📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহর নেয়ামতরাজি এবং নিজের আমল সম্পর্কে চিন্তা করা

📄 আল্লাহর নেয়ামতরাজি এবং নিজের আমল সম্পর্কে চিন্তা করা


হযরত থানভী রহ. এবার 'মহব্বত' পয়দা হওয়ার দ্বিতীয় উপকরণ বর্ণনা করছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, 'আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত ও অনুগ্রহসমূহ এবং নিজের আচরণ তথা কার্যকলাপ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা।'
এতে তিনি দু'টি বিষয় বর্ণনা করেছেন। এক. আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত ও অনুগ্রহসমূহকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। দুই. নিজের কাজকর্ম ও আচার-ব্যবহার নিয়ে চিন্তা করা।
আল্লাহ তা'আলার মহব্বত ও তাঁর সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্যে এ দুটি বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা অব্যর্থ মহৌষধ। প্রতিমুহূর্তে আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতরাজির যেই বর্ষণ হচ্ছে, এর ধ্যান করুন, ভাবুন ও মুরাকাবা করুন। মুরাকাবা ও ধ্যান করলে বুঝে আসবে, অন্যথায় তা বুঝেও আসবে না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নেয়ামতসমূহ সম্পর্কে মুরাকাবা ও ধ্যান করুন

📄 নেয়ামতসমূহ সম্পর্কে মুরাকাবা ও ধ্যান করুন


মানুষ সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতরাজির মধ্যে লালিত পালিত হচ্ছে। প্রতিটি মানবসত্তার উপর প্রতিমুহূর্তে আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য নেয়ামত ও রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছে। কিন্তু এসবের দিকে আদৌ ধ্যান-খেয়াল যায় না যে, এগুলোও নেয়ামত এবং এগুলোও আমরা ভোগ করছি। এর দরুণ মানুষ উদাসীন হয়ে আছে। কিন্তু মানুষ গুরুত্ব ও ধ্যানের সাথে ঐসব নেয়ামতের প্রতি মনোনিবেশ করলে সেগুলো তার সামনে ধরা দেয় এবং সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ হয়। তখন তার অনুভূতি জাগ্রত হয় যে, এগুলোও আল্লাহর নেয়ামত, যা প্রতিমুহূর্তে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমার উপর বর্ষিত হচ্ছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহওয়ালাদের সংসর্গ দ্বারা ধ্যান-খেয়াল লাভ হয়

📄 আল্লাহওয়ালাদের সংসর্গ দ্বারা ধ্যান-খেয়াল লাভ হয়


এই ধ্যান, খেয়াল ও অনুভূতি তখনই লাভ হয়, যখন মানুষ কোনো আল্লাহওয়ালার সোহবতে বসে। যতো দিন আল্লাহওয়ালাগণের সোহবত লাভ হয়নি, ততো দিন উদাসীনতার মধ্যে সময় অতিবাহিত হয়েছে। তখন চিন্তাই জাগেনি যে, আমার উপর আল্লাহ তা'আলার কী কী নেয়ামত বর্ষিত হচ্ছে? বরং কোনো না কোনো মুসীবত নিয়ে কেঁদে-কেটেই সময় অতিবাহিত হয়েছে। সামান্য কষ্ট এসেছে, সামান্য উদ্বিগ্নতা এসেছে, তা নিয়েই দিন-রাত একাকার করে বসেছে। তা নিয়েই কান্নাকাটি করেছে। কিন্তু যখনই আল্লাহ পাক কোনো আল্লাহওয়ালার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছেন, মানুষ যখন কোনো আল্লাহওয়ালার আঁচল ধরেছে, তখন এই উপলব্ধি ও বুঝ এসেছে যে, আরে তুমি সামান্য এক মুসীবত নিয়ে মুখ গোমরা করে বসে আছো, তোমার উপর তো সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতের বৃষ্টি বর্ষণ হচ্ছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 কুরআনে কারীমে চিন্তা-ফিকিরের আহ্বান

📄 কুরআনে কারীমে চিন্তা-ফিকিরের আহ্বান


কুরআনে কারীমও আপনাকে এ আহ্বান করছে যে, সামান্য চিন্তা করো, সামান্য ভাবো। কুরআনে কারীমের বহু জায়গায় গভীরভাবে চিন্তা-ফিকির করার হুকুম করা হয়েছে। কিন্তু আজকাল মানুষ এর ভুল অর্থ বুঝে বসে আছে। বর্তমানে মানুষ বলে, কুরআনে কারীম বারবার চিন্তা-ফিকিরের আহ্বান করেছে। এর মর্ম হলো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ সাধন করো। কিন্তু কুরআনে কারীম যেই চিন্তা-ফিকিরের আহ্বান করেছে, তার দ্বারা এ অর্থ গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ সাধন নিন্দনীয় কোনো বিষয় নয়, বরং তা জায়েয ও মুস্তাহাবের পর্যায়ে। ক্ষেত্র বিশেষে ওয়াজিব। কিন্তু কুরআনুল কারীম যেই চিন্তা-ফিকিরের আহ্বান করেছে, তার উদ্দেশ্য এটা নয়। কুরআনের আহ্বান করা চিন্তা-ফিকিরের মর্ম হলো, আল্লাহর নেয়ামতসমূহ, তাঁর সৃষ্টি কৌশল, তাঁর পরিপূর্ণ কুদরত সর্বোপরি তাঁর অবারিত নিয়ামত সম্পর্কে চিন্তা-ফিকির করা।
হাদীস শরীফে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের জন্য যখন জাগ্রত হতেন, তখন আসমানের দিকে তাকিয়ে এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন,
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ الَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ
'আসমান ও জমিনসমূহের সৃষ্টি এবং রাত-দিনের আবর্তনের মধ্যে বুদ্ধিমানদের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে।' বুদ্ধিমান কারা? এর বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
বুদ্ধিমান তারা, যারা আল্লাহ পাককে স্মরণ করে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায়। ঐ সব লোকেরা বলে, হে পরওয়ারদেগার! আপনি (এই আকাশ, জমিন, তারকারাজি এবং) এ বিশ্বচরাচর অহেতুক সৃষ্টি করেননি। (বরং আমাদের উপকার এবং আমাদের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যকার প্রতিটি বস্তুই একেকটি নিয়ামত। হে আল্লাহ! এই দুনিয়াতে যখন আপনি আমাদেরকে এসব নিয়ামত দান করেছেন,) তাই হে পরওয়ারদেগার! আমাদেরকে আপনার রহমতের বদৌলতে জাহান্নামের আযাব থেকেও নাজাত দান করুন।'
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের সময় এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন।

টিকাঃ
১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৯০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00