📄 সংশোধনের সূচনা অন্যদের থেকে কেন?
আমি এখন আপনাদের সামনে যেই আয়াত তিলাওয়াত করেছি, তাতে এই প্রশ্নের তৃপ্তিজনক উত্তর দেওয়া হয়েছে। কুরআনে কারীম এ আয়াতে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, তোমরা যখন সংস্কার চিন্তা নিয়ে দাঁড়াও তখন সবসময় অন্যের দ্বারা সংস্কার কর্মের সূচনা করতে চাও। তোমাদের অন্তরে এ কথা থাকে যে, মানুষ খারাপ হয়ে গেছে, মানুষ বদ আমলে লিপ্ত, ধোঁকা ও প্রতারণা করছে, মন্দ আচরণে লিপ্ত, ঘুষ নিচ্ছে, সুদ খাচ্ছে, নগ্নতা ও অশ্লীলতার সয়লাব চলছে, এসব বিষয়ে আলোচনার সময় তোমাদের মাথায় থাকে যে, এসব কাজ অন্যেরা করছে, তাদেরকে এসব কাজ থেকে বাধা দেওয়া উচিত। তাদেরকে সংশোধন করা উচিত।
আমি এখন আপনাদের সামনে যেই আয়াত তিলাওয়াত করেছি, তাতে এই প্রশ্নের তৃপ্তিজনক উত্তর দেওয়া হয়েছে। কুরআনে কারীম এ আয়াতে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, তোমরা যখন সংস্কার চিন্তা নিয়ে দাঁড়াও তখন সবসময় অন্যের দ্বারা সংস্কার কর্মের সূচনা করতে চাও। তোমাদের অন্তরে এ কথা থাকে যে, মানুষ খারাপ হয়ে গেছে, মানুষ বদ আমলে লিপ্ত, ধোঁকা ও প্রতারণা করছে, মন্দ আচরণে লিপ্ত, ঘুষ নিচ্ছে, সুদ খাচ্ছে, নগ্নতা ও অশ্লীলতার সয়লাব চলছে, এসব বিষয়ে আলোচনার সময় তোমাদের মাথায় থাকে যে, এসব কাজ অন্যেরা করছে, তাদেরকে এসব কাজ থেকে বাধা দেওয়া উচিত। তাদেরকে সংশোধন করা উচিত।
📄 আত্মশুদ্ধির চিন্তা নেই
কিন্তু এ চিন্তা কোনো আল্লাহর বান্দার অন্তরে খুব কমই আসে যে, আমিও খারাপ কাজে লিপ্ত। আমার মধ্যেও দোষ ও অন্যায় আছে। আমার সর্ব প্রথম দায়িত্ব এগুলো সংশোধন করা। আমি অন্যদের দিকে পরে দেখবো, আগে নিজের উপর সমীক্ষা চালাবো, নিজেকে সংশোধনের চিন্তা করবো। বর্তমানে আমাদের অবস্থা এই যে, কোনো দল, কোনো সংগঠন ২ কোনো প্রতিষ্ঠান যখন সংস্কারের কর্মসূচী নিয়ে দাঁড়ায়, তখন ঐ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ঐ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রত্যেকের মাথায় এই চিন্তা থাকে যে, আমি জনসাধারণকে সংশোধন করবো। কিন্তু আমি নিজেকে সংশোধন করবো, নিজের দোষ ত্রুটির সংস্কার করবো তা খুব কম আল্লাহর বান্দার অন্তরেই এসে থাকে।
কিন্তু এ চিন্তা কোনো আল্লাহর বান্দার অন্তরে খুব কমই আসে যে, আমিও খারাপ কাজে লিপ্ত। আমার মধ্যেও দোষ ও অন্যায় আছে। আমার সর্ব প্রথম দায়িত্ব এগুলো সংশোধন করা। আমি অন্যদের দিকে পরে দেখবো, আগে নিজের উপর সমীক্ষা চালাবো, নিজেকে সংশোধনের চিন্তা করবো। বর্তমানে আমাদের অবস্থা এই যে, কোনো দল, কোনো সংগঠন ২ কোনো প্রতিষ্ঠান যখন সংস্কারের কর্মসূচী নিয়ে দাঁড়ায়, তখন ঐ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ঐ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রত্যেকের মাথায় এই চিন্তা থাকে যে, আমি জনসাধারণকে সংশোধন করবো। কিন্তু আমি নিজেকে সংশোধন করবো, নিজের দোষ ত্রুটির সংস্কার করবো তা খুব কম আল্লাহর বান্দার অন্তরেই এসে থাকে।
📄 কথায় ওজন নেই
