📄 পেটে পাথর বাঁধা
পেটে পাথর বাঁধার কথা আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু কখনো দেখিনি। আল্লাহ যেন না দেখান। কিন্তু যার উপর এ অবস্থা অতিবাহিত হয়েছে, সে এর মর্ম বুঝে। মানুষ মনে করে যে, পেটে পাথর বাঁধলে কি লাভ? পাথর বাঁধলে ক্ষুধা নিবারিত হয় কীভাবে! আসল বিষয় এই যে, প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগলে মানুষ এতো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে যে, সে কোনো কাজ করতে পারে না। পাথর বাঁধার ফলে পেট কিছুটা শক্ত হয়, যার ফলে মানুষ দাঁড়ানোর শক্তি পায়। অন্যথায় দুর্বলতার কারণে দাঁড়াতেও পারে না।
📄 তাজেদারে মদীনার পেটে দুটি পাথর বাঁধা ছিলো
যাই হোক, এক সাহাবী বর্ণনা করেন যে, প্রচন্ড ক্ষুধার কারণে আমি আমার পেটে একটি পাথর বেঁধে ছিলাম। এমতাবস্থায় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে নিবেদন করি যে, হে আল্লাহর রাসূল! ক্ষুধার তীব্রতায় আমি আমার পেটে পাথর বেঁধেছি। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পেটের উপর থেকে জামা সরিয়ে দিলেন। আমি দেখলাম তাঁর পেটে দুটি পাথর বাঁধা রয়েছে।
এটাই শেখার বিষয় যে, যে কথার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, যে বিষয়ের তাবলীগ করা হচ্ছে, যে কাজের হুকুম দেওয়া হচ্ছে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে নিজে তাঁর উপর বেশি আমল করে দেখাচ্ছেন।
📄 হযরত ফাতেমা রাযি.-এর কষ্ট
হযরত ফাতেমা রাযি. জান্নাতের নারীদের সরদার। একবার তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হন। নিজের পবিত্র হাত দেখিয়ে নিবেদন করেন, যাঁতা পিষে পিষে আমার হাতে কড়া পড়ে গেছে, পানির মশ্ক বহন করে করে বুকে কালো দাগ পড়ে গেছে, ইয়া আল্লাহ রাসূল! খায়বারের বিজয়ের পর সমস্ত মুসলমানের মধ্যে দাস-দাসী বিতরণ করা হয়েছে, তারা তাঁদের ঘরের কাজ করে। আমাকেও একজন কাজের দাসী দান করুন।
হযরত ফাতেমা রাযি. কাজের দাসী পেলে মাথায় আসমান ভেঙে পড়তো না। কিন্তু উত্তরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, ‘ফাতেমা! সমস্ত মুসলমানের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের লোকদের জন্য কোনো দাস-দাসী আসবে না। এই কষ্টের বিনিময়ে আমি তোমাকে দাস-দাসীর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা বলছি। তারপর বললেন, প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।’
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ফাতেমা রাযি.-কে এটা শিক্ষা দিয়েছিলেন, এ কারণে একে 'তাসবীহে ফাতেমী' বলা হয়। অন্যদেরকে তো দাস বণ্টন করা হচ্ছে, দাসী বিতরণ করা হচ্ছে, পয়সাও ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে, আর নিজের ঘরের এ অবস্থা!
এজন্য বক্তা নিজে যখন অন্যদের চেয়ে অধিক আমল করে তখন তার কথার মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি হয়। সে কথা অন্তরে ক্রিয়াশীল হয়। তা মানুষের আত্মার জগতকে পরিবর্তন করে। তাদের জীবনে বিপ্লব ঘটায় এবং বিপ্লব ঘটিয়েছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা সাহাবায়ে কেরامকে কতো উপরে উঠিয়েছে!
টিকাঃ
১. সহীহ বোখারী, হাদীস নং ৫৮৪০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪৩, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩০০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯৯২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৭০২
📄 শাবানের ৩০ তারিখে নফল রোযা রাখা
শাবানের ৩০ তারিখে রোযা না রাখার নির্দেশ রয়েছে। কেউ কেউ এই ধারণার বশবর্তী হয়ে রোযা রাখে যে, হতে পারে আজ রমাযানের ১ম দিন। সম্ভাবনা আছে রোযার চাঁদ উঠেছে, কিন্তু আমরা দেখতে পাইনি। এরজন্য মানুষ সতর্কতা স্বরূপ শাবানের ৩০ তারিখে রোযা রাখে। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্কতা স্বরূপ শাবানের ৩০ তারিখে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। এ রোযা না রাখার হুকুম শুধুমাত্র তার জন্য, যে রমাযান মনে করে সতর্কতা হিসাবে রোযা রাখছে। কিন্তু যে ব্যক্তি সাধারণভাবে নফল রোযা রেখে আসছে, সে যদি শাবানের ৩০ তারিখেও রোযা রাখে এবং রমাযানের সম্ভাবনার কারণে সতর্কতার নিয়ত না থাকে, অন্তরে এ চিন্তা না জাগে, তাহলে তার জন্য রোযা রাখা জায়েয।'
ইমাম আবু ইউসুফ রহ. শাবানের ৩০ তারিখে নিজে রোযা রাখতেন এবং পুরো শহরে ঘোষণা করতেন যে, আজ যেন কেউ রোযা না রাখে। কারণ, সাধারণ মানুষের ব্যাপারে আশঙ্কা ছিলো যে, তারা এ দিনে রোযা রাখলে সম্ভাব্য রমাযানের সতর্কতার চিন্তা তাদের অন্তরে জাগবে। ফলে রোযা রাখা গোনাহের কাজ হবে। এজন্য কঠোরভাবে নিষেধ করতেন।
টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৬২২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৯৮৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬৩৫, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ২১৫৯, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ১৬২০