📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর আলোচনা

📄 হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর আলোচনা


হযরত যুননুন মিসরী রহ. বড়ো মাপের আল্লাহর ওলী ছিলেন। তিনি এতো উঁচু স্তরের বুযুর্গ ছিলেন যে, আমরা তার কল্পনাও করতে পারবো না। তাঁর সম্পর্কে ঘটনা বর্ণিত আছে যে, একবার তাঁর শহরে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ পেরেশান। বৃষ্টির জন্য দু'আ করছে। কিছু লোক হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর খেদমতে হাজির হয়ে নিবেদন করলো, হযরত! আপনি দেখছেন, পুরো জাতি দুর্ভিক্ষের শিকার। জিহবা ও গলা শুকিয়ে গেছে। পশুপালকে পান করানোর পানি নেই। জমিতে সেচ দেওয়ার পানি নেই। আপনি আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করুন। আল্লাহ তা'আলা যেন বৃষ্টি দান করেন। হযরত যুননুন মিসরী রহ. বললেন, দু'আ তো আমি করবো ইনশাআল্লাহ, তবে একটি কথা শোনো, কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, দুনিয়াতে তোমাদের যে কোনো বিপদ বা পেরেশানী হোক তা তোমাদের অপকর্ম ও গোনাহের কারণে হয়ে থাকে। তাই বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার অর্থ এই যে, আমরা বদ আমলে লিপ্ত। আমাদের বদ আমলের কারণে আল্লাহ তা'আলা বৃষ্টি বন্ধ করে দিয়েছেন। এজন্য আমাদেরকে প্রথমে দেখতে হবে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বদ আমলে লিপ্ত কে? আমি যখন আমার উপর জরিপ চালাই, তখন দেখতে পাই, এ পুরো জনপদে আমার চেয়ে খারাপ কোনো মানুষ নেই। আমার চেয়ে বেশি গোনাহগার আর কেউ নেই। আমার প্রবল ধারণা যে, এ জনপদে আমি অবস্থান করার কারণে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে। এ জনপদ থেকে আমি বের হয়ে গেলে এখানে আল্লাহ তা'আলার রহমত বর্ষিত হবে, ইনশাআল্লাহ। এজন্য বৃষ্টি হওয়ার ব্যবস্থা এই যে, আমি এ জনপদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে নিরাপদে রাখুন, তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন।

হযরত যুননুন মিসরী রহ. বড়ো মাপের আল্লাহর ওলী ছিলেন। তিনি এতো উঁচু স্তরের বুযুর্গ ছিলেন যে, আমরা তার কল্পনাও করতে পারবো না। তাঁর সম্পর্কে ঘটনা বর্ণিত আছে যে, একবার তাঁর শহরে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ পেরেশান। বৃষ্টির জন্য দু'আ করছে। কিছু লোক হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর খেদমতে হাজির হয়ে নিবেদন করলো, হযরত! আপনি দেখছেন, পুরো জাতি দুর্ভিক্ষের শিকার। জিহবা ও গলা শুকিয়ে গেছে। পশুপালকে পান করানোর পানি নেই। জমিতে সেচ দেওয়ার পানি নেই। আপনি আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আ করুন। আল্লাহ তা'আলা যেন বৃষ্টি দান করেন। হযরত যুননুন মিসরী রহ. বললেন, দু'আ তো আমি করবো ইনশাআল্লাহ, তবে একটি কথা শোনো, কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, দুনিয়াতে তোমাদের যে কোনো বিপদ বা পেরেশানী হোক তা তোমাদের অপকর্ম ও গোনাহের কারণে হয়ে থাকে। তাই বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার অর্থ এই যে, আমরা বদ আমলে লিপ্ত। আমাদের বদ আমলের কারণে আল্লাহ তা'আলা বৃষ্টি বন্ধ করে দিয়েছেন। এজন্য আমাদেরকে প্রথমে দেখতে হবে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বদ আমলে লিপ্ত কে? আমি যখন আমার উপর জরিপ চালাই, তখন দেখতে পাই, এ পুরো জনপদে আমার চেয়ে খারাপ কোনো মানুষ নেই। আমার চেয়ে বেশি গোনাহগার আর কেউ নেই। আমার প্রবল ধারণা যে, এ জনপদে আমি অবস্থান করার কারণে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে। এ জনপদ থেকে আমি বের হয়ে গেলে এখানে আল্লাহ তা'আলার রহমত বর্ষিত হবে, ইনশাআল্লাহ। এজন্য বৃষ্টি হওয়ার ব্যবস্থা এই যে, আমি এ জনপদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে নিরাপদে রাখুন, তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নিজের গোনাহের প্রতি দৃষ্টি ছিলো

📄 নিজের গোনাহের প্রতি দৃষ্টি ছিলো


লক্ষ করুন! হযরত যুননুন মিসরীর মতো আল্লাহর কামেল ওলী এবং আল্লাহর নেক বান্দা মনে করছেন যে, এ পৃথিবীর বুকে আমার চেয়ে বড়ো কোনো গোনাহগার নেই। তাই এ জনপদ থেকে আমি বের হয়ে গেলে আল্লাহ তা'আলা এখানে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এবার বলুন! তিনি কি ভুল বলছিলেন? তিনি কি বিনয়ের কারণে এমন বলছিলেন? হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর মতো কামেল ওলীর মুখ থেকে মিথ্যা বের হতে পারে না। বরং বাস্তবে তিনি নিজেকে নিজে সর্বাধিক গোনাহগার ও খারাপ মনে করতেন। এরূপ কেন মনে করতেন? এ কারণে যে, তাঁর নিজের মধ্যে কি কি খারাপ দিক রয়েছে এবং সেগুলোকে কীভাবে সংশোধন করা যায়, তাঁর দৃষ্টি সবসময় সেদিকে নিবদ্ধ ছিলো?

