📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সাহাবায়ে কেরাম খাটি স্বর্ণে পরিণত হয়েছিলেন

📄 সাহাবায়ে কেরাম খাটি স্বর্ণে পরিণত হয়েছিলেন


আঘাত করার অনুমতি নেই। অথচ অন্য ব্যক্তি দশবার মারতে পারছে তিনি তো একবার হলেও মারতে পারতেন। হযরত বেলাল হাবশী রাযি.-কে উত্তপ্ত বালির মধ্যে শোয়ানো হচ্ছে। বুকের উপর ভারী পাথর রাখা হচ্ছে আর বলা হচ্ছে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালেমাকে অস্বীকার করো। হযরত বেলাল রাযি.-তাঁর উপর জুলুমের প্রতি-উত্তরে একটা থাপ্পড় তো মারতে পারতেন। কিন্তু তখন হুকুম ছিলো যে, মার খেতে থাকো। তাবারী উঠানোর বা হাত উঠানোর অনুমতি নেই।
এসব কেন করা হয়েছিলো? কারণ, পরীক্ষার এ হাঁপড়ে জ্বালিয়ে তাদেরকে নিখাদ স্বর্ণে পরিণত করা উদ্দেশ্য ছিলো। মার খাবে, আর ধৈর্য ধরবে। কোন্ মানুষ এমন আছে, যাকে অন্য মানুষ মারবে আর তার রাগ হবে না? কিন্তু হুকুম দেওয়া হচ্ছে যে, রাগকে দমন করো। যখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে রাগকে দমন করবে, তখন নিজের প্রবৃত্তির চাহিদাকে আল্লাহর হুকুমের সামনে কতাওবান করার উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। এজন্যে মক্কী জীবনের তেরো বছর এভাবে অতিবাহিত হয় যে, তাতে হুকুম ছিলো, অন্যের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে হাত উঠাবে না। বরং ইবাদতের মধ্যে মগ্ন থাকবে। আল্লাহমুখী হবে। আল্লাহকে স্মরণ করবে। আখেরাতের কথা চিন্তা করবে। জান্নাত জাহান্নামের কথা চিন্তা করবে। নিজের আমল আখলাকের ইসলাহ করবে। দীর্ঘ তেরো বছর সময়ে সাহাবায়ে কেরামের জামাত যখন ধৈর্য ও পরীক্ষার কঠিন সময় অতিক্রম করে নিখাদ স্বর্ণে পরিণত হন, তখন মদীনা শরীফের জীবনের সূচনা হয়। তখন তিনি সেখানে এমন রাজত্ব এবং এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করেন যে, আকাশ-বাতাস এমন ব্যবস্থা না ইতিপূর্বে কখনো দেখেছে, না এরপরে কখনো দেখেছে। কারণ, প্রত্যেকে নিজ্যে ইসলাহের চিন্তায় বিভোর হয়ে নিজেকে নিজে নিখাদ স্বর্ণে পরিণত করেছিলেন। এজন্য প্রথম কাজ হলো নিজের ইসলাহের ফিকির করা। নিজের ইসলাহের পর মানুষ যখন অন্যের ইসলাহের জন্য অগ্রসর হবে, তখন ইনশাআল্লাহ কামিয়াব হবে। সাহাবায়ে কেরাম যে জায়গাতেই পৌছেছেন, আল্লাহ তা'আলা বিজয় ও সফলতা তাঁদের ভাগ্য লিপিতে পরিণত করেছেন। কারণ, তাঁরা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে নিজেদের ইসলাহ করিয়েছিলেন।

