📄 এক মহিলার শিক্ষনীয় ঘটনা
আমার এক আত্মীয়া মহিলার একবার পেটে গ্যাস জমে কষ্ট হচ্ছিলো। ব্যথ্যায় সে অস্থির ছিলো। সে অনেক বেশি অসুস্থ বোধ করছিলো। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্যে আমি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। লিফট যোগে উপরে আরোহণের সময় সেখানে হুইল চেয়ারে একজন মহিলা বসা দেখতে পাই। তার সারা শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। কয়েক জায়গার হাড্ডিও ভেঙ্গে গেছে। চামড়া পুড়ে গেছে। আমি চিন্তা করলাম যে, আমার এ আত্মীয়া মহিলাকে বলি, সে তোমার চেয়ে বেশি কষ্টে আছে। তাহলে তার রোগের কষ্ট লাঘব হবে। আমি তাকে বললাম, দেখো! এ মহিলা কেমন বিপদে আছে। কেমন মারাত্মক কষ্টে আছে। আমার ঐ আত্মীয়া মহিলা তার প্রতি একবার দৃষ্টি দিয়ে বললো, হ্যাঁ সে কষ্টে আছে ঠিক, কিন্তু তার পেট ব্যথা তো নেই। দেখুন! যার পুরো শরীর জ্বলে গেছে, হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে, তার রোগের ব্যাপারে এমন অনুভূতি নেই, নিজের রোগের ব্যাপারে যেমন অনুভূতি রয়েছে।
এ ঘটনা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা আমার অন্তরে এ কথা ঢেলে দিলেন যে, হায়! দ্বীনের বিষয়ে আমাদের অন্তরে যদি এমন চিন্তা জাগতো। আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের রোগ এবং আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে যদি চিন্তা জাগ্রত করে দিতেন যে, আমার আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে আমার চিন্তা করা উচিত। তাহলে অন্যের ব্যাধির প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে নিজের ব্যাধি সংশোধনের চিন্তা করতাম।
আমার এক আত্মীয়া মহিলার একবার পেটে গ্যাস জমে কষ্ট হচ্ছিলো। ব্যথ্যায় সে অস্থির ছিলো। সে অনেক বেশি অসুস্থ বোধ করছিলো। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্যে আমি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। লিফট যোগে উপরে আরোহণের সময় সেখানে হুইল চেয়ারে একজন মহিলা বসা দেখতে পাই। তার সারা শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। কয়েক জায়গার হাড্ডিও ভেঙ্গে গেছে। চামড়া পুড়ে গেছে। আমি চিন্তা করলাম যে, আমার এ আত্মীয়া মহিলাকে বলি, সে তোমার চেয়ে বেশি কষ্টে আছে। তাহলে তার রোগের কষ্ট লাঘব হবে। আমি তাকে বললাম, দেখো! এ মহিলা কেমন বিপদে আছে। কেমন মারাত্মক কষ্টে আছে। আমার ঐ আত্মীয়া মহিলা তার প্রতি একবার দৃষ্টি দিয়ে বললো, হ্যাঁ সে কষ্টে আছে ঠিক, কিন্তু তার পেট ব্যথা তো নেই। দেখুন! যার পুরো শরীর জ্বলে গেছে, হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে, তার রোগের ব্যাপারে এমন অনুভূতি নেই, নিজের রোগের ব্যাপারে যেমন অনুভূতি রয়েছে।
এ ঘটনা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা আমার অন্তরে এ কথা ঢেলে দিলেন যে, হায়! দ্বীনের বিষয়ে আমাদের অন্তরে যদি এমন চিন্তা জাগতো। আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের রোগ এবং আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে যদি চিন্তা জাগ্রত করে দিতেন যে, আমার আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে আমার চিন্তা করা উচিত। তাহলে অন্যের ব্যাধির প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে নিজের ব্যাধি সংশোধনের চিন্তা করতাম।
📄 হযরত হানযালা রাযি.-এর নিজের ব্যাপারে মুনাফেকির সন্দেহ
একবার হযরত হানযালা রাযি. হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে গেলেন এবং নিবেদন করলেন যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কি হয়েছে? তিনি বললেন, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে মুনাফিক হয়ে গেছো? উত্তরে তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার মজলিসে আমি যখন বসি তখন অন্তরে ভালো আবেগ-উদ্দীপনা ও ভালো চিন্তা-চেতনা জাগ্রত হয়। অন্তরে আল্লাহর স্মরণ জীবন্ত থাকে। নিজের সংশোধনের চিন্তা জাগে। আখেরাতের নেয়ামতের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু যখন জীবনের ব্যস্ততায় মগ্ন হই, পরিবার-পরিজনের কাছে যাই, তখন সে অবস্থা অবশিষ্ট থাকে না। এটা তো মুনাফেকি যে, বাহ্যিকভাবে তো মুসলিম, আর অন্তরে খারাপ চিন্তা জাগ্রত হচ্ছে। এজন্য ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো মুনাফিক হয়ে গেছি। আপনি বলুন, এ থেকে আমি কীভাবে মুক্তি পেতে পারি?
