📄 নিজের উপর জরিপ চালান
আজ ইসলাহের যাবতীয় চেষ্টা সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ মনে হয়। সমাজের উপর তার উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব দেখা যায় না। এর কারণ এই যে, আমরা নিজেদের ইসলাহের বিষয়ে গাফেল হয়ে গেছি। আমাদের ভিতরে এ চিন্তা নেই যে, আমাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জওয়াব দিতে হবে। আমার মধ্যে যে সমস্ত খারাবী আছে, সেগুলো সংশোধন করার চিন্তা আমার মধ্যে নেই।
আমার আজকের নিবেদনের সারকথা এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিদিন জরিপ চালিয়ে দেখবে যে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করছি। ইসলাম হলো পাঁচ ধরনের আমলের সমন্বয়।
১. আকীদা বিশ্বাস সঠিক হতে হবে।
২. ইবাদত তথা নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদি সঠিক হতে হবে।
৩. মুআমালাত তথা বেচা-কেনা হালাল পদ্ধতিতে হতে হবে। আমদানী হালাল হতে হবে। হারাম কোনো আমদানী থাকা যাবে না।
৪. মুআশারাত, তথা পরস্পরে একত্রে বসবাসের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের হুকুম-আহকামের আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে।
৫. আখলাক তথা মানুষের নীতি-চরিত্র বিশুদ্ধ হতে হবে। মন্দ চরিত্র- যেমন বিদ্বেষ, অহংকার, হিংসা, হঠকারিতা প্রভৃতি না থাকতে হবে। উত্তম চরিত্র- যেমন বিনয়, তাওয়াক্কুল, শোকর ও সবর থাকতে হবে।
এ পাঁচ শাখার উপর মানুষ যখন আমল করবে, তখন তার দ্বীন পরিপূর্ণ হবে। তখন সে মানুষ সঠিক অর্থে মুসলিম হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি এ পাঁচ শাখাকে সামনে রেখে নিজের উপর জরিপ চালাবে। যেমন আমার আকীদা-বিশ্বাস ঠিক আছে কি না? আমার জিম্মায় জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া ফরয, আমি তার মধ্যে কতগুলো আদায় করি, আর কতগুলো ছেড়ে দেই? আমার আমদানী হালাল না হারাম? বাজারে যখন লেনদেন করি, সে লেনদেন সঠিক হয় কি না? আমার নীতি-চরিত্র ঠিক আছে কি না? অন্যের সঙ্গে আমার আচার-ব্যবহার ঠিক আছে কি না? আমি তো মিথ্যা বলি না? আমি তো গীবত করি না? আমি কারো মনে কষ্ট দেই না তো? কাউকে পেরেশান করি না তো? নিজের মধ্যে এসব বিষয়ে জরিপ চালাবে। কোথাও কোনো খারাবী থাকে, তাহলে তা দূর করার চেষ্টা করবে। একেবারে ছাড়তে না পারে, তাহলে কম করার চেষ্টা করবে।
যেমন দেখবে যে, আমি দিনে কতো বার মিথ্যা বলি। তারপর দেখবে যে, এর মধ্যে থেকে কতো বার মিথ্যা বলাকে অবিলম্বে ছাড়তে পারি সেগুলো অবিলম্বে ছেড়ে দিবে। মজলিসে বসলে কতবার গীবত করি? তার পরিমাণ ছাড়তে পারি? সে পরিমাণ ছেড়ে দিবে। এভাবে জরিপ চালিয়ে গোনাহ ছাড়া শুরু করবে। নিজের ইসলাহের ফিকির জাগ্রত করবে। ইসলাহের ফিকিরের প্রদীপ একবার যদি আপনার হৃদয়ে আলোকিত হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ এ প্রদীপ আপনার জীবনকে আলোকিত করবে। এবং চিন্তা করবেন না যে, একজন ঠিক হলে এর কী প্রভাব পড়বে?