আমি যখন আমার দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উদাসীন, নিজের খারাপ আমলের সংশোধনের চিন্তা আমার নেই, আমার নিজের আমল আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক নয়, এমতাবস্থায় আমি যখন অন্যের সংশোধনের চিন্তায় মগ্ন হই, তার স্বাভাবিক ফল এই হয় যে, আমার কথার মধ্যে কোনো প্রভাব ও ওজন সৃষ্টি হয় না। কোনো বরকত ও নূর থাকে না। ফলে অন্যের অন্তরে আমার কথা স্থান পায় না। অন্যেরা তা মানার জন্য প্রস্তুত হয় না। বরং তা হয় একটি রসালো বক্তব্য। যা কানের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে বাতাসে বিলীন হয়ে যায়।
আমি যখন আমার দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উদাসীন, নিজের খারাপ আমলের সংশোধনের চিন্তা আমার নেই, আমার নিজের আমল আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক নয়, এমতাবস্থায় আমি যখন অন্যের সংশোধনের চিন্তায় মগ্ন হই, তার স্বাভাবিক ফল এই হয় যে, আমার কথার মধ্যে কোনো প্রভাব ও ওজন সৃষ্টি হয় না। কোনো বরকত ও নূর থাকে না। ফলে অন্যের অন্তরে আমার কথা স্থান পায় না। অন্যেরা তা মানার জন্য প্রস্তুত হয় না। বরং তা হয় একটি রসালো বক্তব্য। যা কানের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে বাতাসে বিলীন হয়ে যায়।
📄 প্রত্যেককে নিজের আমলের জওয়াব দিতে হবে
কুরআনে কারীমের ইরশাদ হলো, হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ইসলাহের ফিকির করো। তোমরা যদি নিজেদেরকে সংশোধন করো এবং হিদায়াতের পথে চলে আসো তাহলে যারা গোমরাহীর দিকে যাচ্ছে, বিপথগামী হচ্ছে, তাদের বিপথগামিতা, তাদের অন্যায় অপকর্ম তোমাদের ক্ষতি করবে না। তোমাদের সকলকে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। সেখানে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে বলবেন, যা কিছু তোমরা দুনিয়াতে করতে। এ আয়াতে এ কথা বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে আল্লাহর নিকট নিজের আমলের উত্তর দিতে হবে। এমন হবে না যে, মন্দ কর্ম করেছে অন্যে, আর জওয়াবদিহি চাওয়া হচ্ছে আমার কাছে যে, সে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলো কেন? বা আমি কোনো খারাপ কাজ করবো আর অপরের নিকট এর জওয়াব চাওয়া হবে, এমন হবে না। বরং প্রত্যেকের নিকট নিজে। আমল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। এজন্য তোমরা প্রথমে নিজের ফিকির করো যে, তোমাদের আমল কেমন? তোমরা যখন আল্লাহর সম্মুখে হাজির হবে, তখন নিজের আমল সম্পর্কে কি উত্তর দিবে? এজন্য অন্যকে নিয়ে চিন্তা করার পূর্বে নিজের খবর নাও। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের আমল আখলাকের উপর জরিপ চালিয়ে দেখবে যে, সে কি কি ভুল পদ্ধতি ও ভুল কর্মে লিপ্ত। তারপর সে ভুলগুলো দূর করার চেষ্টা করবে। এমন যেন না হয় যে, অন্যের দোষ ও মন্দ কর্ম খুঁজে ফিরছে আর নিজের দোষের ব্যাপারে গাফেল।
এক হাদীস শরীফে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ قَالَ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ
যে ব্যক্তি বলে যে, সবাই ধ্বংস হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে। কারণ তাদের আমল খারাপ, আকীদা খারাপ, ইবাদত খারাপ, তাই তারা সকলে ধ্বংস হয়ে গেছে, তাহলে সবচে' বেশি ধ্বংসগ্রস্ত ব্যক্তি সে নিজে। যে অন্যদের দোষ বর্ণনা করে ঠিকই, কিন্তু নিজের অবস্থা সম্পর্কে গাফেল। যদি নিজের আমল ও নিজের সংশোধনের চিন্তা জাগে, অন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় যে, আমি আল্লাহর সামনে কি জওয়াব দিবো? তাহলে নিশ্চিতভাবে তখন সে নিজেকে নিজে সবচে' খারাপ মনে করবে। তখন অন্যদেরকে খারাপ চোখে দেখবে না।'
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৩১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮১৫৮, মুওয়াত্তায়ে মালেক, হাদীস নং ১৫৫৯
কুরআনে কারীমের ইরশাদ হলো, হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ইসলাহের ফিকির করো। তোমরা যদি নিজেদেরকে সংশোধন করো এবং হিদায়াতের পথে চলে আসো তাহলে যারা গোমরাহীর দিকে যাচ্ছে, বিপথগামী হচ্ছে, তাদের বিপথগামিতা, তাদের অন্যায় অপকর্ম তোমাদের ক্ষতি করবে না। তোমাদের সকলকে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। সেখানে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে বলবেন, যা কিছু তোমরা দুনিয়াতে করতে। এ আয়াতে এ কথা বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে আল্লাহর নিকট নিজের আমলের উত্তর দিতে হবে। এমন হবে না যে, মন্দ কর্ম করেছে অন্যে, আর জওয়াবদিহি চাওয়া হচ্ছে আমার কাছে যে, সে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলো কেন? বা আমি কোনো খারাপ কাজ করবো আর অপরের নিকট এর জওয়াব চাওয়া হবে, এমন হবে না। বরং প্রত্যেকের নিকট নিজে। আমল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। এজন্য তোমরা প্রথমে নিজের ফিকির করো যে, তোমাদের আমল কেমন? তোমরা যখন আল্লাহর সম্মুখে হাজির হবে, তখন নিজের আমল সম্পর্কে কি উত্তর দিবে? এজন্য অন্যকে নিয়ে চিন্তা করার পূর্বে নিজের খবর নাও। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের আমল আখলাকের উপর জরিপ চালিয়ে দেখবে যে, সে কি কি ভুল পদ্ধতি ও ভুল কর্মে লিপ্ত। তারপর সে ভুলগুলো দূর করার চেষ্টা করবে। এমন যেন না হয় যে, অন্যের দোষ ও মন্দ কর্ম খুঁজে ফিরছে আর নিজের দোষের ব্যাপারে গাফেল।
এক হাদীস শরীফে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ قَالَ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ
যে ব্যক্তি বলে যে, সবাই ধ্বংস হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে। কারণ তাদের আমল খারাপ, আকীদা খারাপ, ইবাদত খারাপ, তাই তারা সকলে ধ্বংস হয়ে গেছে, তাহলে সবচে' বেশি ধ্বংসগ্রস্ত ব্যক্তি সে নিজে। যে অন্যদের দোষ বর্ণনা করে ঠিকই, কিন্তু নিজের অবস্থা সম্পর্কে গাফেল। যদি নিজের আমল ও নিজের সংশোধনের চিন্তা জাগে, অন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় যে, আমি আল্লাহর সামনে কি জওয়াব দিবো? তাহলে নিশ্চিতভাবে তখন সে নিজেকে নিজে সবচে' খারাপ মনে করবে। তখন অন্যদেরকে খারাপ চোখে দেখবে না।'
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৩১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮১৫৮, মুওয়াত্তায়ে মালেক, হাদীস নং ১৫৫৯