লক্ষ করুন! হযরত যুননুন মিসরীর মতো আল্লাহর কামেল ওলী এবং আল্লাহর নেক বান্দা মনে করছেন যে, এ পৃথিবীর বুকে আমার চেয়ে বড়ো কোনো গোনাহগার নেই। তাই এ জনপদ থেকে আমি বের হয়ে গেলে আল্লাহ তা'আলা এখানে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এবার বলুন! তিনি কি ভুল বলছিলেন? তিনি কি বিনয়ের কারণে এমন বলছিলেন? হযরত যুননুন মিসরী রহ.-এর মতো কামেল ওলীর মুখ থেকে মিথ্যা বের হতে পারে না। বরং বাস্তবে তিনি নিজেকে নিজে সর্বাধিক গোনাহগার ও খারাপ মনে করতেন। এরূপ কেন মনে করতেন? এ কারণে যে, তাঁর নিজের মধ্যে কি কি খারাপ দিক রয়েছে এবং সেগুলোকে কীভাবে সংশোধন করা যায়, তাঁর দৃষ্টি সবসময় সেদিকে নিবদ্ধ ছিলো?

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আমার চোখে কেউ খারাপ থাকলো না

📄 আমার চোখে কেউ খারাপ থাকলো না


হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-কে আল্লাহ তা'আলা এ যুগে আমল ও তাকওয়ার নমুনা বানিয়েছিলেন। তাঁর এক খলীফা বর্ণনা করেন যে, একবার আমি তাঁকে বললাম, আপনি যখন বয়ান করেন আর আমি আপনার মজলিসে উপস্থিত থাকি তখন আমার মনে হয় যে, এ বৈঠকে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ নেই। আমি সবচেয়ে বেশি গোনাহগার। অন্যদের তুলনায় নিজেকে পশু মনে হয়। এ কথা শুনে হযরত মাওলানা থানভী রহ. বললেন, ভাই! তুমি নিজের যেই অবস্থা বর্ণনা করলে সত্য কথা হলো, আমার অবস্থাও একই রকম। আমি যখন ওয়ায করি, বয়ান করি, তখন মনে হয় যে, সবাই আমার চেয়ে ভালো, আমি সবার চেয়ে খারাপ।
এমনটি কেন হয়েছিলো? কারণ সবসময় তাদের এই চিন্তা ছিলো যে, আমার মধ্যে যেই দোষ রয়েছে, যেই গোনাহ রয়েছে, আমি তা কীভাবে দূর করবো? আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি কীভাবে লাভ করবো? মানুষ যখন নিজের দোষের উপর জরিপ চালাতে আরম্ভ করে, তখন অন্যের দোষ আর চোখে পড়ে না। তখন মানুষ নিজের চিন্তায় বিভোর হয়ে যায়। বাহাদুর শাহ যফর মরহুম বলেছিলেন,
تھے جو اپنی برائی سے بے خبر رہے اوروں کے ڈھونڈتے عیب و ہنر پڑی اپنی برائیوں پر جو نظر تو نگاہ میں کوئی برا نہ رہا
অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যদেরকে দেখেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত মনে হতো যে, অমুকের মধ্যে এ দোষ রয়েছে, অমুকের মধ্যে ঐ দোষ রয়েছে। কিন্তু যখন নিজের দোষের দিকে দৃষ্টি দিলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমার মতো খারাপ আর কেউ নেই। যখন নিজের আমলের উপর জরিপ চালানোর তাওফীক হলো, তখন নিজের সমস্ত খারাপ দিক এবং সমস্ত অন্যায় অপরাধ ধরা পড়লো।
মনে রাখবেন! কোনো মানুষ অন্যের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে এ পরিমাণ অবগত হতে পারে না, যে পরিমাণ নিজের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। মানুষ নিজের সম্পর্কে জানে যে, সে কী চিন্তা করে, তার অন্তরে কী সব কথা উদয় হয়? কী ধরনের ইচ্ছা তার অন্তরে জাগে? কিন্তু যেহেতু নিজের দিকে দৃষ্টি নেই। নিজের দোষের ব্যাপারে অচেতন। নিজের সংশোধনের বিষয়ে উদাসীন। সেজন্য অন্যের দোষ চোখে পড়ে।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-কে আল্লাহ তা'আলা এ যুগে আমল ও তাকওয়ার নমুনা বানিয়েছিলেন। তাঁর এক খলীফা বর্ণনা করেন যে, একবার আমি তাঁকে বললাম, আপনি যখন বয়ান করেন আর আমি আপনার মজলিসে উপস্থিত থাকি তখন আমার মনে হয় যে, এ বৈঠকে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ নেই। আমি সবচেয়ে বেশি গোনাহগার। অন্যদের তুলনায় নিজেকে পশু মনে হয়। এ কথা শুনে হযরত মাওলানা থানভী রহ. বললেন, ভাই! তুমি নিজের যেই অবস্থা বর্ণনা করলে সত্য কথা হলো, আমার অবস্থাও একই রকম। আমি যখন ওয়ায করি, বয়ান করি, তখন মনে হয় যে, সবাই আমার চেয়ে ভালো, আমি সবার চেয়ে খারাপ।
এমনটি কেন হয়েছিলো? কারণ সবসময় তাদের এই চিন্তা ছিলো যে, আমার মধ্যে যেই দোষ রয়েছে, যেই গোনাহ রয়েছে, আমি তা কীভাবে দূর করবো? আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি কীভাবে লাভ করবো? মানুষ যখন নিজের দোষের উপর জরিপ চালাতে আরম্ভ করে, তখন অন্যের দোষ আর চোখে পড়ে না। তখন মানুষ নিজের চিন্তায় বিভোর হয়ে যায়। বাহাদুর শাহ যফর মরহুম বলেছিলেন,
تھے جو اپنی برائی سے بے خبر رہے اوروں کے ڈھونڈتے عیب و ہنر پڑی اپنی برائیوں پر جو نظر تو نگاہ میں کوئی برا نہ رہا
অর্থাৎ, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্যদেরকে দেখেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত মনে হতো যে, অমুকের মধ্যে এ দোষ রয়েছে, অমুকের মধ্যে ঐ দোষ রয়েছে। কিন্তু যখন নিজের দোষের দিকে দৃষ্টি দিলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমার মতো খারাপ আর কেউ নেই। যখন নিজের আমলের উপর জরিপ চালানোর তাওফীক হলো, তখন নিজের সমস্ত খারাপ দিক এবং সমস্ত অন্যায় অপরাধ ধরা পড়লো।
মনে রাখবেন! কোনো মানুষ অন্যের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে এ পরিমাণ অবগত হতে পারে না, যে পরিমাণ নিজের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। মানুষ নিজের সম্পর্কে জানে যে, সে কী চিন্তা করে, তার অন্তরে কী সব কথা উদয় হয়? কী ধরনের ইচ্ছা তার অন্তরে জাগে? কিন্তু যেহেতু নিজের দিকে দৃষ্টি নেই। নিজের দোষের ব্যাপারে অচেতন। নিজের সংশোধনের বিষয়ে উদাসীন। সেজন্য অন্যের দোষ চোখে পড়ে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নিজের রোগের চিন্তা কেমন হয়ে থাকে!