আজ ইসলাহের যাবতীয় চেষ্টা সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ মনে হয়। সমাজের উপর তার উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব দেখা যায় না। এর কারণ এই যে, আমরা নিজেদের ইসলাহের বিষয়ে গাফেল হয়ে গেছি। আমাদের ভিতরে এ চিন্তা নেই যে, আমাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জওয়াব দিতে হবে। আমার মধ্যে যে সমস্ত খারাবী আছে, সেগুলো সংশোধন করার চিন্তা আমার মধ্যে নেই।
আমার আজকের নিবেদনের সারকথা এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিদিন জরিপ চালিয়ে দেখবে যে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করছি। ইসলাম হলো পাঁচ ধরনের আমলের সমন্বয়।
১. আকীদা বিশ্বাস সঠিক হতে হবে।
২. ইবাদত তথা নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদি সঠিক হতে হবে।
৩. মুআমালাত তথা বেচা-কেনা হালাল পদ্ধতিতে হতে হবে। আমদানী হালাল হতে হবে। হারাম কোনো আমদানী থাকা যাবে না।
৪. মুআশারাত, তথা পরস্পরে একত্রে বসবাসের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের হুকুম-আহকামের আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে।
৫. আখলাক তথা মানুষের নীতি-চরিত্র বিশুদ্ধ হতে হবে। মন্দ চরিত্র- যেমন বিদ্বেষ, অহংকার, হিংসা, হঠকারিতা প্রভৃতি না থাকতে হবে। উত্তম চরিত্র- যেমন বিনয়, তাওয়াক্কুল, শোকর ও সবর থাকতে হবে।
এ পাঁচ শাখার উপর মানুষ যখন আমল করবে, তখন তার দ্বীন পরিপূর্ণ হবে। তখন সে মানুষ সঠিক অর্থে মুসলিম হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি এ পাঁচ শাখাকে সামনে রেখে নিজের উপর জরিপ চালাবে। যেমন আমার আকীদা-বিশ্বাস ঠিক আছে কি না? আমার জিম্মায় জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া ফরয, আমি তার মধ্যে কতগুলো আদায় করি, আর কতগুলো ছেড়ে দেই? আমার আমদানী হালাল না হারাম? বাজারে যখন লেনদেন করি, সে লেনদেন সঠিক হয় কি না? আমার নীতি-চরিত্র ঠিক আছে কি না? অন্যের সঙ্গে আমার আচার-ব্যবহার ঠিক আছে কি না? আমি তো মিথ্যা বলি না? আমি তো গীবত করি না? আমি কারো মনে কষ্ট দেই না তো? কাউকে পেরেশান করি না তো? নিজের মধ্যে এসব বিষয়ে জরিপ চালাবে। কোথাও কোনো খারাবী থাকে, তাহলে তা দূর করার চেষ্টা করবে। একেবারে ছাড়তে না পারে, তাহলে কম করার চেষ্টা করবে।
যেমন দেখবে যে, আমি দিনে কতো বার মিথ্যা বলি। তারপর দেখবে যে, এর মধ্যে থেকে কতো বার মিথ্যা বলাকে অবিলম্বে ছাড়তে পারি সেগুলো অবিলম্বে ছেড়ে দিবে। মজলিসে বসলে কতবার গীবত করি? তার পরিমাণ ছাড়তে পারি? সে পরিমাণ ছেড়ে দিবে। এভাবে জরিপ চালিয়ে গোনাহ ছাড়া শুরু করবে। নিজের ইসলাহের ফিকির জাগ্রত করবে। ইসলাহের ফিকিরের প্রদীপ একবার যদি আপনার হৃদয়ে আলোকিত হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ এ প্রদীপ আপনার জীবনকে আলোকিত করবে। এবং চিন্তা করবেন না যে, একজন ঠিক হলে এর কী প্রভাব পড়বে?
