📄 নিজের গোনাহের প্রতি দৃষ্টি ছিলো
লক্ষ করুন! হযরত যুননুন মিসরীর মতো আল্লাহর কামেল ওলী এবং আল্লাহর নেক বান্দা মনে করছেন যে, এ পৃথিবীর বুকে আমার চেয়ে বড়ো কোনো গোনাহগার নেই। তাই এ জনপদ থেকে আমি বের হয়ে গেলে আল্লাহ তা'আলা এখানে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এবার বলুন! তিনি কি ভুল বলছিলেন? তিনি কি বিনয়ের কারণে এমন বলছিলেন? হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর মতো কামেল ওলীর মুখ থেকে মিথ্যা বের হতে পারে না। বরং বাস্তবে তিনি নিজেকে নিজে সর্বাধিক গোনাহগার ও খারাপ মনে করতেন। এরূপ কেন মনে করতেন? এ কারণে যে, তাঁর নিজের মধ্যে কি কি খারাপ দিক রয়েছে এবং সেগুলোকে কীভাবে সংশোধন করা যায়, তাঁর দৃষ্টি সবসময় সেদিকে নিবদ্ধ ছিলো?
লক্ষ করুন! হযরত যুননুন মিসরীর মতো আল্লাহর কামেল ওলী এবং আল্লাহর নেক বান্দা মনে করছেন যে, এ পৃথিবীর বুকে আমার চেয়ে বড়ো কোনো গোনাহগার নেই। তাই এ জনপদ থেকে আমি বের হয়ে গেলে আল্লাহ তা'আলা এখানে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এবার বলুন! তিনি কি ভুল বলছিলেন? তিনি কি বিনয়ের কারণে এমন বলছিলেন? হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর মতো কামেল ওলীর মুখ থেকে মিথ্যা বের হতে পারে না। বরং বাস্তবে তিনি নিজেকে নিজে সর্বাধিক গোনাহগার ও খারাপ মনে করতেন। এরূপ কেন মনে করতেন? এ কারণে যে, তাঁর নিজের মধ্যে কি কি খারাপ দিক রয়েছে এবং সেগুলোকে কীভাবে সংশোধন করা যায়, তাঁর দৃষ্টি সবসময় সেদিকে নিবদ্ধ ছিলো?
📄 আমার চোখে কেউ খারাপ থাকলো না
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-কে আল্লাহ তা'আলা এ যুগে আমল ও তাকওয়ার নমুনা বানিয়েছিলেন। তাঁর এক খলীফা বর্ণনা করেন যে, একবার আমি তাঁকে বললাম, আপনি যখন বয়ান করেন আর আমি আপনার মজলিসে উপস্থিত থাকি তখন আমার মনে হয় যে, এ বৈঠকে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ নেই। আমি সবচেয়ে বেশি গোনাহগার। অন্যদের তুলনায় নিজেকে পশু মনে হয়। এ কথা শুনে হযরত মাওলানা থানভী রহ. বললেন, ভাই! তুমি নিজের যেই অবস্থা বর্ণনা করলে সত্য কথা হলো, আমার অবস্থাও একই রকম। আমি যখন ওয়ায করি, বয়ান করি, তখন মনে হয় যে, সবাই আমার চেয়ে ভালো, আমি সবার চেয়ে খারাপ।
এমনটি কেন হয়েছিলো? কারণ সবসময় তাদের এই চিন্তা ছিলো যে, আমার মধ্যে যেই দোষ রয়েছে, যেই গোনাহ রয়েছে, আমি তা কীভাবে দূর করবো? আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি কীভাবে লাভ করবো? মানুষ যখন নিজের দোষের উপর জরিপ চালাতে আরম্ভ করে, তখন অন্যের দোষ আর চোখে পড়ে না। তখন মানুষ নিজের চিন্তায় বিভোর হয়ে যায়। বাহাদুর শাহ যফর মরহুম বলেছিলেন,
تھے جو اپنی برائی سے بے خبر رہے اوروں کے ڈھونڈتے عیب و ہنر پڑی اپنی برائیوں پر جو نظر تو نگاہ میں کوئی برا نہ رہا
অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যদেরকে দেখেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত মনে হতো যে, অমুকের মধ্যে এ দোষ রয়েছে, অমুকের মধ্যে ঐ দোষ রয়েছে। কিন্তু যখন নিজের দোষের দিকে দৃষ্টি দিলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমার মতো খারাপ আর কেউ নেই। যখন নিজের আমলের উপর জরিপ চালানোর তাওফীক হলো, তখন নিজের সমস্ত খারাপ দিক এবং সমস্ত অন্যায় অপরাধ ধরা পড়লো।
মনে রাখবেন! কোনো মানুষ অন্যের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে এ পরিমাণ অবগত হতে পারে না, যে পরিমাণ নিজের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। মানুষ নিজের সম্পর্কে জানে যে, সে কী চিন্তা করে, তার অন্তরে কী সব কথা উদয় হয়? কী ধরনের ইচ্ছা তার অন্তরে জাগে? কিন্তু যেহেতু নিজের দিকে দৃষ্টি নেই। নিজের দোষের ব্যাপারে অচেতন। নিজের সংশোধনের বিষয়ে উদাসীন। সেজন্য অন্যের দোষ চোখে পড়ে।
হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-কে আল্লাহ তা'আলা এ যুগে আমল ও তাকওয়ার নমুনা বানিয়েছিলেন। তাঁর এক খলীফা বর্ণনা করেন যে, একবার আমি তাঁকে বললাম, আপনি যখন বয়ান করেন আর আমি আপনার মজলিসে উপস্থিত থাকি তখন আমার মনে হয় যে, এ বৈঠকে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ নেই। আমি সবচেয়ে বেশি গোনাহগার। অন্যদের তুলনায় নিজেকে পশু মনে হয়। এ কথা শুনে হযরত মাওলানা থানভী রহ. বললেন, ভাই! তুমি নিজের যেই অবস্থা বর্ণনা করলে সত্য কথা হলো, আমার অবস্থাও একই রকম। আমি যখন ওয়ায করি, বয়ান করি, তখন মনে হয় যে, সবাই আমার চেয়ে ভালো, আমি সবার চেয়ে খারাপ।
এমনটি কেন হয়েছিলো? কারণ সবসময় তাদের এই চিন্তা ছিলো যে, আমার মধ্যে যেই দোষ রয়েছে, যেই গোনাহ রয়েছে, আমি তা কীভাবে দূর করবো? আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি কীভাবে লাভ করবো? মানুষ যখন নিজের দোষের উপর জরিপ চালাতে আরম্ভ করে, তখন অন্যের দোষ আর চোখে পড়ে না। তখন মানুষ নিজের চিন্তায় বিভোর হয়ে যায়। বাহাদুর শাহ যফর মরহুম বলেছিলেন,
تھے جو اپنی برائی سے بے خبر رہے اوروں کے ڈھونڈتے عیب و ہنر پڑی اپنی برائیوں پر جو نظر تو نگاہ میں کوئی برا نہ رہا
অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যদেরকে দেখেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত মনে হতো যে, অমুকের মধ্যে এ দোষ রয়েছে, অমুকের মধ্যে ঐ দোষ রয়েছে। কিন্তু যখন নিজের দোষের দিকে দৃষ্টি দিলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমার মতো খারাপ আর কেউ নেই। যখন নিজের আমলের উপর জরিপ চালানোর তাওফীক হলো, তখন নিজের সমস্ত খারাপ দিক এবং সমস্ত অন্যায় অপরাধ ধরা পড়লো।
মনে রাখবেন! কোনো মানুষ অন্যের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে এ পরিমাণ অবগত হতে পারে না, যে পরিমাণ নিজের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। মানুষ নিজের সম্পর্কে জানে যে, সে কী চিন্তা করে, তার অন্তরে কী সব কথা উদয় হয়? কী ধরনের ইচ্ছা তার অন্তরে জাগে? কিন্তু যেহেতু নিজের দিকে দৃষ্টি নেই। নিজের দোষের ব্যাপারে অচেতন। নিজের সংশোধনের বিষয়ে উদাসীন। সেজন্য অন্যের দোষ চোখে পড়ে।
📄 নিজের রোগের চিন্তা কেমন হয়ে থাকে!
উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথার তীব্রতায় শান্তি নেই। স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে পারে না। বলুন! সে ব্যক্তি কি অন্যদের দিকে দেখতে থাকবে যে, কার সর্দি হয়েছে, কার কাশি হয়েছে, কার নাকে পানি আসছে? সে তো নিজের ব্যথা নিয়েই বিভোর থাকবে। অন্যের রোগ ব্যাধির প্রতি ভ্রুক্ষেপই করবে না। বরং কেউ যদি তাকে বলে যে, আমার সর্দি-কাশি হয়েছে তাহলে উত্তরে সে বলবে, তোমার সর্দি-কাশি হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমি তো পেট ব্যথায় আক্রান্ত। আমি নিজের ব্যথার চিকিৎসা আগে করবো, নারি তোমার সর্দি-কাশির দিকে আগে তাকাবো। সারা দুনিয়ায় এমন মানুষ নেই, যে তার ব্যথায় অস্থির অবস্থায় অন্যদের মামুলি রোগ-ব্যাধির দিকে তাকাবে।
উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথার তীব্রতায় শান্তি নেই। স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে পারে না। বলুন! সে ব্যক্তি কি অন্যদের দিকে দেখতে থাকবে যে, কার সর্দি হয়েছে, কার কাশি হয়েছে, কার নাকে পানি আসছে? সে তো নিজের ব্যথা নিয়েই বিভোর থাকবে। অন্যের রোগ ব্যাধির প্রতি ভ্রুক্ষেপই করবে না। বরং কেউ যদি তাকে বলে যে, আমার সর্দি-কাশি হয়েছে তাহলে উত্তরে সে বলবে, তোমার সর্দি-কাশি হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমি তো পেট ব্যথায় আক্রান্ত। আমি নিজের ব্যথার চিকিৎসা আগে করবো, নারি তোমার সর্দি-কাশির দিকে আগে তাকাবো। সারা দুনিয়ায় এমন মানুষ নেই, যে তার ব্যথায় অস্থির অবস্থায় অন্যদের মামুলি রোগ-ব্যাধির দিকে তাকাবে।
📄 এক মহিলার শিক্ষনীয় ঘটনা
আমার এক আত্মীয়া মহিলার একবার পেটে গ্যাস জমে কষ্ট হচ্ছিলো। ব্যথ্যায় সে অস্থির ছিলো। সে অনেক বেশি অসুস্থ বোধ করছিলো। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্যে আমি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। লিফট যোগে উপরে আরোহণের সময় সেখানে হুইল চেয়ারে একজন মহিলা বসা দেখতে পাই। তার সারা শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। কয়েক জায়গার হাড্ডিও ভেঙ্গে গেছে। চামড়া পুড়ে গেছে। আমি চিন্তা করলাম যে, আমার এ আত্মীয়া মহিলাকে বলি, সে তোমার চেয়ে বেশি কষ্টে আছে। তাহলে তার রোগের কষ্ট লাঘব হবে। আমি তাকে বললাম, দেখো! এ মহিলা কেমন বিপদে আছে। কেমন মারাত্মক কষ্টে আছে। আমার ঐ আত্মীয়া মহিলা তার প্রতি একবার দৃষ্টি দিয়ে বললো, হ্যাঁ সে কষ্টে আছে ঠিক, কিন্তু তার পেট ব্যথা তো নেই। দেখুন! যার পুরো শরীর জ্বলে গেছে, হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে, তার রোগের ব্যাপারে এমন অনুভূতি নেই, নিজের রোগের ব্যাপারে যেমন অনুভূতি রয়েছে।
এ ঘটনা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা আমার অন্তরে এ কথা ঢেলে দিলেন যে, হায়! দ্বীনের বিষয়ে আমাদের অন্তরে যদি এমন চিন্তা জাগতো। আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের রোগ এবং আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে যদি চিন্তা জাগ্রত করে দিতেন যে, আমার আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে আমার চিন্তা করা উচিত। তাহলে অন্যের ব্যাধির প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে নিজের ব্যাধি সংশোধনের চিন্তা করতাম।
আমার এক আত্মীয়া মহিলার একবার পেটে গ্যাস জমে কষ্ট হচ্ছিলো। ব্যথ্যায় সে অস্থির ছিলো। সে অনেক বেশি অসুস্থ বোধ করছিলো। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্যে আমি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। লিফট যোগে উপরে আরোহণের সময় সেখানে হুইল চেয়ারে একজন মহিলা বসা দেখতে পাই। তার সারা শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। কয়েক জায়গার হাড্ডিও ভেঙ্গে গেছে। চামড়া পুড়ে গেছে। আমি চিন্তা করলাম যে, আমার এ আত্মীয়া মহিলাকে বলি, সে তোমার চেয়ে বেশি কষ্টে আছে। তাহলে তার রোগের কষ্ট লাঘব হবে। আমি তাকে বললাম, দেখো! এ মহিলা কেমন বিপদে আছে। কেমন মারাত্মক কষ্টে আছে। আমার ঐ আত্মীয়া মহিলা তার প্রতি একবার দৃষ্টি দিয়ে বললো, হ্যাঁ সে কষ্টে আছে ঠিক, কিন্তু তার পেট ব্যথা তো নেই। দেখুন! যার পুরো শরীর জ্বলে গেছে, হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে, তার রোগের ব্যাপারে এমন অনুভূতি নেই, নিজের রোগের ব্যাপারে যেমন অনুভূতি রয়েছে।
এ ঘটনা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা আমার অন্তরে এ কথা ঢেলে দিলেন যে, হায়! দ্বীনের বিষয়ে আমাদের অন্তরে যদি এমন চিন্তা জাগতো। আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের রোগ এবং আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে যদি চিন্তা জাগ্রত করে দিতেন যে, আমার আত্মার ব্যাধি সম্পর্কে আমার চিন্তা করা উচিত। তাহলে অন্যের ব্যাধির প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে নিজের ব্যাধি সংশোধনের চিন্তা করতাম।