📄 ইরাকের উপর আমেরিকার আক্রমণ
বিগত দিনে ইরাকে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার কারণে আজ পুরো মুসলিম উম্মাহের হৃদয় চূর্ণ হয়ে আছে। বাগদাদের পরাজয়ের বেদনাদায়ক ঘটনা কারণে প্রত্যেক মুসলমানের আত্মা নিথর ও নির্জীব হয়ে আছে। সবাই পেরেশান। আর এ পেরেশানী যথার্থ। কারণ, একটি মুসলিম দেশের উপর অন্যায় অবিচার করে আক্রমণ করা হয়েছে। সারা দুনিয়া তামাশা দেখেছে। কোনো মুসলিম দেশ তার সাহায্যের জন্যে অগ্রসর হতে পারেনি। এ ঘটনায় কারণে পুরো মুসলিম উম্মাহ অস্থিরতা, অশান্তি, বেদনা, আক্ষেপ ও কষ্টে আক্রান্ত।
📄 কুরআনে কারীমের হুকুম এবং তার উপর আমল না করার ফল
কিন্তু মনে রাখবেন! আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াকে উপকরণের জগত বানিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াতে আমাদের উপর কিছু দায়িত্ব আরোপ করেছেন। এ দুনিয়াতে আল্লাহ তা'আলা নিয়ম বানিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি যেমন উপকরণ অবলম্বন করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে তেমন ফল দান করবেন। শত শত বছর ধরে আমরা কুরআনে কারীমের হুকুমকে পিছনে ফেলে রেখেছি। কুরআনে কারীমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হুকুম এই যে,
وَأَعِدُّوالَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَ مِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ
'হে (মুসলিমগণ) তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য যতাসাধ্য শক্তি অশ্ব-ছাউনি প্রস্তুত করো, যা দ্বারা তোমরা আল্লাহর শত্রু ও নিজেদের (বর্তমান) শত্রুদের সন্ত্রস্ত করে রাখবে।”
অর্থাৎ, তোমরা যতো বেশি শক্তি সঞ্চয় করতে সক্ষম; সঞ্চয় করো। আজ থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে এ আয়াতের মাধ্যমে মুসলিমদেরকে বলা হচ্ছে যে, তোমরা এমন শক্তি অর্জন করো যার মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর দুশমনের উপর এবং নিজেদের দুশমনের উপর ভীতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। এ নির্দেশের দাবি ছিলো এই যে, পুরো মুসলিম উম্মাহ যেখানেই অবস্থান করুক না কেন নিজেকে নিজে শক্তিশালী করার পরিপূর্ণ চেষ্টা করবে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে, রসদ সংগ্রহের দিক থেকে, অর্থনীতির দিক থেকে নিজেদেরকে শক্তিশালী করবে।
টিকাঃ
১. সূরা আল আনফাল, আয়াত-৬০
📄 মুসলিম উপকরণসমৃদ্ধ
কিন্তু সামগ্রিকভাবে মুসলিম উম্মাহ্র উপর দৃষ্টি বুলালে চোখে পড়বে যে, মুসলিমগণ নিজেদেরকে শক্তিশালী বানানোর পরিবর্তে নিজেদের যাবতীয় কিছুর লাগাম অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে। বর্তমানে মুসলিমদের সংখ্যা এতো অধিক যে, ইতিহাসে পৃথিবীর বুকে এতো সংখ্যক মুসলিম পূর্বে কখনো ছিলো না। বর্তমানে মুসলিমদের নিকট এতো উপকরণ রয়েছে যে, ইতিহাসে পূর্বে এতো উপকরণ কখনো ছিলো না। বর্তমানে আল্লাহ তা'আলা মুসলিমদেরকে এতো সম্পদ দান করেছেন যে, ইতিহাসে পূর্বে এতো সম্পদ কখনো তাদের নিকট ছিলো না। পৃথিবীর বৃহত্তম উৎপাদন উপকরণ আল্লাহ তা'আলা মুসলিমদের ভূখণ্ডে দান করেছেন। এখানে তেল বের হয়, গ্যাস বের হয়, স্বর্ণ বের হয়। আল্লাহ তা'আলা উৎকৃষ্টতম মানবীয় যোগ্যতা এখানে দান করেছেন। পৃথিবীর মানচিত্র হাতে নিয়ে দেখুন, পুরো পৃথিবীর হৃদয় মুসলিমদের হাতে রয়েছে।
📄 ব্যক্তিস্বার্থ সামনে রাখার ফল
মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে মুসলিম দেশের ধারা অব্যাহত রয়েছে। যেন একটা শিকল, মুসলিমগণ যাতে গেঁথে আছেন। মাঝে শুধু দুটি দেশ আড়াল হয়ে আছে। একটি ইসরাইল, একটি ভারত। পৃথিবীর বৃহত্তম রাজপথসমূহ মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে। সুইস খাল তাদের হাতে। বসফারস প্রণালী তাদের হাতে। ইডেন উপসাগর তাদের নিকট। মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যদি তাদের এ শক্তি ব্যবহার করে তাহলে অমুসলিমদেরকে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম। কিন্তু মুসলিমদের অবস্থা এই যে, এ সমস্ত উপকরণ দ্বারা উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে প্রত্যেকে ব্যক্তি স্বার্থের কথা চিন্তা করছে। এই ব্যক্তি স্বার্থের ফল এই হয়েছে যে, যেসব দেশে স্বর্ণের ছড়াছড়ি, যেসব দেশে তেলের স্রোত বয়ে চলছে তারা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত রসদের উপর নিজেদেরকে নির্ভরশীল করে রেখেছে। তাদের নিজেদের দেশে কোনো কিছু তৈরি হয় না এবং এসব দেশে এমন ব্যক্তি তৈয়ার করা হয় না, যারা যুগের চাহিদা অনুপাতে রসদ তৈরি করতে সক্ষম। উপযুক্ত সমরাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।