিয়েছেন, যদ্দারা আপনি জানতে পারছেন যে, গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে আসছে এখন এতে পেট্রোল দিতে হবে। এই দেহের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা খুব সুস্বাদু এক মিটার বসিয়ে দিয়েছেন। যখনই এর জ্বালানির দরকার হয়, তখনই ক্ষুধা লাগে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবারের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কিন্তু নির্বোধ মানুষ মনে করে, ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার গ্রহণ করছি। স্বাদ ও তৃপ্তির জন্য খানা খাচ্ছি।
📄 ‘আস্বাদন’ শক্তি এক বিশাল নিয়ামত
আল্লাহ পাক মুখের মধ্যে 'আস্বাদন' শক্তি বসিয়ে দিয়েছেন। যাতে স্বাদ গ্রহণের জন্য মানুষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়। স্বাদের চাহিদা মেটানোর জন্যে খাবার খায়। প্রকৃতপক্ষে দেহের পুষ্টির জন্য খাবারের দরকার হয়। আল্লাহ তা'আলা এই ছোট্ট জিহ্বার মধ্যে আস্বাদন শক্তি বসিয়ে দিয়েছেন। সুস্বাদু খাবার যদি আপনি নাকের উপর রাখেন, কিংবা দেহের অন্য কোনো অঙ্গের উপর রাখেন তাহলে স্বাদ অনুভব হবে কি? তিতা না মিঠা, বুঝে আসবে কি? মোটেই বুঝে আসবে না। কিন্তু ছোট্ট এই জিহ্বাতে আল্লাহ তা'আলা এমন লালা দিয়েছেন যে, এর ফলে স্বাদ অনুভূত হয় এবং খাবার মজা লাগে। আস্বাদন শক্তি নষ্ট হয়ে গেলে সুস্বাদু বস্তুও তিতা লাগে।
📄 যদি আস্বাদন শক্তি নষ্ট হয়ে যায়
আমার স্মরণ আছে, একবার আমার সর্দি লেগেছিলো। ফলে কিছুই স্বাদ লাগতো না। তখন এক জায়গায় দাওয়াত খেতে যাই। একজন প্রথমে ঝাল কিমা এনে দেয়। তারপর মিঠাই ক্ষীর এনে দেয়। আপনাদেরকে সত্য বলছি, ঝাল কিমা আর মিষ্টি ক্ষীরের মধ্যে তারতম্য করতে পারিনি। না মরিচের ঝাল অনুভব হচ্ছিলো, আর না মিষ্টির মিষ্টতা। কেবল গিলেছি। সাধারণ অবস্থায় আল্লাহ পাক জিহ্বায় এমন স্বাদ গ্রহণের শক্তি দান করেছেন যাতে খাবারে মজা আসে। এই স্বাদ আস্বাদনের জন্যই মানুষ নানা প্রকারের বিচিত্র সব খাদ্য তৈরি করে। আপনাদের স্বাদ নিবারণ ও পরিতৃপ্ত করার জন্য বিশাল একদল মাখলুক দিন-রাত কাজ করে চলছে। মানুষ মনে করছে আমি রসনা পরিতৃপ্ত করছি এবং স্বাদ আস্বাদন করছি। অথচ এর দ্বারা তার শরীরে পুষ্টি লাভ হচ্ছে। শরীরে জ্বালানি মিলছে।