দেখুন! হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী এ কথা বলছেন। সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে পুরো উম্মত একমত যে,
الصَّحَابَةُ كُلُّهُمْ عَدُولٌ
'সমস্ত সাহাবী ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য।'
তাদের মধ্যে কেউই ফাসেক হতে পারে না। তাদের এ সন্দেহ জাগছে যে, আমি তো মুনাফিক হয়ে যাইনি? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, বাড়িতে যাওয়ার পর চিন্তার জগতে যেই পরিবর্তন মনে হয়, নিজের অবস্থার যেই পরিবর্তন অনুভব হয়, সেজন্য পেরেশান হয়ো না। এর কারণে মানুষ মুনাফিক হয় না। সময় বিশেষে এমন হয়ে থাকে। কখনো মানুষের অন্তরে আল্লাহর স্মরণ অধিক হয়, ফলে আত্মা বিগলিত হয়। তাই অবস্থার এই পরিবর্তনের কারণে মানুষ মুনাফিক হয় না।'
সাহাবায়ে কেরামের এ নিয়ে চিন্তা ছিলো না যে, অমুক মুনাফিক হয়ে গেছে, বরং এ বিষয়ে চিন্তা ছিলো যে, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি।
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯৩৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৩৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৯৪৯
একবার হযরত হানযালা রাযি. হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে গেলেন এবং নিবেদন করলেন যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কি হয়েছে? তিনি বললেন, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে মুনাফিক হয়ে গেছো? উত্তরে তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার মজলিসে আমি যখন বসি তখন অন্তরে ভালো আবেগ-উদ্দীপনা ও ভালো চিন্তা-চেতনা জাগ্রত হয়। অন্তরে আল্লাহর স্মরণ জীবন্ত থাকে। নিজের সংশোধনের চিন্তা জাগে। আখেরাতের নেয়ামতের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু যখন জীবনের ব্যস্ততায় মগ্ন হই, পরিবার-পরিজনের কাছে যাই, তখন সে অবস্থা অবশিষ্ট থাকে না। এটা তো মুনাফেকি যে, বাহ্যিকভাবে তো মুসলিম, আর অন্তরে খারাপ চিন্তা জাগ্রত হচ্ছে। এজন্য ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো মুনাফিক হয়ে গেছি। আপনি বলুন, এ থেকে আমি কীভাবে মুক্তি পেতে পারি?
দেখুন! হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী এ কথা বলছেন। সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে পুরো উম্মত একমত যে,
الصَّحَابَةُ كُلُّهُمْ عَدُولٌ
'সমস্ত সাহাবী ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য।'
তাদের মধ্যে কেউই ফাসেক হতে পারে না। তাদের এ সন্দেহ জাগছে যে, আমি তো মুনাফিক হয়ে যাইনি? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, বাড়িতে যাওয়ার পর চিন্তার জগতে যেই পরিবর্তন মনে হয়, নিজের অবস্থার যেই পরিবর্তন অনুভব হয়, সেজন্য পেরেশান হয়ো না। এর কারণে মানুষ মুনাফিক হয় না। সময় বিশেষে এমন হয়ে থাকে। কখনো মানুষের অন্তরে আল্লাহর স্মরণ অধিক হয়, ফলে আত্মা বিগলিত হয়। তাই অবস্থার এই পরিবর্তনের কারণে মানুষ মুনাফিক হয় না।'
সাহাবায়ে কেরামের এ নিয়ে চিন্তা ছিলো না যে, অমুক মুনাফিক হয়ে গেছে, বরং এ বিষয়ে চিন্তা ছিলো যে, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি।
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯৩৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৩৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৯৪৯
📄 হযরত ওমর রাযি.-এর নিজের ব্যাপারে মুনাফিকির সন্দেহ
হযরত ওমর ফারুক রাযি. মুসলিমদের দ্বিতীয় খলীফা ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيًّا لَكَانَ عُمَرُ
আমার পরে যদি কোনো নবী আসতো তাহলে ওমর নবী হতো। কিন্তু আমার পরে কোনো নবী নেই।'
আল্লাহ তা'আলা তাঁকে এতো উঁচু মাকাম দান করেছেন। তাঁর অবস্থা শুনুন। হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছিলেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী। তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'রহস্যজান্তা' হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মদীনায় বসবাসকারী মুনাফিকদের নাম বলেছিলেন যে, অমুক অমুক ব্যক্তি মুনাফিক। হিকমতের কারণে তিনি হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছাড়া অন্য কাউকে তাদের নাম বলেননি। কারো মৃত্যু হলে মানুষ লক্ষ করতো যে, হযরত হুযাইফা রাযি. তার জানাযার নামাযে অংশ নিয়েছেন কি না। কারণ, হযরত হুযাইফা রাযি.-এর অংশ গ্রহণ এ কথার আলামত ছিলো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় নেই। আর যদি অংশগ্রহণ না করতেন তাহলে বুঝা যেতো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় আছে, বিধায় হযরত হুযাইফা রাযি. জানাযার নামাযে অংশ গ্রহণ করেননি।
হযরত ওমর ফারুক রাযি. হযরত হুযাইফা রাযি.-এর নিকট গমন করে আবেদনের সুরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হে হুযাইফা! আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বলো, তোমার নিকট মুনাফিকদের যেই তালিকা রয়েছে তার মধ্যে ওমরের নাম নেই তো?