📄 বাতি থেকে বাতি জ্বলে
মনে রাখবেন! আমার আপনার ও অন্যান্য লোকের সমন্বয়েই সমাজ। সমাজের একজন ব্যক্তি যদি সংশোধিত হয়, সে যদি কিছু গোনাহ ত্যাগ করে, আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য শুরু করে, তাহলে কমপক্ষে একটি বাতি তো জ্বললো। বাতি ছোট হলেও তার আশেপাশে অন্ধকার থাকতে দেয় না। নিজের পরিবেশকে অবশ্যই আলোকিত করে। অসম্ভব নয় যে, একটি বাতিকে জ্বলতে দেখে অন্য ব্যক্তি তার নিজের বাতি জ্বালিয়ে নিবে। দ্বিতীয়টি থেকে তৃতীয় বাতি জ্বলে উঠবে। এভাবে পুরো পরিবেশ আলোকিত হবে। কিন্তু মানুষ যদি চিন্তা করে যে, আমি আমার বাতিকে নিভিয়ে রাখবো এবং সে নিভানো বাতি থেকে অন্যদের বাতি জ্বালিয়ে দেবো, তাদেরকে আলোকিত করবো, এমনটি হতে পারে না। যে বাতি নিজেই নিভে আছে, সে অন্য বাতিকে আলোকিত করতে পারে না। ঠিক একইভাবে আমি যদি নিজে ইসলাহের ফিকির না করে অন্যের ইসলাহ করতে আরম্ভ করি, তাহলে এটা তেমন, যেমন কি না নিজের নিভানো বাতি দ্বারা অন্যের বাতি জ্বালানোর চেষ্টা করা। এটা অসম্ভব। আল্লাহ তা'আলা দয়া করে আমাদের অন্তরে নিজেরদেরকে সংশোধন করার চিন্তা জাগ্রত করে দিন।
মনে রাখবেন! আমার আপনার ও অন্যান্য লোকের সমন্বয়েই সমাজ। সমাজের একজন ব্যক্তি যদি সংশোধিত হয়, সে যদি কিছু গোনাহ ত্যাগ করে, আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য শুরু করে, তাহলে কমপক্ষে একটি বাতি তো জ্বললো। বাতি ছোট হলেও তার আশেপাশে অন্ধকার থাকতে দেয় না। নিজের পরিবেশকে অবশ্যই আলোকিত করে। অসম্ভব নয় যে, একটি বাতিকে জ্বলতে দেখে অন্য ব্যক্তি তার নিজের বাতি জ্বালিয়ে নিবে। দ্বিতীয়টি থেকে তৃতীয় বাতি জ্বলে উঠবে। এভাবে পুরো পরিবেশ আলোকিত হবে। কিন্তু মানুষ যদি চিন্তা করে যে, আমি আমার বাতিকে নিভিয়ে রাখবো এবং সে নিভানো বাতি থেকে অন্যদের বাতি জ্বালিয়ে দেবো, তাদেরকে আলোকিত করবো, এমনটি হতে পারে না। যে বাতি নিজেই নিভে আছে, সে অন্য বাতিকে আলোকিত করতে পারে না। ঠিক একইভাবে আমি যদি নিজে ইসলাহের ফিকির না করে অন্যের ইসলাহ করতে আরম্ভ করি, তাহলে এটা তেমন, যেমন কি না নিজের নিভানো বাতি দ্বারা অন্যের বাতি জ্বালানোর চেষ্টা করা। এটা অসম্ভব। আল্লাহ তা'আলা দয়া করে আমাদের অন্তরে নিজেরদেরকে সংশোধন করার চিন্তা জাগ্রত করে দিন।
📄 এ চিন্তা কীভাবে সৃষ্টি হবে?
