📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 পৃথিবীতে সফলতার জন্য পরিশ্রম শর্ত

📄 পৃথিবীতে সফলতার জন্য পরিশ্রম শর্ত


আল্লাহ তা'আলা এ পৃথিবী নিঃসন্দেহে আপনাদের জন্য বানিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে মেহনত মুজাহাদা করে এবং চেষ্টা সাধনা করে হালাল ও বৈধ পন্থায় তা উপার্জন করতে হবে। এর উপকরণসমূহকে নিজের এবং উম্মতের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। এ দুনিয়া আল্লাহ তা'আলা এজন্য বানাননি যে, প্রত্যেক মানুষ অন্যকে ধোঁকা দিয়ে এবং অন্যকে প্রতারিত করে সম্পদ উপার্জন করবে। অন্যের উপর ডাকাতি করে নিজের আলমারি ভরবে। দেশ ও জাতিকে ভুলে যাবে। আজ মুসলিমগণ এ পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে সর্বত্র তারা মার খাচ্ছে। শত্রুর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করবো? শত্রুর কাজই তো হলো তারা আমাদেরকে ধ্বংস করবে। অভিযোগ আর আপত্তি তো নিজেদের বিরুদ্ধে। আমরা নিজেদেরকে কেমন বানিয়ে নিয়েছি যে, পৃথিবীর যে কোনো জাতি এসে আমাদের উপর ডাকাতি করতে পারে এবং আনন্দের তালি বাজিয়ে ফিরে যেতে পারে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আল্লাহ তা‘আলার একটি মূলনীতি

📄 আল্লাহ তা‘আলার একটি মূলনীতি


মনে রাখবেন! এ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেরা নিজেদেরকে পরিবর্তন না করবো। কুরআনে কারীমের স্পষ্ট ভাষ্য রয়েছে,
إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ
'আল্লাহ তা'আলা ঐ জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না যে জাতি নিজেরা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে তৈরি না হয়।'
এটি কুরআনে কারীমের বাণী। আজ থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে যা বলা হয়েছে। তোমরা নিজেদেরকে নিজেরা পরিবর্তন করতে না পারলে তোমাদের অবস্থারও পরিবর্তন ঘটবে না। তোমাদের নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তোমরা প্রহৃত হলে ততক্ষণ পর্যন্ত এ প্রহার চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের কর্ম না ছাড়বে।

টিকাঃ
১. সূরা র'দ, আয়াত-১১

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আমাদের দু‘আ কবুল হলো না কেন?

📄 আমাদের দু‘আ কবুল হলো না কেন?


বর্তমানে মানুষ বলে যে, এতো দু'আ করা হলো, আল্লাহ তা'আলার কাছে এতো চাওয়া হলো, কিন্তু আমাদের দু'আ কবুল হলো না। আমাদের বিজয় লাভ হলো না। শত্রু বিজয় লাভ করলো। এর কারণ কি? এমনও মানুষের ঈমান নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। মানুষের অন্তরে এসব সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন না কেন, আমাদের সাহায্য করলেন না কেন?
কিন্তু আমি যেমন বললাম, আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াকে উপকরণের জগত বানিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত না হবো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া না দিবো, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্য আসবে না। যেখানেই চার পয়সার লাভ দেখবো, সেখানেই আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যাবো, আল্লাহর রাসূলকে ভুলে যাবো, তাহলে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে কেন সাহায্য করবেন? কুরআনে কারীমে আছে,
نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ
'তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, আল্লাহ তা'আলাও তাদেরকে ভুলে গেছেন।'
আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যাওয়ার অর্থ হলো আল্লাহ তা'আলার বিধি- বিধান ভুলে যাওয়া।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আমরা পরিপূর্ণ দ্বীনের উপর আমলকারী নই

📄 আমরা পরিপূর্ণ দ্বীনের উপর আমলকারী নই


সাধারণত মানুষের মাথায় এ চিন্তা জাগে যে, আমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে গেলাম কীভাবে? আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন নামায পড়ো, আমরা নামায পড়ছি। আল্লাহর হুকুম ছিলো জুমার নামাযের জন্য আসো, আমরা জুমার নামাযের জন্য আসছি। আল্লাহ তা'আলার হুকুম ছিলো রমযান মাসে রোযা রাখো, আমরা রোযা রাখছি, বিধায় আমরা আল্লাহকে ভুলি নাই।
আসল কথা এই যে, মানুষ শুধু নামায পড়া এবং রোযা রাখাকে দ্বীন মনে করেছে। যাকাত দেওয়া, হজ করা ও ওমরাহ করাকে দ্বীন মনে করেছে। অথচ দ্বীনের অসংখ্য শাখা রয়েছে। এর মধ্যে লেনদেনও আছে, সমাজ সামাজিকতাও আছে, নীতি চরিত্রও আছে। এসবগুলো দ্বীনের শাখা। আমরা নামাযও পড়ছি, রোযাও রাখছি, যাকাতের সময় হলে যাকাতও দিচ্ছি, ওমরাহ করে খুব ভ্রমণ করছি, কিন্তু আল্লাহর হুকুমের সামনে যখন নিজেদের স্বার্থ ত্যাগের সময় আসে, তখন সেখানে পদস্খলিত হই। তখন কথা ঘুরিয়ে বলতে থাকি যে, বর্তমানে সবাই এমন করছে, পরিস্থিতি এমন ইত্যাদি ইত্যাদি।
আজ আমরা আল্লাহর হুকুমকে ভুলে গেছি। বিশেষ করে নিজেদের সমাজ জীবনে, লেনদেনের জীবনে, নীতি চরিত্রের জীবনে, রাজনীতির জীবনে, ইসলাম ও ইসলামের বিধানকে ভুলে গেছি।

টিকাঃ
১. সূরা তাওবা, আয়াত-৬৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00