এ কথা এমন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করছেন, যিনি নিজ কানে হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে শুনেছেন যে,
عُمَرُ فِي الْجَنَّةِ
'ওমর জান্নাতে যাবে।'
যাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমার পরে যদি কেউ নবী হতো তাহলে সে ওমর হতো। তাঁকে এ চিন্তা পেয়ে বসেছে যে, আমি তো মুনাফিক নই।
এ চিন্তা এজন্য ছিলো যে, নিঃসন্দেহে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ওমর জান্নাতে যাবে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
‘যে ব্যক্তিই ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে যাবে।”
এতদসত্ত্বেও হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর চিন্তা জাগে যে, কালেমা পাঠকারী ব্যক্তি নিঃসন্দেহে জান্নাতে যাবে, কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে যদি কারো আমল খারাপ হয়ে যায় তাহলে সে এ সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। এজন্য আমার ভয় হয় যে, হয়তো আমার আমল খারাপ হয়ে গেছে, ফলে আমি মুনাফিকদের দলভুক্ত হয়ে গেছি।
বাস্তবতা এই যে, মানুষ যখন নিজের দোষ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজের সংশোধনের ব্যাপারে চিন্তা শুরু করে, তখন সে নিজ দৃষ্টিতে অন্যদেরকে এতো খারাপ দেখতে পায় না, নিজেকে যতো খারাপ দেখতে পায়।
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭৬৪
২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৯
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৮০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৪৩
৪. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৬২
হযরত ওমর ফারুক রাযি. মুসলিমদের দ্বিতীয় খলীফা ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيًّا لَكَانَ عُمَرُ
আমার পরে যদি কোনো নবী আসতো তাহলে ওমর নবী হতো। কিন্তু আমার পরে কোনো নবী নেই।'
আল্লাহ তা'আলা তাঁকে এতো উঁচু মাকাম দান করেছেন। তাঁর অবস্থা শুনুন। হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছিলেন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী। তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'রহস্যজান্তা' হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মদীনায় বসবাসকারী মুনাফিকদের নাম বলেছিলেন যে, অমুক অমুক ব্যক্তি মুনাফিক। হিকমতের কারণে তিনি হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. ছাড়া অন্য কাউকে তাদের নাম বলেননি। কারো মৃত্যু হলে মানুষ লক্ষ করতো যে, হযরত হুযাইফা রাযি. তার জানাযার নামাযে অংশ নিয়েছেন কি না। কারণ, হযরত হুযাইফা রাযি.-এর অংশ গ্রহণ এ কথার আলামত ছিলো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় নেই। আর যদি অংশগ্রহণ না করতেন তাহলে বুঝা যেতো যে, তার নাম মুনাফিকদের তালিকায় আছে, বিধায় হযরত হুযাইফা রাযি. জানাযার নামাযে অংশ গ্রহণ করেননি।
হযরত ওমর ফারুক রাযি. হযরত হুযাইফা রাযি.-এর নিকট গমন করে আবেদনের সুরে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হে হুযাইফা! আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বলো, তোমার নিকট মুনাফিকদের যেই তালিকা রয়েছে তার মধ্যে ওমরের নাম নেই তো?