আঘাত করার অনুমতি নেই। অথচ অন্য ব্যক্তি দশবার মারতে পারছে তিনি তো একবার হলেও মারতে পারতেন। হযরত বেলাল হাবশী রাযি.-কে উত্তপ্ত বালির মধ্যে শোয়ানো হচ্ছে। বুকের উপর ভারী পাথর রাখা হচ্ছে আর বলা হচ্ছে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালেমাকে অস্বীকার করো। হযরত বেলাল রাযি.-তাঁর উপর জুলুমের প্রতি-উত্তরে একটা থাপ্পড় তো মারতে পারতেন। কিন্তু তখন হুকুম ছিলো যে, মার খেতে থাকো। তাবারী উঠানোর বা হাত উঠানোর অনুমতি নেই।
এসব কেন করা হয়েছিলো? কারণ, পরীক্ষার এ হাঁপড়ে জ্বালিয়ে তাদেরকে নিখাদ স্বর্ণে পরিণত করা উদ্দেশ্য ছিলো। মার খাবে, আর ধৈর্য ধরবে। কোন্ মানুষ এমন আছে, যাকে অন্য মানুষ মারবে আর তার রাগ হবে না? কিন্তু হুকুম দেওয়া হচ্ছে যে, রাগকে দমন করো। যখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে রাগকে দমন করবে, তখন নিজের প্রবৃত্তির চাহিদাকে আল্লাহর হুকুমের সামনে কতাওবান করার উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। এজন্যে মক্কী জীবনের তেরো বছর এভাবে অতিবাহিত হয় যে, তাতে হুকুম ছিলো, অন্যের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে হাত উঠাবে না। বরং ইবাদতের মধ্যে মগ্ন থাকবে। আল্লাহমুখী হবে। আল্লাহকে স্মরণ করবে। আখেরাতের কথা চিন্তা করবে। জান্নাত জাহান্নামের কথা চিন্তা করবে। নিজের আমল আখলাকের ইসলাহ করবে। দীর্ঘ তেরো বছর সময়ে সাহাবায়ে কেরামের জামাত যখন ধৈর্য ও পরীক্ষার কঠিন সময় অতিক্রম করে নিখাদ স্বর্ণে পরিণত হন, তখন মদীনা শরীফের জীবনের সূচনা হয়। তখন তিনি সেখানে এমন রাজত্ব এবং এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করেন যে, আকাশ-বাতাস এমন ব্যবস্থা না ইতিপূর্বে কখনো দেখেছে, না এরপরে কখনো দেখেছে। কারণ, প্রত্যেকে নিজ্যে ইসলাহের চিন্তায় বিভোর হয়ে নিজেকে নিজে নিখাদ স্বর্ণে পরিণত করেছিলেন। এজন্য প্রথম কাজ হলো নিজের ইসলাহের ফিকির করা। নিজের ইসলাহের পর মানুষ যখন অন্যের ইসলাহের জন্য অগ্রসর হবে, তখন ইনশাআল্লাহ কামিয়াব হবে। সাহাবায়ে কেরাম যে জায়গাতেই পৌছেছেন, আল্লাহ তা'আলা বিজয় ও সফলতা তাঁদের ভাগ্য লিপিতে পরিণত করেছেন। কারণ, তাঁরা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে নিজেদের ইসলাহ করিয়েছিলেন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নিজের উপর জরিপ চালান