এখন প্রশ্ন হলো, নিজের ইসলাহের চিন্তা কীভাবে সৃষ্টি হবে? এর পদ্ধতি এই যে, এখন এখানে বসে আমরা যেমন নিজেদের ইসলাহের চিন্তা সম্পর্কে আলোচনা করলাম এবং শুনলাম, এর ফলে আমাদের অন্তরে ইসলাহের কমবেশি চিন্তা জাগ্রত হয়েছে। এ আলোচনাই যদি বারবার শোনা হয়, বিভিন্ন বৈঠকে শোনা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বারবার শোনার ফলে এ ফিকির আমাদের অন্তরে সৃষ্টি হবে। দেখুন! কুরআন শরীফে وَأَقِيمُوا الصَّلُوةَ 'নামায কায়েম করো' কথাটা বাষট্টি বার এসেছে। অথচ আল্লাহ তা'আলা একবার যদি হুকুম দিতেন যে, নামায কায়েম করো তাহলে তাই যথেষ্ট ছিলো, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বারবার বলেছেন। কেন? এ কারণে যে, মানুষের স্বভাব হলো, যখন কোনো কথা বারবার বলা হয়, তখন অন্তরে তার প্রভাব পড়ে। সে কথা অন্তরে বসে যায়। শুধু একবার শুনলে ফায়দা হয় না। এজন্য এ ফিকির পয়দা করার জন্যে এমন মজলিসগুলোতে যাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে, যেখানে ইসলাহের আলোচনা হয়।
এখন প্রশ্ন হলো, নিজের ইসলাহের চিন্তা কীভাবে সৃষ্টি হবে? এর পদ্ধতি এই যে, এখন এখানে বসে আমরা যেমন নিজেদের ইসলাহের চিন্তা সম্পর্কে আলোচনা করলাম এবং শুনলাম, এর ফলে আমাদের অন্তরে ইসলাহের কমবেশি চিন্তা জাগ্রত হয়েছে। এ আলোচনাই যদি বারবার শোনা হয়, বিভিন্ন বৈঠকে শোনা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বারবার শোনার ফলে এ ফিকির আমাদের অন্তরে সৃষ্টি হবে। দেখুন! কুরআন শরীফে وَأَقِيمُوا الصَّلُوةَ 'নামায কায়েম করো' কথাটা বাষট্টি বার এসেছে। অথচ আল্লাহ তা'আলা একবার যদি হুকুম দিতেন যে, নামায কায়েম করো তাহলে তাই যথেষ্ট ছিলো, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বারবার বলেছেন। কেন? এ কারণে যে, মানুষের স্বভাব হলো, যখন কোনো কথা বারবার বলা হয়, তখন অন্তরে তার প্রভাব পড়ে। সে কথা অন্তরে বসে যায়। শুধু একবার শুনলে ফায়দা হয় না। এজন্য এ ফিকির পয়দা করার জন্যে এমন মজলিসগুলোতে যাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে, যেখানে ইসলাহের আলোচনা হয়।
📄 দারুল উলূমে অনুষ্ঠিত ইসলাহী মজলিসসমূহ
আপনাদের নিকটে দারুল উলূম করাচী রয়েছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে মজলিস হয়। দারুল উলূমের সদর হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ রফী' উসমানী ছাহেবের বয়ান বুধবার দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত হয়। সেখানে পুরুষদেরও ব্যবস্থা আছে এবং মহিলাদেরও।
হযরত মাওলানা সাহবান মাহমূদ ছাহেব দারুল উলূম করাচীর শাইখুল হাদীস এবং আমাদের ওস্তাদ ও মুরুব্বী। প্রতি রবিবার আসর এবং মাগরিবের মাঝে তাঁর বয়ান হয়।'
হযরত মাওলানা মুফতী আব্দুর রউফ ছাহেব (মু. যি.) দারুল উলূমের ওস্তাদ এবং হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী' ছাহেব রহ.-এর খলীফা ও মুজায। প্রতি মঙ্গলবার আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তাঁর বয়ান হয়। এভাবে প্রতি সপ্তাহে দারুল উলূমে তিনটি মজলিস হয়। এসব মজলিসের উদ্দেশ্যও হলো নিজেদের মধ্যে ইসলাহের ফিকির সৃষ্টি করা।
