📄 মুসলিমদের দুর্দশার কারণ
এ আয়াতের অর্থ এবং তার ব্যাখ্যা পেশ করার পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। যা অনেক সময়ই আমাদের অনেকের অন্তরে জাগ্রত হয়। আপনারা দেখছেন, বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ যেখানেই বসবাস করছে সেখানেই তারা সমস্যায় জর্জরিত। বিপদ ও অস্থিরতায় আক্রান্ত।
বসনিয়ার মুসলিমদের উপর জুলুম অত্যাচার চলছে। কাশ্মীরের মুসলিমরা নির্যাতন নিপীড়ণের শিকার। ভারতের মুসলিমরা কাফের ও হিন্দুদের অত্যাচারে জর্জরিত। সুমালিয়ার মুসলিমগণ গৃহযুদ্ধে আক্রান্ত। আফগানিস্তানের মুসলিমগণ পরস্পরে যুদ্ধ করে চলছে। পুরো মুসলিম উম্মাহ আজ যে সমস্ত সমস্যায় আক্রান্ত, তার কারণ সম্পর্কে চিন্তা করলে যাদের অন্তরে ঈমানের সামান্য স্পন্দনও অবশিষ্ট রয়েছে তারাই বলে যে, এসব বিপদাপদ ও সমস্যার মৌলিক কারণ হলো, আমরা আল্লাহর মনোনীত দ্বীনকে ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহর বন্দেগী ছেড়ে দিয়েছি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার উপর আমল করা ছেড়ে দিয়েছি। তার সুন্নাতের অনুসরণ ছেড়ে দিয়েছি। অপকর্মে লিপ্ত হয়েছি। এর ফলে আমাদের উপর এতো সব বিপদের ঘনঘটা। আর একথা পুরোপুরি সঠিক। কারণ কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
مَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا عَنْ كَثِيرٍ
অর্থাৎ, যাকিছু মুসীবত তোমাদের উপর আপতিত হয়েছে তা সব তোমাদের স্বহস্তে অর্জিত কৃতকর্মের ফল। তোমাদের অনেক গোনাহের কাজ এমন আছে, যেগুলো আল্লাহ তা'আলা মাফ করে দেন। যেগুলোর শাস্তি তোমাদেরকে দেন না।'
টিকাঃ
১. সূরা শূরা, আয়াত-৩০
এ আয়াতের অর্থ এবং তার ব্যাখ্যা পেশ করার পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। যা অনেক সময়ই আমাদের অনেকের অন্তরে জাগ্রত হয়। আপনারা দেখছেন, বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ যেখানেই বসবাস করছে সেখানেই তারা সমস্যায় জর্জরিত। বিপদ ও অস্থিরতায় আক্রান্ত।
বসনিয়ার মুসলিমদের উপর জুলুম অত্যাচার চলছে। কাশ্মীরের মুসলিমরা নির্যাতন নিপীড়ণের শিকার। ভারতের মুসলিমরা কাফের ও হিন্দুদের অত্যাচারে জর্জরিত। সুমালিয়ার মুসলিমগণ গৃহযুদ্ধে আক্রান্ত। আফগানিস্তানের মুসলিমগণ পরস্পরে যুদ্ধ করে চলছে। পুরো মুসলিম উম্মাহ আজ যে সমস্ত সমস্যায় আক্রান্ত, তার কারণ সম্পর্কে চিন্তা করলে যাদের অন্তরে ঈমানের সামান্য স্পন্দনও অবশিষ্ট রয়েছে তারাই বলে যে, এসব বিপদাপদ ও সমস্যার মৌলিক কারণ হলো, আমরা আল্লাহর মনোনীত দ্বীনকে ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহর বন্দেগী ছেড়ে দিয়েছি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার উপর আমল করা ছেড়ে দিয়েছি। তার সুন্নাতের অনুসরণ ছেড়ে দিয়েছি। অপকর্মে লিপ্ত হয়েছি। এর ফলে আমাদের উপর এতো সব বিপদের ঘনঘটা। আর একথা পুরোপুরি সঠিক। কারণ কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
مَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا عَنْ كَثِيرٍ
অর্থাৎ, যাকিছু মুসীবত তোমাদের উপর আপতিত হয়েছে তা সব তোমাদের স্বহস্তে অর্জিত কৃতকর্মের ফল। তোমাদের অনেক গোনাহের কাজ এমন আছে, যেগুলো আল্লাহ তা'আলা মাফ করে দেন। যেগুলোর শাস্তি তোমাদেরকে দেন না।'
টিকাঃ
১. সূরা শূরা, আয়াত-৩০
📄 এ কেমন গন্তব্য! কেমন পথ!