📄 নিজের উপর জরিপ চালান


আজ ইসলাহের যাবতীয় চেষ্টা সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ মনে হয়। সমাজের উপর তার উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব দেখা যায় না। এর কারণ এই যে, আমরা নিজেদের ইসলাহের বিষয়ে গাফেল হয়ে গেছি। আমাদের ভিতরে এ চিন্তা নেই যে, আমাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জওয়াব দিতে হবে। আমার মধ্যে যে সমস্ত খারাবী আছে, সেগুলো সংশোধন করার চিন্তা আমার মধ্যে নেই।
আমার আজকের নিবেদনের সারকথা এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিদিন জরিপ চালিয়ে দেখবে যে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করছি। ইসলাম হলো পাঁচ ধরনের আমলের সমন্বয়।
১. আকীদা বিশ্বাস সঠিক হতে হবে।
২. ইবাদত তথা নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদি সঠিক হতে হবে।
৩. মুআমালাত তথা বেচা-কেনা হালাল পদ্ধতিতে হতে হবে। আমদানী হালাল হতে হবে। হারাম কোনো আমদানী থাকা যাবে না।
৪. মুআশারাত, তথা পরস্পরে একত্রে বসবাসের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের হুকুম-আহকামের আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে।
৫. আখলাক তথা মানুষের নীতি-চরিত্র বিশুদ্ধ হতে হবে। মন্দ চরিত্র- যেমন বিদ্বেষ, অহংকার, হিংসা, হঠকারিতা প্রভৃতি না থাকতে হবে। উত্তম চরিত্র- যেমন বিনয়, তাওয়াক্কুল, শোকর ও সবর থাকতে হবে।
এ পাঁচ শাখার উপর মানুষ যখন আমল করবে, তখন তার দ্বীন পরিপূর্ণ হবে। তখন সে মানুষ সঠিক অর্থে মুসলিম হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি এ পাঁচ শাখাকে সামনে রেখে নিজের উপর জরিপ চালাবে। যেমন আমার আকীদা-বিশ্বাস ঠিক আছে কি না? আমার জিম্মায় জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া ফরয, আমি তার মধ্যে কতগুলো আদায় করি, আর কতগুলো ছেড়ে দেই? আমার আমদানী হালাল না হারাম? বাজারে যখন লেনদেন করি, সে লেনদেন সঠিক হয় কি না? আমার নীতি-চরিত্র ঠিক আছে কি না? অন্যের সঙ্গে আমার আচার-ব্যবহার ঠিক আছে কি না? আমি তো মিথ্যা বলি না? আমি তো গীবত করি না? আমি কারো মনে কষ্ট দেই না তো? কাউকে পেরেশান করি না তো? নিজের মধ্যে এসব বিষয়ে জরিপ চালাবে। কোথাও কোনো খারাবী থাকে, তাহলে তা দূর করার চেষ্টা করবে। একেবারে ছাড়তে না পারে, তাহলে কম করার চেষ্টা করবে।
যেমন দেখবে যে, আমি দিনে কতো বার মিথ্যা বলি। তারপর দেখবে যে, এর মধ্যে থেকে কতো বার মিথ্যা বলাকে অবিলম্বে ছাড়তে পারি সেগুলো অবিলম্বে ছেড়ে দিবে। মজলিসে বসলে কতবার গীবত করি? তার পরিমাণ ছাড়তে পারি? সে পরিমাণ ছেড়ে দিবে। এভাবে জরিপ চালিয়ে গোনাহ ছাড়া শুরু করবে। নিজের ইসলাহের ফিকির জাগ্রত করবে। ইসলাহের ফিকিরের প্রদীপ একবার যদি আপনার হৃদয়ে আলোকিত হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ এ প্রদীপ আপনার জীবনকে আলোকিত করবে। এবং চিন্তা করবেন না যে, একজন ঠিক হলে এর কী প্রভাব পড়বে?

আজ ইসলাহের যাবতীয় চেষ্টা সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ মনে হয়। সমাজের উপর তার উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব দেখা যায় না। এর কারণ এই যে, আমরা নিজেদের ইসলাহের বিষয়ে গাফেল হয়ে গেছি। আমাদের ভিতরে এ চিন্তা নেই যে, আমাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জওয়াব দিতে হবে। আমার মধ্যে যে সমস্ত খারাবী আছে, সেগুলো সংশোধন করার চিন্তা আমার মধ্যে নেই।
আমার আজকের নিবেদনের সারকথা এই যে, প্রত্যেক ব্যক্তি প্রতিদিন জরিপ চালিয়ে দেখবে যে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করছি। ইসলাম হলো পাঁচ ধরনের আমলের সমন্বয়।
১. আকীদা বিশ্বাস সঠিক হতে হবে।
২. ইবাদত তথা নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদি সঠিক হতে হবে।
৩. মুআমালাত তথা বেচা-কেনা হালাল পদ্ধতিতে হতে হবে। আমদানী হালাল হতে হবে। হারাম কোনো আমদানী থাকা যাবে না।
৪. মুআশারাত, তথা পরস্পরে একত্রে বসবাসের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের হুকুম-আহকামের আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে।
৫. আখলাক তথা মানুষের নীতি-চরিত্র বিশুদ্ধ হতে হবে। মন্দ চরিত্র- যেমন বিদ্বেষ, অহংকার, হিংসা, হঠকারিতা প্রভৃতি না থাকতে হবে। উত্তম চরিত্র- যেমন বিনয়, তাওয়াক্কুল, শোকর ও সবর থাকতে হবে।
এ পাঁচ শাখার উপর মানুষ যখন আমল করবে, তখন তার দ্বীন পরিপূর্ণ হবে। তখন সে মানুষ সঠিক অর্থে মুসলিম হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি এ পাঁচ শাখাকে সামনে রেখে নিজের উপর জরিপ চালাবে। যেমন আমার আকীদা-বিশ্বাস ঠিক আছে কি না? আমার জিম্মায় জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া ফরয, আমি তার মধ্যে কতগুলো আদায় করি, আর কতগুলো ছেড়ে দেই? আমার আমদানী হালাল না হারাম? বাজারে যখন লেনদেন করি, সে লেনদেন সঠিক হয় কি না? আমার নীতি-চরিত্র ঠিক আছে কি না? অন্যের সঙ্গে আমার আচার-ব্যবহার ঠিক আছে কি না? আমি তো মিথ্যা বলি না? আমি তো গীবত করি না? আমি কারো মনে কষ্ট দেই না তো? কাউকে পেরেশান করি না তো? নিজের মধ্যে এসব বিষয়ে জরিপ চালাবে। কোথাও কোনো খারাবী থাকে, তাহলে তা দূর করার চেষ্টা করবে। একেবারে ছাড়তে না পারে, তাহলে কম করার চেষ্টা করবে।
যেমন দেখবে যে, আমি দিনে কতো বার মিথ্যা বলি। তারপর দেখবে যে, এর মধ্যে থেকে কতো বার মিথ্যা বলাকে অবিলম্বে ছাড়তে পারি সেগুলো অবিলম্বে ছেড়ে দিবে। মজলিসে বসলে কতবার গীবত করি? তার পরিমাণ ছাড়তে পারি? সে পরিমাণ ছেড়ে দিবে। এভাবে জরিপ চালিয়ে গোনাহ ছাড়া শুরু করবে। নিজের ইসলাহের ফিকির জাগ্রত করবে। ইসলাহের ফিকিরের প্রদীপ একবার যদি আপনার হৃদয়ে আলোকিত হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ এ প্রদীপ আপনার জীবনকে আলোকিত করবে। এবং চিন্তা করবেন না যে, একজন ঠিক হলে এর কী প্রভাব পড়বে?