📄 নিজের রোগের চিন্তা কেমন হয়ে থাকে!


উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথার তীব্রতায় শান্তি নেই। স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে পারে না। বলুন! সে ব্যক্তি কি অন্যদের দিকে দেখতে থাকবে যে, কার সর্দি হয়েছে, কার কাশি হয়েছে, কার নাকে পানি আসছে? সে তো নিজের ব্যথা নিয়েই বিভোর থাকবে। অন্যের রোগ ব্যাধির প্রতি ভ্রুক্ষেপই করবে না। বরং কেউ যদি তাকে বলে যে, আমার সর্দি-কাশি হয়েছে তাহলে উত্তরে সে বলবে, তোমার সর্দি-কাশি হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমি তো পেট ব্যথায় আক্রান্ত। আমি নিজের ব্যথার চিকিৎসা আগে করবো, নারি তোমার সর্দি-কাশির দিকে আগে তাকাবো। সারা দুনিয়ায় এমন মানুষ নেই, যে তার ব্যথায় অস্থির অবস্থায় অন্যদের মামুলি রোগ-ব্যাধির দিকে তাকাবে।

উদাহরণস্বরূপ, এক ব্যক্তির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথার তীব্রতায় শান্তি নেই। স্থির হয়ে শুয়ে থাকতে পারে না। বলুন! সে ব্যক্তি কি অন্যদের দিকে দেখতে থাকবে যে, কার সর্দি হয়েছে, কার কাশি হয়েছে, কার নাকে পানি আসছে? সে তো নিজের ব্যথা নিয়েই বিভোর থাকবে। অন্যের রোগ ব্যাধির প্রতি ভ্রুক্ষেপই করবে না। বরং কেউ যদি তাকে বলে যে, আমার সর্দি-কাশি হয়েছে তাহলে উত্তরে সে বলবে, তোমার সর্দি-কাশি হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমি তো পেট ব্যথায় আক্রান্ত। আমি নিজের ব্যথার চিকিৎসা আগে করবো, নারি তোমার সর্দি-কাশির দিকে আগে তাকাবো। সারা দুনিয়ায় এমন মানুষ নেই, যে তার ব্যথায় অস্থির অবস্থায় অন্যদের মামুলি রোগ-ব্যাধির দিকে তাকাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00