📄 আত্মার গুরুত্ব
নীতি চরিত্রের উপর। মানুষ যদি কোনো ভালো কাজ করে তবে তা নিজের ভালো চরিত্রের ফলে করে, আর যদি কোনো মন্দ কাজ করে তবে তাও মন্দ চরিত্রের ফলে করে। মানুষের চরিত্র যদি ঠিক হয়ে যায় তাহলে তার সারাজীবন ঠিক হয়ে যায়। আর যদি তার চরিত্র নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সারাজীবন নষ্ট হয়ে যায়।
বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদীসে এভাবে বলেছেন,
أَلَّا إِنَّ فِي الْجَسَدِ لَمُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
'দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে তা সঠিক হলে পুরো দেহ সঠিক থাকে, আর তা খারাপ হয়ে গেলে পুরো দেহ খারাপ হয়ে যায়, সে মাংসপিণ্ডটি হলো মানুষের আত্মা।'
উদ্দেশ্য হলো, অন্তরে যেসব আবেগ উদ্দীপনা ও কামনা বাসনা সৃষ্টি হয় তা যদি সঠিক না হয় তাহলে মানুষের পুরো জীবন নষ্ট হয়ে যায়।
টিকাঃ
১. সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং ১০১৮০, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বان, হাদীস নং ২৯৭, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৫৩৩, আযযাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবাইর, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯৮, ইতহাফুল খুবারাতুল মুহারা বি যাওয়াইদিল মাসানীদিল আশারাহ, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১৩৪, মুসতাখরাজে আবি আওয়ানা, হাদীস নং ৪৪৪৩, খণ্ড-১১, পৃষ্ঠা-১৪৩, আযযুহদুল কাবীর লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৮৭২, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩৭৮, আল আরবাউন লিল ফাসাবী, হাদীস নং ৩৮, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৬৩
📄 ফেৎনা ফাসাদের কারণ নীতি চরিত্রের অশুদ্ধতা
আমাদের বর্তমান অবস্থায় এবং বর্তমান যুগে এর গুরুত্ব এজন্য অধিক যে, আমাদের চর্তুদিকে যেই বিস্তৃত ফেৎনা ফাসাদ দেখছি, আমরা গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখতে পাবো যে, বর্তমানে নীতি চরিত্র সংশোধনের গুরুত্ব না থাকার কারণে মূলত এসব ফেৎনা ফাসাদ দেখা দিয়েছে। আমাদের আত্মার যদি সঠিক আবেগ উদ্দীপনা প্রতিপালিত হতো, সৎ কামনা সৃষ্টি হতো, তাহলে আজ আমাদের চতুর্দিকে এতো ফেৎনা ফাসাদ দেখা দিতো না।
একজন জালেম অন্যের উপর এজন্য জুলুম করে যে, তার অন্তরে এমন আবেগ উদ্দীপনা ও কামনা বাসনা সৃষ্টি হচ্ছে, যা শয়তানী আবেগ উদ্দীপনা ও শয়তানি কামনা বাসনা। যা নোংরামী ও নাপাকী দ্বারা পরিপূর্ণ। কোনো মানুষ নগ্নতা ও অশ্লীলতার মধ্যে এজন্য মগ্ন যে, তার অন্তরে নোংরা বাসনা ও নোংরা উদ্দীপনা সৃষ্টি হচ্ছে। নোংরা চিন্তা ও নোংরা উদ্দীপনা যদি সৃষ্টি না হতো, তাহলে সে অশ্লীলতা ও নগ্নতাপূর্ণ কাজ করতো না। এ জিনিসই আমাদের সমাজে ফেৎনা ফাসাদ বিস্তার করেছে।
📄 মন্দ চরিত্রের ফল
বিশেষ করে সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক পরিবেশে মন্দ চরিত্র আমাদেরকে অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে যে অবস্থা চলছে, তাতে প্রত্যেকে অভিযোগ করছে যে, ঘুষের বাজার গরম। দুর্নীতি ছড়িয়ে আছে। হারাম খাওয়ার জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। হারাম মালকে মায়ের দুধ মনে করা হচ্ছে। মায়ের দুধ যেমন হালাল, ঘুষকেও তেমন হালাল মনে করছে। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে উপার্জন করা সম্পদকেও হালাল মনে করছে। মিথ্যার মাধ্যমে আয় করা সম্পদকেও হালাল মনে করছে। বরং অনেক সময় যেসব ব্যক্তি ব্যক্তিগত জীবনে নামায পড়ে, ইবাদত করে, ওয়ায নসীহত শোনে তারা যখন দুনিয়ার কারবার করে, টাকা-পয়সা লেনদেন করে, সেখানে হালাল হারামের তারতম্য করে না। তারা একথা চিন্তা করে না যে, যে পয়সা আমি কামাচ্ছি, তা হালাল না হারাম। আমার মুখে যে লোকমা যাচ্ছে, তা হালাল না হারাম। বরং বর্তমানে পয়সা উপার্জনের জন্য মিথ্যা বলায় কোনো সংকোচ নেই। মিথ্যা সার্টিফিকেট বানাতে কোনো ভয় নেই। মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে কোনো লজ্জা নেই। টাকা পয়সা লেনদেনের সময় সব দ্বীনদারি এবং সব পরহেযগারী অথর্ব হয়ে যায়।
📄 টাকা কামানোর প্রতিযোগিতা
বর্তমানে টাকা কামানোর প্রতিযোগিতা চলছে। দুই হাতে যতো টাকা জমাতে পারো জমাও। হালাল পদ্ধতিতে হোক বা হারাম পদ্ধতিতে। টাকা চাই। এর জন্য ঘুষ নিতে হলে ঘুষ নাও। ঘুষ দিতে হলে ঘুষ দাও। ধোঁকা দিতে হলে ধোঁকা দাও। মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করতে হলে মিথ্যা কাগজপত্র তৈরি করো। মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হলে মিথ্যা সাক্ষ্য দাও। যা কিছু করতে হয় করো, কিন্তু টাকা চাই। আজ আমাদের সমাজে যে ফেৎনা ফাসাদ ছড়িয়ে আছে, তা মূলত এ চিন্তা চেতনা ও এ মানসিকতার ফল।