📄 তাজেদারে মদীনার পেটে দুটি পাথর বাঁধা ছিলো
যাই হোক, এক সাহাবী বর্ণনা করেন যে, প্রচন্ড ক্ষুধার কারণে আমি আমার পেটে একটি পাথর বেঁধে ছিলাম। এমতাবস্থায় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে নিবেদন করি যে, হে আল্লাহর রাসূল! ক্ষুধার তীব্রতায় আমি আমার পেটে পাথর বেঁধেছি। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পেটের উপর থেকে জামা সরিয়ে দিলেন। আমি দেখলাম তাঁর পেটে দুটি পাথর বাঁধা রয়েছে।
এটাই শেখার বিষয় যে, যে কথার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, যে বিষয়ের তাবলীগ করা হচ্ছে, যে কাজের হুকুম দেওয়া হচ্ছে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে নিজে তাঁর উপর বেশি আমল করে দেখাচ্ছেন।
📄 হযরত ফাতেমা রাযি.-এর কষ্ট
হযরত ফাতেমা রাযি. জান্নাতের নারীদের সরদার। একবার তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হন। নিজের পবিত্র হাত দেখিয়ে নিবেদন করেন, যাঁতা পিষে পিষে আমার হাতে কড়া পড়ে গেছে, পানির মশ্ক বহন করে করে বুকে কালো দাগ পড়ে গেছে, ইয়া আল্লাহ রাসূল! খায়বারের বিজয়ের পর সমস্ত মুসলমানের মধ্যে দাস-দাসী বিতরণ করা হয়েছে, তারা তাঁদের ঘরের কাজ করে। আমাকেও একজন কাজের দাসী দান করুন।
হযরত ফাতেমা রাযি. কাজের দাসী পেলে মাথায় আসমান ভেঙে পড়তো না। কিন্তু উত্তরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, ‘ফাতেমা! সমস্ত মুসলমানের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের লোকদের জন্য কোনো দাস-দাসী আসবে না। এই কষ্টের বিনিময়ে আমি তোমাকে দাস-দাসীর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা বলছি। তারপর বললেন, প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।’
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ফাতেমা রাযি.-কে এটা শিক্ষা দিয়েছিলেন, এ কারণে একে 'তাসবীহে ফাতেমী' বলা হয়। অন্যদেরকে তো দাস বণ্টন করা হচ্ছে, দাসী বিতরণ করা হচ্ছে, পয়সাও ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে, আর নিজের ঘরের এ অবস্থা!
এজন্য বক্তা নিজে যখন অন্যদের চেয়ে অধিক আমল করে তখন তার কথার মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি হয়। সে কথা অন্তরে ক্রিয়াশীল হয়। তা মানুষের আত্মার জগতকে পরিবর্তন করে। তাদের জীবনে বিপ্লব ঘটায় এবং বিপ্লব ঘটিয়েছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা সাহাবায়ে কেরامকে কতো উপরে উঠিয়েছে!
টিকাঃ
১. সহীহ বোখারী, হাদীস নং ৫৮৪০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৩, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩০০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯৯২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭০২
📄 শাবানের ৩০ তারিখে নফল রোযা রাখা
শাবানের ৩০ তারিখে রোযা না রাখার নির্দেশ রয়েছে। কেউ কেউ এই ধারণার বশবর্তী হয়ে রোযা রাখে যে, হতে পারে আজ রমাযানের ১ম দিন। সম্ভাবনা আছে রোযার চাঁদ উঠেছে, কিন্তু আমরা দেখতে পাইনি। এরজন্য মানুষ সতর্কতা স্বরূপ শাবানের ৩০ তারিখে রোযা রাখে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্কতা স্বরূপ শাবানের ৩০ তারিখে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। এ রোযা না রাখার হুকুম শুধুমাত্র তার জন্য, যে রমাযান মনে করে সতর্কতা হিসাবে রোযা রাখছে। কিন্তু যে ব্যক্তি সাধারণভাবে নফল রোযা রেখে আসছে, সে যদি শাবানের ৩০ তারিখেও রোযা রাখে এবং রমাযানের সম্ভাবনার কারণে সতর্কতার নিয়ত না থাকে, অন্তরে এ চিন্তা না জাগে, তাহলে তার জন্য রোযা রাখা জায়েয।'
ইমাম আবু ইউসুফ রহ. শাবানের ৩০ তারিখে নিজে রোযা রাখতেন এবং পুরো শহরে ঘোষণা করতেন যে, আজ যেন কেউ রোযা না রাখে। কারণ, সাধারণ মানুষের ব্যাপারে আশঙ্কা ছিলো যে, তারা এ দিনে রোযা রাখলে সম্ভাব্য রমাযানের সতর্কতার চিন্তা তাদের অন্তরে জাগবে। ফলে রোযা রাখা গোনাহের কাজ হবে। এজন্য কঠোরভাবে নিষেধ করতেন।
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৬২২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৯৮৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৩৫, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ২১৫৯, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ১৬২০
📄 হযরত থানভী রহ.-এর সতর্কতা
হাকীমুল উম্মাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.- আমরা আপনারা যাঁর নাম নিয়ে থাকি- আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তাঁর পদাঙ্কানুসরণ করার তাওফীক দান করুন। মানুষকে ফতওয়া দেওয়ার ব্যাপারে সবসময় তিনি সহজ করার চিন্তা করতেন। যাতে মানুষের জন্য কঠিন হয়ে না পড়ে। যথাসম্ভব সহজ করতেন। আপনারা হয়তো জানেন যে, বর্তমানে গাছে ফল আসার পূর্বেই পুরো ফসল বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফল আসার পূর্বে এভাবে বিক্রি করা জায়েয নেই। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফল প্রকাশ না পাওয়া (ব্যবহারোপযোগী না হওয়া) পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। শরীয়তের এই বিধানের কারণে কতক আলেম • ফতওয়া দিয়েছেন যে, বাজারে যেসব ফল বিক্রি হয় সেগুলো এই নিষিদ্ধ পন্থায় বেচা-কেনা হওয়ার কারণে তা ক্রয় করে খাওয়া জায়েয নেই। কিন্তু হযরত থানভী রহ. বলেন যে, এসব ফল খাওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে নিজে সবসময় সতর্কতা অবলম্বন করতেন। সারাটা জীবন বাজার থেকে ফল কিনে খাননি। কিন্তু অন্যদেরকে খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এরা ছিলেন আল্লাহর প্রকৃত বান্দা। অন্যদেরকে যে বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন তারচে' বেশি নিজেরা সে বিষয়ে আমল করেছেন। ফলে তাদের কথায় প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে।