📄 আমরা শত্রুর মুখাপেক্ষী হয়ে গেছি
এরই একটি শাখা এই যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন, নিজেদের জন্য শক্তি সঞ্চয় করো। কিন্তু আমরা শক্তি সঞ্চয় করিনি। আমাদের সকল উপকরণ যেহেতু ঘুষের পিছনে ব্যয় হচ্ছে, দুর্নীতির পিছনে বিলীন হচ্ছে, তাই সবসময় আমাদেরকে শত্রুর সামনে ভিক্ষার পাত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাদের কাছে চাই যে, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদেরকে দান করো। তাহলে আমাদের শক্তি কি করে সঞ্চিত হবে? এখন যদি শত্রু আমাদেরকে প্রহার করে, আমাদের উপর শাসন চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কিসের? কারণ, আমরা নিজেরা নিজেদেরকে তাদের মুখাপেক্ষী বানিয়েছি। আমাদের অবস্থা এমন বানিয়েছি যে, আমাদের জীবন তাদের উপর নির্ভরশীল। তাই তাদের বিরুদ্ধে কিসের অভিযোগ? অভিযোগ তো নিজেদের বিরুদ্ধে যে, আমরা নিজেদেরকে লাঞ্ছিত করেছি। আজও যদি আমাদের পাকিস্তানের মতো দেশের উপকরণসমূহ সঠিকভাবে আমানতদারী ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবহার হয় এবং আমরা এজন্য প্রস্তুত হই যে, আমাদের আয় মোতাবেক ব্যয় করবো, আমাদের উপকরণের মধ্যে থেকে আমরা কাজ করবো, আমাদের উপকরণসমূহের সঠিক ব্যবহার করবো, তাহলে আমাদেরকে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে অন্যের শরণাপন্ন হতে হবে না। আমরা স্বনির্ভর হতে পারবো। আমরা নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবো। কিন্তু ঘুষ ও দুর্নীতি আমাদের জীবনকে ধ্বংস করে ছেড়েছে।
📄 এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন
যাই হোক, যা কিছু ঘটলো (আমেরিকা ইরাকের উপর আক্রমণ করে শক্তি বলে সেখানকার সরকারকে উৎখাত করে নিজেদের দখলে নিলো) এজন্য ব্যথিত হওয়া তো ঠিক আছে, কিন্তু আমাদেরকে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সেই শিক্ষা এই যে, আমাদের প্রত্যেককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আজকের পর কোনো হারাম গ্রাস আমাদের পেটে যাবে না, কোনো হারাম পয়সা আমাদের ঘরে আসবে না, ঘুষের পয়সা আসবে না, ধোঁকার পয়সা আসবে না, মিথ্যার পয়সা আসবে না, সুদের পয়সা আসবে না। যা যে পয়সা আসবে তা হালাল ও পরিশ্রমের পয়সা আসবে। আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে আপনাদেরকে নিশ্চয়তার সাথে বলছি যে, জাতি যদি এ জন্য প্রস্তুত হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ কোনো শত্রু তাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারবে না।
📄 ব্যক্তির সংশোধন দ্বারা সমাজের সংশোধন হয়
মানুষ প্রশ্ন করে যে, পুরো সমাজ যখন খারাপ তখন আমি একা নিজের পরিবর্তন করে পুরো সমাজকে কি করে বদলাবো? আমাদের পরিবর্তনে সমাজে কি প্রভাব পড়বে?
মনে রাখবেন! এটা শয়তানের ধোঁকা। প্রত্যেকে যদি এ কথা চিন্তা করতে থাকে তাহলে কখনোই সংশোধন হওয়া সম্ভব নয়। সংশোধন যে এভাবে হয় যে, এক ব্যক্তি নিজের জীবনকে ঠিক করলে এর ফলে কমকরে একটি অন্যায় এ দুনিয়া থেকে দূর হয়। একটি অন্যায় যখন দূর হয় তখন একটি আশার প্রদীপ জ্বলে উঠে। আল্লাহ তা'আলার নিয়ম হলো, যখন একটি বাতি জ্বলে উঠে তখন তা থেকে দ্বিতীয় আরেকটি বাতি জ্বলে উঠে, দ্বিতীয়টি থেকে তৃতীয়টা জ্বলে উঠে, অবশেষে আল্লাহ তা'আলা এর মাধ্যমে পরিবেশকে আলোকিত করেন।
মোটকথা, একদিকে প্রত্যেককে নিজের বিষয়ে চিন্তা করতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমি আমার বাস্তব জীবনে আল্লাহ তা'আলার বিধানের অনুসরণ করবো। আল্লাহ তা'আলার নাফরমানী পুরো সমাজে বিপর্যয় ডেকে এনেছে, আমি সেই নাফরমানী করবো না। দুর্নীতি করবো না। কোনো হারাম পয়সা আমার ঘরে আসবে না। অপরদিকে এদেশে উপকরণসমূহের সঠিক ব্যবহার আরম্ভ হলে এদেশেরও উন্নতি হবে। এর মধ্যেও শক্তি আসবে। যখন শক্তি আসবে তখন কোনো শত্রুর এ দেশে প্রতি অন্যায় উদ্দেশ্যে তাকানোর দুঃসাহস হবে না।
📄 আমেরিকার ভীরুতা
আপনারা লক্ষ করছেন, এতো বড়ো পরাশক্তি (আমেরিকা)- যার শক্তি ও ক্ষমতার ঢোল সারা পৃথিবীতে বাজে- সেও নিজের বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য দুর্বল মুসলিমদেরকেই হাতে পেয়েছে। আফগানিস্তান যার নিকট না কোনো যুদ্ধ বিমান ছিলো, না আধুনিক সমরাস্ত্র ছিলো, না সুসংহত কোনো সেনাবাহিনী ছিলো, বা ঐ দেশ (ইরাক) যার উপর বছর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছিলো, যে এক পুরিয়া ঔষধও বাহির থেকে আনাতে পারতো না, আকাশে যার বিমানের ওড়ার অনুমতি ছিলো না, তাদের উপর নিজেদের শক্তির প্রদর্শনী করলো। উপরন্তু আমেরিকা একা নয়, বরং ব্রিটেন ও অন্যান্য মিত্র দেশের সৈন্যবাহিনী যৌথভাবে আক্রমণ করলো। যতদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) ছিলো, ততদিন কোনো দেশের উপর আক্রমণ করার সাহস তার হয়নি। কিন্তু যখন তার প্রতিপক্ষ শেষ হয়েছে, নিরস্ত্র মুসলিমরা হাতে এসেছে, তখন সেই নিরস্ত্রদের উপর আক্রমণ করার এবং তাদের উপর নিজেদের বীরত্ব প্রকাশ করার সাহস হয়েছ।