📄 ব্যক্তিস্বার্থ সামনে রাখার ফল
মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে মুসলিম দেশের ধারা অব্যাহত রয়েছে। যেন একটা শিকল, মুসলিমগণ যাতে গেঁথে আছেন। মাঝে শুধু দুটি দেশ আড়াল হয়ে আছে। একটি ইসরাইল, একটি ভারত। পৃথিবীর বৃহত্তম রাজপথসমূহ মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে। সুইস খাল তাদের হাতে। বসফারস প্রণালী তাদের হাতে। ইডেন উপসাগর তাদের নিকট। মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যদি তাদের এ শক্তি ব্যবহার করে তাহলে অমুসলিমদেরকে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম। কিন্তু মুসলিমদের অবস্থা এই যে, এ সমস্ত উপকরণ দ্বারা উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে প্রত্যেকে ব্যক্তি স্বার্থের কথা চিন্তা করছে। এই ব্যক্তি স্বার্থের ফল এই হয়েছে যে, যেসব দেশে স্বর্ণের ছড়াছড়ি, যেসব দেশে তেলের স্রোত বয়ে চলছে তারা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত রসদের উপর নিজেদেরকে নির্ভরশীল করে রেখেছে। তাদের নিজেদের দেশে কোনো কিছু তৈরি হয় না এবং এসব দেশে এমন ব্যক্তি তৈয়ার করা হয় না, যারা যুগের চাহিদা অনুপাতে রসদ তৈরি করতে সক্ষম। উপযুক্ত সমরাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।
📄 আমরা স্বার্থপরতায় লিপ্ত
এসব কিছু এজন্য হচ্ছে যে, এসমস্ত সম্পদ এবং এসমস্ত উপকরণের উপর স্বার্থপরতার শয়তান আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। প্রত্যেক ব্যক্তি চায় যে, আমার টাকা পেতে হবে, হালাল পদ্ধতি হোক বা হারাম পদ্ধতিতে। সাময়িকভাবে আমি খুশি হয়ে যাই। সাময়িকভাবে আমার কাজ হয়ে যাক। সাময়িকভাবে আমি আরাম লাভ করি। সেজন্যে আমার জাতি ও দেশকে ঝুঁকিতে ফেলতে হলে তাই ফেলবো। এর জন্য পুরো জাতিকে বিক্রি করতে হলে বিক্রি করবো। কিন্তু যে কোনোভাবে আমি নিজের আখের গোছাতে চাই। এমন এক পরিবেশে আমরা জীবন যাপন করছি। শাসক গোষ্ঠি থেকে নিয়ে জনসাধারণ পর্যন্ত প্রত্যেকে এ ব্যাধিতে আক্রান্ত।
📄 আমাদের দেশে দুর্নীতি
আজ প্রত্যেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। সকলেই বলছে যে, সরকারী যে কোনো অফিসে যাও টাকা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ হয় না। অফিসগুলোতে মানুষ হারাম খাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সকলেই এ অভিযোগ করছে। কিন্তু যখন তার সুযোগ হয় তখন সে নিজেও হা না করে থাকতে পারে না। অন্যদের যে পরিমাণ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করছে সে তার চেয়ে বেশি ঘুষ নিবে। অন্যদের চেয়ে অধিক দুর্নীতির প্রদর্শনী করবে। জাল সার্টিফিকেট তৈরি করবে। মিথ্যা সাক্ষ্য দিবে। এসব কাজ আমাদের দেশে এবং আমাদের সমাজে হচ্ছে।
📄 পৃথিবীতে সফলতার জন্য পরিশ্রম শর্ত
আল্লাহ তা'আলা এ পৃথিবী নিঃসন্দেহে আপনাদের জন্য বানিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে মেহনত মুজাহাদা করে এবং চেষ্টা সাধনা করে হালাল ও বৈধ পন্থায় তা উপার্জন করতে হবে। এর উপকরণসমূহকে নিজের এবং উম্মতের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। এ দুনিয়া আল্লাহ তা'আলা এজন্য বানাননি যে, প্রত্যেক মানুষ অন্যকে ধোঁকা দিয়ে এবং অন্যকে প্রতারিত করে সম্পদ উপার্জন করবে। অন্যের উপর ডাকাতি করে নিজের আলমারি ভরবে। দেশ ও জাতিকে ভুলে যাবে। আজ মুসলিমগণ এ পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে সর্বত্র তারা মার খাচ্ছে। শত্রুর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করবো? শত্রুর কাজই তো হলো তারা আমাদেরকে ধ্বংস করবে। অভিযোগ আর আপত্তি তো নিজেদের বিরুদ্ধে। আমরা নিজেদেরকে কেমন বানিয়ে নিয়েছি যে, পৃথিবীর যে কোনো জাতি এসে আমাদের উপর ডাকাতি করতে পারে এবং আনন্দের তালি বাজিয়ে ফিরে যেতে পারে।