কতক বদ আমল এমন আছে যেগুলোর শাস্তি ইহজগতে বিপদাপদের আকারে দেওয়া হয়। যখন আমরা পরস্পরে বসে মুসলিম উম্মাহর এসব বিপদাপদের কথা আলোচনা করি, এগুলোর কারণ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করি, তখন খুব কমই আমাদের কোনো মজলিস এ আলোচনা থেকে খালি থাকে যে, আমরা সবাই বদ আমলে লিপ্ত, মন্দ আচরণে লিপ্ত, গোনাহের কাজে লিপ্ত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ছেড়ে দিয়েছি, এ সমস্ত বিপদ এসব বদ আমলের ফল।
কিন্তু এসব আলোচনা সত্ত্বেও যেখানের পানি সেখানেই গড়াচ্ছে। অবস্থার কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সংস্কার ও সংশোধনের জন্যে অনেক দল, অনেক সংগঠন এবং অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি যথাপূর্ব। বদদ্বীনীর যেই প্লাবন বয়ে চলছে তার গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, হ্রাস পাচ্ছে না। যাত্রার পূর্বে যেই দূরত্ব ছিলো, এখনও সেই দূরত্ব বহাল রয়েছে। শত সহস্র ত্যাগ কতাওবানী চলছে, মানুষ জান দিচ্ছে, বিভিন্ন সংগঠন দল ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারকর্মে নিয়োজিত। পরিশ্রম চলছে। কিন্তু বাস্তব জগতে তার উল্লেখযোগ্য কোনো ফায়দা চোখে পড়ছে না। কিন্তু এমনটি কেন হচ্ছে?
কতক বদ আমল এমন আছে যেগুলোর শাস্তি ইহজগতে বিপদাপদের আকারে দেওয়া হয়। যখন আমরা পরস্পরে বসে মুসলিম উম্মাহর এসব বিপদাপদের কথা আলোচনা করি, এগুলোর কারণ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করি, তখন খুব কমই আমাদের কোনো মজলিস এ আলোচনা থেকে খালি থাকে যে, আমরা সবাই বদ আমলে লিপ্ত, মন্দ আচরণে লিপ্ত, গোনাহের কাজে লিপ্ত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ছেড়ে দিয়েছি, এ সমস্ত বিপদ এসব বদ আমলের ফল।
কিন্তু এসব আলোচনা সত্ত্বেও যেখানের পানি সেখানেই গড়াচ্ছে। অবস্থার কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সংস্কার ও সংশোধনের জন্যে অনেক দল, অনেক সংগঠন এবং অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি যথাপূর্ব। বদদ্বীনীর যেই প্লাবন বয়ে চলছে তার গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, হ্রাস পাচ্ছে না। যাত্রার পূর্বে যেই দূরত্ব ছিলো, এখনও সেই দূরত্ব বহাল রয়েছে। শত সহস্র ত্যাগ কতাওবানী চলছে, মানুষ জান দিচ্ছে, বিভিন্ন সংগঠন দল ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারকর্মে নিয়োজিত। পরিশ্রম চলছে। কিন্তু বাস্তব জগতে তার উল্লেখযোগ্য কোনো ফায়দা চোখে পড়ছে না। কিন্তু এমনটি কেন হচ্ছে?
📄 সংশোধনের সূচনা অন্যদের থেকে কেন?