এ কথা এমন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করছেন, যিনি নিজ কানে হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে শুনেছেন যে,
عُمَرُ فِي الْجَنَّةِ
'ওমর জান্নাতে যাবে।'
যাঁর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমার পরে যদি কেউ নবী হতো তাহলে সে ওমর হতো। তাঁকে এ চিন্তা পেয়ে বসেছে যে, আমি তো মুনাফিক নই।
এ চিন্তা এজন্য ছিলো যে, নিঃসন্দেহে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ওমর জান্নাতে যাবে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
‘যে ব্যক্তিই ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে যাবে।”
এতদসত্ত্বেও হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর চিন্তা জাগে যে, কালেমা পাঠকারী ব্যক্তি নিঃসন্দেহে জান্নাতে যাবে, কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে যদি কারো আমল খারাপ হয়ে যায় তাহলে সে এ সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। এজন্য আমার ভয় হয় যে, হয়তো আমার আমল খারাপ হয়ে গেছে, ফলে আমি মুনাফিকদের দলভুক্ত হয়ে গেছি।
বাস্তবতা এই যে, মানুষ যখন নিজের দোষ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজের সংশোধনের ব্যাপারে চিন্তা শুরু করে, তখন সে নিজ দৃষ্টিতে অন্যদেরকে এতো খারাপ দেখতে পায় না, নিজেকে যতো খারাপ দেখতে পায়।
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭৬৪
২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৯
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬৮০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৪৩
৪. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৬২
📄 দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতার চূড়ান্ত
বর্তমানে আমাদের ব্যাপার হয়ে গেছে উল্টা। আমরা যদি দ্বীনের কোনো বিষয় আলোচনা করি তখন সাধারণত তার মধ্যে ইসলাহের কোনো বিষয় থাকে না। বরং বিভিন্ন দলীয় আলোচনায় লিপ্ত হয়ে যাই। কখনো রাজনৈতিক কথা শুরু করে দেই, আবার কখনো এমন থিওরী বা দর্শন নিয়ে আলোচনা শুরু করি, বাস্তব জীবনের সাথে যার কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে আজ আমাদের সমাজে দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতা এতো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, পূর্বে দ্বীনের যেসব বিষয় শিশুদের জানা থাকতো, আজ বড়ো বড়ো শিক্ষিত মানুষেরও সেগুলো জানা নেই। তাদেরকে যখন বলা হয় যে, এটি দ্বীনের বিষয়। তখন অপরিচিতের ন্যায় বিস্ময়ের সাথে বলে, আচ্ছা এটাও দ্বীনের বিষয়! আমার তো জানাও নেই যে, এটা দ্বীনের একটি অংশ। এর কারণ এই যে, বর্তমানে আমাদের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কুরআনে কারীম পরিষ্কার ভাষায় বলছে যে, সমাজ সংস্কারের যতো সংগঠন আর যতো প্রতিষ্ঠানই করো না কেন, তোমাদের প্রত্যেকে নিজের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা জাগ্রত না করা পর্যন্ত সমাজের সংশোধন কখনোই সম্ভব হবে না।
বর্তমানে আমাদের ব্যাপার হয়ে গেছে উল্টা। আমরা যদি দ্বীনের কোনো বিষয় আলোচনা করি তখন সাধারণত তার মধ্যে ইসলাহের কোনো বিষয় থাকে না। বরং বিভিন্ন দলীয় আলোচনায় লিপ্ত হয়ে যাই। কখনো রাজনৈতিক কথা শুরু করে দেই, আবার কখনো এমন থিওরী বা দর্শন নিয়ে আলোচনা শুরু করি, বাস্তব জীবনের সাথে যার কোনো সম্পর্ক নেই। এর ফলে আজ আমাদের সমাজে দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতা এতো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, পূর্বে দ্বীনের যেসব বিষয় শিশুদের জানা থাকতো, আজ বড়ো বড়ো শিক্ষিত মানুষেরও সেগুলো জানা নেই। তাদেরকে যখন বলা হয় যে, এটি দ্বীনের বিষয়। তখন অপরিচিতের ন্যায় বিস্ময়ের সাথে বলে, আচ্ছা এটাও দ্বীনের বিষয়! আমার তো জানাও নেই যে, এটা দ্বীনের একটি অংশ। এর কারণ এই যে, বর্তমানে আমাদের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কুরআনে কারীম পরিষ্কার ভাষায় বলছে যে, সমাজ সংস্কারের যতো সংগঠন আর যতো প্রতিষ্ঠানই করো না কেন, তোমাদের প্রত্যেকে নিজের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চিন্তা জাগ্রত না করা পর্যন্ত সমাজের সংশোধন কখনোই সম্ভব হবে না।