📄 হযরত ওমর রাযি.-এর নিজের ব্যাপারে মুনাফিকির সন্দেহ
হযরত ওমর ফারুক রাযি. মুসলিমদের দ্বিতীয় খলীফা ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيًّا لَكَانَ عُمَرُ
আমার পরে যদি কোনো নবী আসতো তাহলে ওমর নবী হতো। কিন্তু আমার পরে কোনো নবী নেই।'
আল্লাহ তা'আলা তাঁকে এতো উঁচু মাকাম দান করেছেন। তাঁর অবস্থা শুনুন। হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছিলেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী। তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'রহস্যজান্তা' হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মদীনায় বসবাসকারী মুনাফিকদের নাম বলেছিলেন যে, অমুক অমুক ব্যক্তি মুনাফিক। হিকমতের কারণে তিনি হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছাড়া অন্য কাউকে তাদের নাম বলেননি। কারো মৃত্যু হলে মানুষ লক্ষ করতো যে, হযরত হুযাইফা রাযি. তার জানাযার নামাযে অংশ নিয়েছেন কি না। কারণ, হযরত হুযাইফা রাযি.-এর অংশ গ্রহণ এ কথার আলামত ছিলো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় নেই। আর যদি অংশগ্রহণ না করতেন তাহলে বুঝা যেতো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় আছে, বিধায় হযরত হুযাইফা রাযি. জানাযার নামাযে অংশ গ্রহণ করেননি।
হযরত ওমর ফারুক রাযি. হযরত হুযাইফা রাযি.-এর নিকট গমন করে আবেদনের সুরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হে হুযাইফা! আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বলো, তোমার নিকট মুনাফিকদের যেই তালিকা রয়েছে তার মধ্যে ওমরের নাম নেই তো?
এ কথা এমন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করছেন, যিনি নিজ কানে হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে শুনেছেন যে,
عُمَرُ فِي الْجَنَّةِ
'ওমর জান্নাতে যাবে।'
যাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমার পরে যদি কেউ নবী হতো তাহলে সে ওমর হতো। তাঁকে এ চিন্তা পেয়ে বসেছে যে, আমি তো মুনাফিক নই।
এ চিন্তা এজন্য ছিলো যে, নিঃসন্দেহে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ওমর জান্নাতে যাবে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
‘যে ব্যক্তিই ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে যাবে।”
এতদসত্ত্বেও হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর চিন্তা জাগে যে, কালেমা পাঠকারী ব্যক্তি নিঃসন্দেহে জান্নাতে যাবে, কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে যদি কারো আমল খারাপ হয়ে যায় তাহলে সে এ সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। এজন্য আমার ভয় হয় যে, হয়তো আমার আমল খারাপ হয়ে গেছে, ফলে আমি মুনাফিকদের দলভুক্ত হয়ে গেছি।
বাস্তবতা এই যে, মানুষ যখন নিজের দোষ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজের সংশোধনের ব্যাপারে চিন্তা শুরু করে, তখন সে নিজ দৃষ্টিতে অন্যদেরকে এতো খারাপ দেখতে পায় না, নিজেকে যতো খারাপ দেখতে পায়।
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭৬৪
২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৯
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৮০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৪৩
৪. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৬২
হযরত ওমর ফারুক রাযি. মুসলিমদের দ্বিতীয় খলীফা ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيًّا لَكَانَ عُمَرُ
আমার পরে যদি কোনো নবী আসতো তাহলে ওমর নবী হতো। কিন্তু আমার পরে কোনো নবী নেই।'
আল্লাহ তা'আলা তাঁকে এতো উঁচু মাকাম দান করেছেন। তাঁর অবস্থা শুনুন। হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছিলেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী। তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'রহস্যজান্তা' হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মদীনায় বসবাসকারী মুনাফিকদের নাম বলেছিলেন যে, অমুক অমুক ব্যক্তি মুনাফিক। হিকমতের কারণে তিনি হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছাড়া অন্য কাউকে তাদের নাম বলেননি। কারো মৃত্যু হলে মানুষ লক্ষ করতো যে, হযরত হুযাইফা রাযি. তার জানাযার নামাযে অংশ নিয়েছেন কি না। কারণ, হযরত হুযাইফা রাযি.-এর অংশ গ্রহণ এ কথার আলামত ছিলো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় নেই। আর যদি অংশগ্রহণ না করতেন তাহলে বুঝা যেতো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় আছে, বিধায় হযরত হুযাইফা রাযি. জানাযার নামাযে অংশ গ্রহণ করেননি।
হযরত ওমর ফারুক রাযি. হযরত হুযাইফা রাযি.-এর নিকট গমন করে আবেদনের সুরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হে হুযাইফা! আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বলো, তোমার নিকট মুনাফিকদের যেই তালিকা রয়েছে তার মধ্যে ওমরের নাম নেই তো?