আমি এখন আপনাদের সামনে যেই আয়াত তিলাওয়াত করেছি, তাতে এই প্রশ্নের তৃপ্তিজনক উত্তর দেওয়া হয়েছে। কুরআনে কারীম এ আয়াতে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, তোমরা যখন সংস্কার চিন্তা নিয়ে দাঁড়াও তখন সবসময় অন্যের দ্বারা সংস্কার কর্মের সূচনা করতে চাও। তোমাদের অন্তরে এ কথা থাকে যে, মানুষ খারাপ হয়ে গেছে, মানুষ বদ আমলে লিপ্ত, ধোঁকা ও প্রতারণা করছে, মন্দ আচরণে লিপ্ত, ঘুষ নিচ্ছে, সুদ খাচ্ছে, নগ্নতা ও অশ্লীলতার সয়লাব চলছে, এসব বিষয়ে আলোচনার সময় তোমাদের মাথায় থাকে যে, এসব কাজ অন্যেরা করছে, তাদেরকে এসব কাজ থেকে বাধা দেওয়া উচিত। তাদেরকে সংশোধন করা উচিত।
আমি এখন আপনাদের সামনে যেই আয়াত তিলাওয়াত করেছি, তাতে এই প্রশ্নের তৃপ্তিজনক উত্তর দেওয়া হয়েছে। কুরআনে কারীম এ আয়াতে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, তোমরা যখন সংস্কার চিন্তা নিয়ে দাঁড়াও তখন সবসময় অন্যের দ্বারা সংস্কার কর্মের সূচনা করতে চাও। তোমাদের অন্তরে এ কথা থাকে যে, মানুষ খারাপ হয়ে গেছে, মানুষ বদ আমলে লিপ্ত, ধোঁকা ও প্রতারণা করছে, মন্দ আচরণে লিপ্ত, ঘুষ নিচ্ছে, সুদ খাচ্ছে, নগ্নতা ও অশ্লীলতার সয়লাব চলছে, এসব বিষয়ে আলোচনার সময় তোমাদের মাথায় থাকে যে, এসব কাজ অন্যেরা করছে, তাদেরকে এসব কাজ থেকে বাধা দেওয়া উচিত। তাদেরকে সংশোধন করা উচিত।
📄 আত্মশুদ্ধির চিন্তা নেই
কিন্তু এ চিন্তা কোনো আল্লাহর বান্দার অন্তরে খুব কমই আসে যে, আমিও খারাপ কাজে লিপ্ত। আমার মধ্যেও দোষ ও অন্যায় আছে। আমার সর্ব প্রথম দায়িত্ব এগুলো সংশোধন করা। আমি অন্যদের দিকে পরে দেখবো, আগে নিজের উপর সমীক্ষা চালাবো, নিজেকে সংশোধনের চিন্তা করবো। বর্তমানে আমাদের অবস্থা এই যে, কোনো দল, কোনো সংগঠন ২ কোনো প্রতিষ্ঠান যখন সংস্কারের কর্মসূচী নিয়ে দাঁড়ায়, তখন ঐ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ঐ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রত্যেকের মাথায় এই চিন্তা থাকে যে, আমি জনসাধারণকে সংশোধন করবো। কিন্তু আমি নিজেকে সংশোধন করবো, নিজের দোষ ত্রুটির সংস্কার করবো তা খুব কম আল্লাহর বান্দার অন্তরেই এসে থাকে।
কিন্তু এ চিন্তা কোনো আল্লাহর বান্দার অন্তরে খুব কমই আসে যে, আমিও খারাপ কাজে লিপ্ত। আমার মধ্যেও দোষ ও অন্যায় আছে। আমার সর্ব প্রথম দায়িত্ব এগুলো সংশোধন করা। আমি অন্যদের দিকে পরে দেখবো, আগে নিজের উপর সমীক্ষা চালাবো, নিজেকে সংশোধনের চিন্তা করবো। বর্তমানে আমাদের অবস্থা এই যে, কোনো দল, কোনো সংগঠন ২ কোনো প্রতিষ্ঠান যখন সংস্কারের কর্মসূচী নিয়ে দাঁড়ায়, তখন ঐ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ঐ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রত্যেকের মাথায় এই চিন্তা থাকে যে, আমি জনসাধারণকে সংশোধন করবো। কিন্তু আমি নিজেকে সংশোধন করবো, নিজের দোষ ত্রুটির সংস্কার করবো তা খুব কম আল্লাহর বান্দার অন্তরেই এসে থাকে।