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বাতি থেকে বাতি জ্বলে

📄 বাতি থেকে বাতি জ্বলে


মনে রাখবেন! আমার আপনার ও অন্যান্য লোকের সমন্বয়েই সমাজ। সমাজের একজন ব্যক্তি যদি সংশোধিত হয়, সে যদি কিছু গোনাহ ত্যাগ করে, আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য শুরু করে, তাহলে কমপক্ষে একটি বাতি তো জ্বললো। বাতি ছোট হলেও তার আশেপাশে অন্ধকার থাকতে দেয় না। নিজের পরিবেশকে অবশ্যই আলোকিত করে। অসম্ভব নয় যে, একটি বাতিকে জ্বলতে দেখে অন্য ব্যক্তি তার নিজের বাতি জ্বালিয়ে নিবে। দ্বিতীয়টি থেকে তৃতীয় বাতি জ্বলে উঠবে। এভাবে পুরো পরিবেশ আলোকিত হবে। কিন্তু মানুষ যদি চিন্তা করে যে, আমি আমার বাতিকে নিভিয়ে রাখবো এবং সে নিভানো বাতি থেকে অন্যদের বাতি জ্বালিয়ে দেবো, তাদেরকে আলোকিত করবো, এমনটি হতে পারে না। যে বাতি নিজেই নিভে আছে, সে অন্য বাতিকে আলোকিত করতে পারে না। ঠিক একইভাবে আমি যদি নিজে ইসলাহের ফিকির না করে অন্যের ইসলাহ করতে আরম্ভ করি, তাহলে এটা তেমন, যেমন কি না নিজের নিভানো বাতি দ্বারা অন্যের বাতি জ্বালানোর চেষ্টা করা। এটা অসম্ভব। আল্লাহ তা'আলা দয়া করে আমাদের অন্তরে নিজেরদেরকে সংশোধন করার চিন্তা জাগ্রত করে দিন।