দেখুন! সভা-সমাবেশ ও ওয়ায-বক্তৃতা অনেক হয়ে থাকে, কিন্তু এসব মজলিসের উদ্দেশ্য হলো আমাদের মধ্যে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংশোধনের চিন্তা জাগ্রত করা। সপ্তাহে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এক ঘণ্টা সময় যদি আপনি এর জন্য অবসর করেন এবং এসব মজলিসের মধ্যে থেকে কোনো একটি মজলিসেও অংশগ্রহণ করেন, তাহলে এর ফলে অন্তরে নিজেকে সংশোধন করার চিন্তা জাগ্রত হবে এবং কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে, কোথায় কোথায় ত্রুটি হচ্ছে, তাও জানা যাবে। কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে, আমাদের তো এখনো তাই জানা নেই। তারপর ঐ সব ভুল সংশোধনের পদ্ধতিও জানা যাবে। আল্লাহ তা'আলা আমাকেও এবং আপনাদেরকেও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমাদের সকলকে নিজেদেরকে সংশোধন করার চিন্তা দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
টিকাঃ
১. মাওলানা সাহবান মাহমুদ ছাহেব রহ. আল্লাহ কাছে চলে গেছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে উঁচু মাকাম দান করুন এবং তাঁর কবরকে নূর দ্বারা ভরে দিন। আমীন, ছুম্মা আমীন।
আপনাদের নিকটে দারুল উলূম করাচী রয়েছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে তিনটি করে মজলিস হয়। দারুল উলূমের সদর হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ রফী' উসমানী ছাহেবের বয়ান বুধবার দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত হয়। সেখানে পুরুষদেরও ব্যবস্থা আছে এবং মহিলাদেরও।
হযরত মাওলানা সাহবান মাহমূদ ছাহেব দারুল উলূম করাচীর শাইখুল হাদীস এবং আমাদের ওস্তাদ ও মুরুব্বী। প্রতি রবিবার আসর এবং মাগরিবের মাঝে তাঁর বয়ান হয়।'
হযরত মাওলানা মুফতী আব্দুর রউফ ছাহেব (মু. যি.) দারুল উলূমের ওস্তাদ এবং হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী' ছাহেব রহ.-এর খলীফা ও মুজায। প্রতি মঙ্গলবার আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তাঁর বয়ান হয়। এভাবে প্রতি সপ্তাহে দারুল উলূমে তিনটি মজলিস হয়। এসব মজলিসের উদ্দেশ্যও হলো নিজেদের মধ্যে ইসলাহের ফিকির সৃষ্টি করা।
দেখুন! সভা-সমাবেশ ও ওয়ায-বক্তৃতা অনেক হয়ে থাকে, কিন্তু এসব মজলিসের উদ্দেশ্য হলো আমাদের মধ্যে আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংশোধনের চিন্তা জাগ্রত করা। সপ্তাহে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এক ঘণ্টা সময় যদি আপনি এর জন্য অবসর করেন এবং এসব মজলিসের মধ্যে থেকে কোনো একটি মজলিসেও অংশগ্রহণ করেন, তাহলে এর ফলে অন্তরে নিজেকে সংশোধন করার চিন্তা জাগ্রত হবে এবং কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে, কোথায় কোথায় ত্রুটি হচ্ছে, তাও জানা যাবে। কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে, আমাদের তো এখনো তাই জানা নেই। তারপর ঐ সব ভুল সংশোধনের পদ্ধতিও জানা যাবে। আল্লাহ তা'আলা আমাকেও এবং আপনাদেরকেও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমাদের সকলকে নিজেদেরকে সংশোধন করার চিন্তা দান করুন। আমীন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
টিকাঃ
১. মাওলানা সাহবান মাহমুদ ছাহেব রহ. আল্লাহ কাছে চলে গেছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে উঁচু মাকাম দান করুন এবং তাঁর কবরকে নূর দ্বারা ভরে দিন। আমীন, ছুম্মা আমীন।