এ কথা এমন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করছেন, যিনি নিজ কানে হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে শুনেছেন যে,
عُمَرُ فِي الْجَنَّةِ
'ওমর জান্নাতে যাবে।'
যাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমার পরে যদি কেউ নবী হতো তাহলে সে ওমর হতো। তাঁকে এ চিন্তা পেয়ে বসেছে যে, আমি তো মুনাফিক নই।
এ চিন্তা এজন্য ছিলো যে, নিঃসন্দেহে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ওমর জান্নাতে যাবে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
‘যে ব্যক্তিই ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে যাবে।”
এতদসত্ত্বেও হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর চিন্তা জাগে যে, কালেমা পাঠকারী ব্যক্তি নিঃসন্দেহে জান্নাতে যাবে, কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে যদি কারো আমল খারাপ হয়ে যায় তাহলে সে এ সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। এজন্য আমার ভয় হয় যে, হয়তো আমার আমল খারাপ হয়ে গেছে, ফলে আমি মুনাফিকদের দলভুক্ত হয়ে গেছি।
বাস্তবতা এই যে, মানুষ যখন নিজের দোষ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজের সংশোধনের ব্যাপারে চিন্তা শুরু করে, তখন সে নিজ দৃষ্টিতে অন্যদেরকে এতো খারাপ দেখতে পায় না, নিজেকে যতো খারাপ দেখতে পায়।
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭৬৪
২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৯
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৮০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৪৩
৪. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৬২
📄 দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতার চূড়ান্ত
বর্তমানে আমাদের ব্যাপার হয়ে গেছে উল্টা। আমরা যদি দ্বীনের কোনো বিষয় আলোচনা করি তখন সাধারণত তার মধ্যে ইসলাহের কোনো বিষয় থাকে না। বরং বিভিন্ন দলীয় আলোচনায় লিপ্ত হয়ে যাই। কখনো রাজনৈতিক কথা শুরু করে দেই, আবার কখনো এমন থিওরী বা দর্শন নিয়ে আলোচনা শুরু করি, বাস্তব জীবনের সাথে যার কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে আজ আমাদের সমাজে দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতা এতো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, পূর্বে দ্বীনের যেসব বিষয় শিশুদের জানা থাকতো, আজ বড়ো বড়ো শিক্ষিত মানুষেরও সেগুলো জানা নেই। তাদেরকে যখন বলা হয় যে, এটি দ্বীনের বিষয়। তখন অপরিচিতের ন্যায় বিস্ময়ের সাথে বলে, আচ্ছা এটাও দ্বীনের বিষয়! আমার তো জানাও নেই যে, এটা দ্বীনের একটি অংশ। এর কারণ এই যে, বর্তমানে আমাদের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কুরআনে কারীম পরিষ্কার ভাষায় বলছে যে, সমাজ সংস্কারের যতো সংগঠন আর যতো প্রতিষ্ঠানই করো না কেন, তোমাদের প্রত্যেকে নিজের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা জাগ্রত না করা পর্যন্ত সমাজের সংশোধন কখনোই সম্ভব হবে না।
