📄 এ আকাশ আমার জন্য! এ জমিন আমার জন্য!
আমার ওয়ালেদ মাজেদ মুফতী মুহাম্মাদ শফী' রহ.-এর একটি কবিতা রয়েছে। তাতে তিনি বলেন,
یہ زمیں میرے لئے یہ آسماں میرے لئے
چل رہا ہے دیر سے یہ کارواں میرے لئے
এ পৃথিবী আমার জন্যে, এ আকাশ আমার জন্যে
আদি কাল থেকে এ কাফেলা চলমান আমার জন্যে
অর্থাৎ, ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল আল্লাহ পাক আমার কল্যাণে ও আমার উপকারের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। আপনি যদি একটু সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন, এই সূর্য আপনার খেদমত করছে, এই তারকারাজি আপনার সেবা করছে, এই বাতাস আপনার খেদমত করছে। সমুদ্র, নদী, পাহাড়, বন সবকিছুই আল্লাহ পাক আপনার জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন,
هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا
'যা কিছু তিনি জমিনে পয়দা করেছেন তা তোমাদের জন্যই পয়দা করেছেন।'
টিকাঃ
১. সূরা আল বাকারা, আয়াত-২৯
📄 এই সূর্য আমার জন্য
প্রতিদিন সকালে সূর্য উদিত হয়। কিরণ ছড়ায়। আলো ও তাপ দেয়। সন্ধ্যায় অস্ত যায়। এসব কেন হয়? আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, হে মানুষ! এতো বড়ো সৃষ্টি সূর্যকে আমি তোমার জন্যই পয়দা করেছি, যেন তুমি আলো পাও। তাপ পাও। এর আলোতে তুমি তোমার জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারো। একে এতো দূরে রেখেছি, যাতে এর দ্বারা তোমার উপকার হয় এবং তুমি এর ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারো। এই সূর্যের কিরণের মাঝে উপকারী ও অপকারী দুটি বিপরীতমুখী অংশ আছে। অপকারী অংশ ছেঁকে মানবজাতিকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ পাক পুরো দুনিয়ার আশেপাশে চালনির একটি 'স্তর' বসিয়ে দিয়েছেন, যাকে আজকাল (বিজ্ঞানের পরিভাষায়) OZONE LAYER বলা হয়। এই ওজনস্তর খুবই সূক্ষ্ম। এই 'চালনি' সৌর কিরণকে ছেঁকে কেবল এর উপকারী অংশটুকু মানবজাতিকে পৌঁচিয়ে থাকে এবং অপকারী অংশটুকু প্রতিহত করে রাখে। সুদীর্ঘকাল পরে এই ওজনস্তর আবিষ্কৃত হয়েছে। নয়ত মানুষ এগুলো সম্পর্কে অজ্ঞই থেকে যেতো। কিন্তু আসমান-জমিন সৃষ্টির সূচনাতেই আল্লাহ পাক এই ওজনস্তর সেট করে দিয়েছেন। জানি না আরো অজানা কতো বস্তু ও পদার্থ তিনি আমাদের জন্য সৃষ্টি করে রেখেছেন! একেকটি বস্তুর প্রকৃতি ও স্বরূপ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে আল্লাহ পাকের লাখো নেয়ামত বিদ্যমান দেখতে পাওয়া যায়।
📄 নিজের দেহ নিয়ে ভাবুন
এগুলো তো 'দিগন্তে'র কথা। আপনি আপনার দেহ নিয়ে চিন্তা করুন। মাথা থেকে পাতা এবং চুল থেকে নখ পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গেই আল্লাহর অপরিসীম কুদরত, তাঁর অপরূপ সৃষ্টিকৌশল এবং অবারিত রহমতের কারিশমা বিদ্যমান। আপনাদের তো এ কথাও জানা নেই যে, আপনাদের দেহের ভিতর কী হচ্ছে এবং কী ঘটছে! এখনো পর্যন্ত আপনারা নিজের দেহকে পর্যন্ত উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হননি যে, আপনার দেহের কোন্ অঙ্গ কী কাজ করছে। যখন থেকে মানুষ চিন্তা করতে শুরু করেছে, তখন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্বের আবিষ্কারে মত্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞান এ গবেষণায় মত্ত যে, এই ছয় ফুট দেহের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা কী অদ্ভুত কারখানা সেট করেছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত পরিপূর্ণরূপে এর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। যতটুকু আবিষ্কার করা গেছে তাতে জানা গেছে যে, এটা কুদরতের এক অদ্ভুত কারখানা। দুনিয়ার কোনো কারখানা, কোনো ফ্যাক্টরী, কোনো মিল এমন অদ্ভুত নয়, যেমনটি আল্লাহ পাকের সৃষ্টি মানবদেহের ফ্যাক্টরী। মানুষ এই চলমান ফ্যাক্টরীকে নিয়ে এদিক সেদিক চলাফেরা করছে, এর ব্যবহার করছে, এর একেকটি অঙ্গ থেকে উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু তার নিজেরই জানা নেই যে, এর ভিতরে কী হচ্ছে।
📄 ক্ষুধা কখন লাগে?
মানুষ মনে করে আমার ক্ষুধা লেগেছে। ক্ষুধা দূর করতে সে খাদ্য গ্রহণ করে। স্বাদ আস্বাদনের জন্য খাবার খাচ্ছে। কিন্তু নির্বোধ এই মানুষের খবরও নেই যে, এখন সরকারী এই মেশিনের তেল দরকার। জ্বালানি দরকার। এই তেল কখন শেষ হচ্ছে এবং কতটুকু বাকী থাকছে, তা জানার জন্য তো মিটার লাগানো নেই। গাড়ীর মধ্যে আপনি মিটার লাগিয়েছেন, যদ্দারা আপনি জানতে পারছেন যে, গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে আসছে এখন এতে পেট্রোল দিতে হবে। এই দেহের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা খুব সুস্বাদু এক মিটার বসিয়ে দিয়েছেন। যখনই এর জ্বালানির দরকার হয়, তখনই ক্ষুধা লাগে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবারের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কিন্তু নির্বোধ মানুষ মনে করে, ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার গ্রহণ করছি। স্বাদ ও তৃপ্তির জন্য খানা খাচ্ছি।