📄 আমাদের দু‘আ কবুল হলো না কেন?
বর্তমানে মানুষ বলে যে, এতো দু'আ করা হলো, আল্লাহ তা'আলার কাছে এতো চাওয়া হলো, কিন্তু আমাদের দু'আ কবুল হলো না। আমাদের বিজয় লাভ হলো না। শত্রু বিজয় লাভ করলো। এর কারণ কি? এমনও মানুষের ঈমান নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। মানুষের অন্তরে এসব সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন না কেন, আমাদের সাহায্য করলেন না কেন?
কিন্তু আমি যেমন বললাম, আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াকে উপকরণের জগত বানিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত না হবো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া না দিবো, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্য আসবে না। যেখানেই চার পয়সার লাভ দেখবো, সেখানেই আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যাবো, আল্লাহর রাসূলকে ভুলে যাবো, তাহলে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে কেন সাহায্য করবেন? কুরআনে কারীমে আছে,
نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ
'তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, আল্লাহ তা'আলাও তাদেরকে ভুলে গেছেন।'
আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যাওয়ার অর্থ হলো আল্লাহ তা'আলার বিধি- বিধান ভুলে যাওয়া।
📄 আমরা পরিপূর্ণ দ্বীনের উপর আমলকারী নই
সাধারণত মানুষের মাথায় এ চিন্তা জাগে যে, আমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে গেলাম কীভাবে? আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন নামায পড়ো, আমরা নামায পড়ছি। আল্লাহর হুকুম ছিলো জুমার নামাযের জন্য আসো, আমরা জুমার নামাযের জন্য আসছি। আল্লাহ তা'আলার হুকুম ছিলো রমযান মাসে রোযা রাখো, আমরা রোযা রাখছি, বিধায় আমরা আল্লাহকে ভুলি নাই।
আসল কথা এই যে, মানুষ শুধু নামায পড়া এবং রোযা রাখাকে দ্বীন মনে করেছে। যাকাত দেওয়া, হজ করা ও ওমরাহ করাকে দ্বীন মনে করেছে। অথচ দ্বীনের অসংখ্য শাখা রয়েছে। এর মধ্যে লেনদেনও আছে, সমাজ সামাজিকতাও আছে, নীতি চরিত্রও আছে। এসবগুলো দ্বীনের শাখা। আমরা নামাযও পড়ছি, রোযাও রাখছি, যাকাতের সময় হলে যাকাতও দিচ্ছি, ওমরাহ করে খুব ভ্রমণ করছি, কিন্তু আল্লাহর হুকুমের সামনে যখন নিজেদের স্বার্থ ত্যাগের সময় আসে, তখন সেখানে পদস্খলিত হই। তখন কথা ঘুরিয়ে বলতে থাকি যে, বর্তমানে সবাই এমন করছে, পরিস্থিতি এমন ইত্যাদি ইত্যাদি।
আজ আমরা আল্লাহর হুকুমকে ভুলে গেছি। বিশেষ করে নিজেদের সমাজ জীবনে, লেনদেনের জীবনে, নীতি চরিত্রের জীবনে, রাজনীতির জীবনে, ইসলাম ও ইসলামের বিধানকে ভুলে গেছি।
টিকাঃ
১. সূরা তাওবা, আয়াত-৬৭
📄 আমরা শত্রুর মুখাপেক্ষী হয়ে গেছি
এরই একটি শাখা এই যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন, নিজেদের জন্য শক্তি সঞ্চয় করো। কিন্তু আমরা শক্তি সঞ্চয় করিনি। আমাদের সকল উপকরণ যেহেতু ঘুষের পিছনে ব্যয় হচ্ছে, দুর্নীতির পিছনে বিলীন হচ্ছে, তাই সবসময় আমাদেরকে শত্রুর সামনে ভিক্ষার পাত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাদের কাছে চাই যে, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদেরকে দান করো। তাহলে আমাদের শক্তি কি করে সঞ্চিত হবে? এখন যদি শত্রু আমাদেরকে প্রহার করে, আমাদের উপর শাসন চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কিসের? কারণ, আমরা নিজেরা নিজেদেরকে তাদের মুখাপেক্ষী বানিয়েছি। আমাদের অবস্থা এমন বানিয়েছি যে, আমাদের জীবন তাদের উপর নির্ভরশীল। তাই তাদের বিরুদ্ধে কিসের অভিযোগ? অভিযোগ তো নিজেদের বিরুদ্ধে যে, আমরা নিজেদেরকে লাঞ্ছিত করেছি। আজও যদি আমাদের পাকিস্তানের মতো দেশের উপকরণসমূহ সঠিকভাবে আমানতদারী ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবহার হয় এবং আমরা এজন্য প্রস্তুত হই যে, আমাদের আয় মোতাবেক ব্যয় করবো, আমাদের উপকরণের মধ্যে থেকে আমরা কাজ করবো, আমাদের উপকরণসমূহের সঠিক ব্যবহার করবো, তাহলে আমাদেরকে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে অন্যের শরণাপন্ন হতে হবে না। আমরা স্বনির্ভর হতে পারবো। আমরা নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবো। কিন্তু ঘুষ ও দুর্নীতি আমাদের জীবনকে ধ্বংস করে ছেড়েছে।
📄 এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন
যাই হোক, যা কিছু ঘটলো (আমেরিকা ইরাকের উপর আক্রমণ করে শক্তি বলে সেখানকার সরকারকে উৎখাত করে নিজেদের দখলে নিলো) এজন্য ব্যথিত হওয়া তো ঠিক আছে, কিন্তু আমাদেরকে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সেই শিক্ষা এই যে, আমাদের প্রত্যেককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আজকের পর কোনো হারাম গ্রাস আমাদের পেটে যাবে না, কোনো হারাম পয়সা আমাদের ঘরে আসবে না, ঘুষের পয়সা আসবে না, ধোঁকার পয়সা আসবে না, মিথ্যার পয়সা আসবে না, সুদের পয়সা আসবে না। যা যে পয়সা আসবে তা হালাল ও পরিশ্রমের পয়সা আসবে। আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে আপনাদেরকে নিশ্চয়তার সাথে বলছি যে, জাতি যদি এ জন্য প্রস্তুত হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ কোনো শত্রু তাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারবে না।