বর্তমানে আমাদের ব্যাপার হয়ে গেছে উল্টা। আমরা যদি দ্বীনের কোনো বিষয় আলোচনা করি তখন সাধারণত তার মধ্যে ইসলাহের কোনো বিষয় থাকে না। বরং বিভিন্ন দলীয় আলোচনায় লিপ্ত হয়ে যাই। কখনো রাজনৈতিক কথা শুরু করে দেই, আবার কখনো এমন থিওরী বা দর্শন নিয়ে আলোচনা শুরু করি, বাস্তব জীবনের সাথে যার কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে আজ আমাদের সমাজে দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতা এতো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, পূর্বে দ্বীনের যেসব বিষয় শিশুদের জানা থাকতো, আজ বড়ো বড়ো শিক্ষিত মানুষেরও সেগুলো জানা নেই। তাদেরকে যখন বলা হয় যে, এটি দ্বীনের বিষয়। তখন অপরিচিতের ন্যায় বিস্ময়ের সাথে বলে, আচ্ছা এটাও দ্বীনের বিষয়! আমার তো জানাও নেই যে, এটা দ্বীনের একটি অংশ। এর কারণ এই যে, বর্তমানে আমাদের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কুরআনে কারীম পরিষ্কার ভাষায় বলছে যে, সমাজ সংস্কারের যতো সংগঠন আর যতো প্রতিষ্ঠানই করো না কেন, তোমাদের প্রত্যেকে নিজের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা জাগ্রত না করা পর্যন্ত সমাজের সংশোধন কখনোই সম্ভব হবে না।
📄 বর্তমানে আমাদের অবস্থা
এখন যদি আমি পতাকা হাতে নিয়ে ব্যাজ লাগিয়ে সমাজ সংস্কারের শ্লোগান দিয়ে ঘুরতে থাকি আর আমার নিজের অবস্থা এই হয় যে, ঘুষ নেওয়ার সুযোগ হলে আমি কারো থেকে পিছিয়ে থাকি না। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলে ডরাই না। সুদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে তো সবার আগে, কিন্তু সুদী কারবার করার সুযোগ হলে চুপচাপ তা করে ফেলি, বলুন! তাহলে সমাজ সংস্কার কীভাবে হবে? সারা দুনিয়ার লোক সম্পর্কে মন্তব্য করে বলি, মানুষ মিথুক হয়ে গেছে, ধোঁকা ও প্রতারণা বিস্তার লাভ করেছে, ঠকবাজি চলছে, পাপ ও অনাচার বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু যখন মিথ্যা বলার সুযোগ হয় এবং ছুটি বাড়ানোর জন্যে মিথ্যা ও জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট বানানোর প্রয়োজন পড়ে, তখন কি চিন্তা করি যে, এটা মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট? এটাও এই মিথ্যা আল্লাহর রোষ টেনে আনবে। এসব মন্দ কাজ যখন আমি ছাড়ি না, তাহলে আমার সমাজ সংস্কারের শ্লোগান দ্বারা, সভা-সমাবেশ করার দ্বারা, মিছিল করার দ্বারা কী লাভ হবে? এমনিভাবে আমি যদি অন্যদেরকে তিরস্কার করি যে, তারা দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছে, দ্বীনের বিধি-বিধানের উপর আমল করছে না, কিন্তু আমার কোনো মজলিস গীবত থেকে খালি থাকে না, কখনো ওর দোষ বলছি, কখনো এর দোষ বলছি, এভাবে কুরআনে কারীমের ভাষ্য মতো প্রতিদিন ও প্রতিমুহূর্তে নিজের মরা ভাইয়ের গোশত খাচ্ছি, তাহলে বলুন! সমাজের সংশোধন কীভাবে হবে?