মনে রাখবেন! আমার আপনার ও অন্যান্য লোকের সমন্বয়েই সমাজ। সমাজের একজন ব্যক্তি যদি সংশোধিত হয়, সে যদি কিছু গোনাহ ত্যাগ করে, আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য শুরু করে, তাহলে কমপক্ষে একটি বাতি তো জ্বললো। বাতি ছোট হলেও তার আশেপাশে অন্ধকার থাকতে দেয় না। নিজের পরিবেশকে অবশ্যই আলোকিত করে। অসম্ভব নয় যে, একটি বাতিকে জ্বলতে দেখে অন্য ব্যক্তি তার নিজের বাতি জ্বালিয়ে নিবে। দ্বিতীয়টি থেকে তৃতীয় বাতি জ্বলে উঠবে। এভাবে পুরো পরিবেশ আলোকিত হবে। কিন্তু মানুষ যদি চিন্তা করে যে, আমি আমার বাতিকে নিভিয়ে রাখবো এবং সে নিভানো বাতি থেকে অন্যদের বাতি জ্বালিয়ে দেবো, তাদেরকে আলোকিত করবো, এমনটি হতে পারে না। যে বাতি নিজেই নিভে আছে, সে অন্য বাতিকে আলোকিত করতে পারে না। ঠিক একইভাবে আমি যদি নিজে ইসলাহের ফিকির না করে অন্যের ইসলাহ করতে আরম্ভ করি, তাহলে এটা তেমন, যেমন কি না নিজের নিভানো বাতি দ্বারা অন্যের বাতি জ্বালানোর চেষ্টা করা। এটা অসম্ভব। আল্লাহ তা'আলা দয়া করে আমাদের অন্তরে নিজেরদেরকে সংশোধন করার চিন্তা জাগ্রত করে দিন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 এ চিন্তা কীভাবে সৃষ্টি হবে?

📄 এ চিন্তা কীভাবে সৃষ্টি হবে?


এখন প্রশ্ন হলো, নিজের ইসলাহের চিন্তা কীভাবে সৃষ্টি হবে? এর পদ্ধতি এই যে, এখন এখানে বসে আমরা যেমন নিজেদের ইসলাহের চিন্তা সম্পর্কে আলোচনা করলাম এবং শুনলাম, এর ফলে আমাদের অন্তরে ইসলাহের কমবেশি চিন্তা জাগ্রত হয়েছে। এ আলোচনাই যদি বারবার শোনা হয়, বিভিন্ন বৈঠকে শোনা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বারবার শোনার ফলে এ ফিকির আমাদের অন্তরে সৃষ্টি হবে। দেখুন! কুরআন শরীফে وَأَقِيمُوا الصَّلُوةَ 'নামায কায়েম করো' কথাটা বাষট্টি বার এসেছে। অথচ আল্লাহ তা'আলা একবার যদি হুকুম দিতেন যে, নামায কায়েম করো তাহলে তাই যথেষ্ট ছিলো, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বারবার বলেছেন। কেন? এ কারণে যে, মানুষের স্বভাব হলো, যখন কোনো কথা বারবার বলা হয়, তখন অন্তরে তার প্রভাব পড়ে। সে কথা অন্তরে বসে যায়। শুধু একবার শুনলে ফায়দা হয় না। এজন্য এ ফিকির পয়দা করার জন্যে এমন মজলিসগুলোতে যাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে, যেখানে ইসলাহের আলোচনা হয়।

এখন প্রশ্ন হলো, নিজের ইসলাহের চিন্তা কীভাবে সৃষ্টি হবে? এর পদ্ধতি এই যে, এখন এখানে বসে আমরা যেমন নিজেদের ইসলাহের চিন্তা সম্পর্কে আলোচনা করলাম এবং শুনলাম, এর ফলে আমাদের অন্তরে ইসলাহের কমবেশি চিন্তা জাগ্রত হয়েছে। এ আলোচনাই যদি বারবার শোনা হয়, বিভিন্ন বৈঠকে শোনা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বারবার শোনার ফলে এ ফিকির আমাদের অন্তরে সৃষ্টি হবে। দেখুন! কুরআন শরীফে وَأَقِيمُوا الصَّلُوةَ 'নামায কায়েম করো' কথাটা বাষট্টি বার এসেছে। অথচ আল্লাহ তা'আলা একবার যদি হুকুম দিতেন যে, নামায কায়েম করো তাহলে তাই যথেষ্ট ছিলো, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বারবার বলেছেন। কেন? এ কারণে যে, মানুষের স্বভাব হলো, যখন কোনো কথা বারবার বলা হয়, তখন অন্তরে তার প্রভাব পড়ে। সে কথা অন্তরে বসে যায়। শুধু একবার শুনলে ফায়দা হয় না। এজন্য এ ফিকির পয়দা করার জন্যে এমন মজলিসগুলোতে যাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে, যেখানে ইসলাহের আলোচনা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00