এখন যদি আমি পতাকা হাতে নিয়ে ব্যাজ লাগিয়ে সমাজ সংস্কারের শ্লোগান দিয়ে ঘুরতে থাকি আর আমার নিজের অবস্থা এই হয় যে, ঘুষ নেওয়ার সুযোগ হলে আমি কারো থেকে পিছিয়ে থাকি না। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলে ডরাই না। সুদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে তো সবার আগে, কিন্তু সুদী কারবার করার সুযোগ হলে চুপচাপ তা করে ফেলি, বলুন! তাহলে সমাজ সংস্কার কীভাবে হবে? সারা দুনিয়ার লোক সম্পর্কে মন্তব্য করে বলি, মানুষ মিথুক হয়ে গেছে, ধোঁকা ও প্রতারণা বিস্তার লাভ করেছে, ঠকবাজি চলছে, পাপ ও অনাচার বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু যখন মিথ্যা বলার সুযোগ হয় এবং ছুটি বাড়ানোর জন্যে মিথ্যা ও জাল মেডিকেল সার্টিফিকেট বানানোর প্রয়োজন পড়ে, তখন কি চিন্তা করি যে, এটা মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট? এটাও এই মিথ্যা আল্লাহর রোষ টেনে আনবে। এসব মন্দ কাজ যখন আমি ছাড়ি না, তাহলে আমার সমাজ সংস্কারের শ্লোগান দ্বারা, সভা-সমাবেশ করার দ্বারা, মিছিল করার দ্বারা কী লাভ হবে? এমনিভাবে আমি যদি অন্যদেরকে তিরস্কার করি যে, তারা দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছে, দ্বীনের বিধি-বিধানের উপর আমল করছে না, কিন্তু আমার কোনো মজলিস গীবত থেকে খালি থাকে না, কখনো ওর দোষ বলছি, কখনো এর দোষ বলছি, এভাবে কুরআনে কারীমের ভাষ্য মতো প্রতিদিন ও প্রতিমুহূর্তে নিজের মরা ভাইয়ের গোশত খাচ্ছি, তাহলে বলুন! সমাজের সংশোধন কীভাবে হবে?
📄 সংশোধনের পদ্ধতি এই
সমাজের সংশোধন তো তখন হবে যখন চিন্তা করবো যে, আমার মিথ্যা বলার অভ্যাস আছে, তা কীভাবে ছাড়তে পারি? আমি অন্যদের গীবত করি, এটা কীভাবে ছাড়তে পারি? মানুষকে ধোঁকা দেই, কীভাবে তা ত্যাগ করতে পারি? যদি ঘুষ নেই তাহলে ঘুষ নেওয়া ছেড়ে দেই। যদি সুদ খাই তাহলে সুদ খাওয়া ছেড়ে দেই। যদি বেপর্দা, উলঙ্গপনা ও অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকি তাহলে তা পরিহার করি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার অন্তরে এ চিন্তা জাগ্রত না হবে, মনে রাখবেন! ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলাহের এ ফিকির অন্যদের মধ্যে স্থানান্তরিত হবে না। এজন্য কুরআনে কারীম বলেছে,
عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
'নিজেদের জানের চিন্তা করো, অন্যেরা যদি বিপথগামী হয় তাহলে তাদের বিপথগামিতা তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না, যদি তোমরা সঠিক পথে থাকো।'
সমাজের সংশোধন তো তখন হবে যখন চিন্তা করবো যে, আমার মিথ্যা বলার অভ্যাস আছে, তা কীভাবে ছাড়তে পারি? আমি অন্যদের গীবত করি, এটা কীভাবে ছাড়তে পারি? মানুষকে ধোঁকা দেই, কীভাবে তা ত্যাগ করতে পারি? যদি ঘুষ নেই তাহলে ঘুষ নেওয়া ছেড়ে দেই। যদি সুদ খাই তাহলে সুদ খাওয়া ছেড়ে দেই। যদি বেপর্দা, উলঙ্গপনা ও অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকি তাহলে তা পরিহার করি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার অন্তরে এ চিন্তা জাগ্রত না হবে, মনে রাখবেন! ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলাহের এ ফিকির অন্যদের মধ্যে স্থানান্তরিত হবে না। এজন্য কুরআনে কারীম বলেছে,
عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ
'নিজেদের জানের চিন্তা করো, অন্যেরা যদি বিপথগামী হয় তাহলে তাদের বিপথগামিতা তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না, যদি তোমরা সঠিক পথে থাকো।'