📄 আমলহীন মানুষের কথায় প্রভাব সৃষ্টি হয় না
আমাদের অবস্থা এই যে, আমি আপনাকে একটি বিষয়ে নসীহত করছি, কিন্তু তার উপর আমার নিজেরই আমল নেই। এজন্য প্রথমত এ কথার প্রভাবই সৃষ্টি হবে না, আর যদি প্রভাব সৃষ্টি হয়ও তাহলে শ্রোতা চিন্তা করবে যে, এটা যদি ভালো কাজই হতো, তাহলে প্রথমে সে নিজে এর উপর আমল করতো। এভাবে তার কথা বাতাসে উড়ে যায়। এর কোনো প্রভাব সৃষ্টি হয় না।
📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ বিপ্লব ঘটিয়েছে। মাত্র তেইশ বছর সময়ে পুরো আরব উপদ্বীপের রূপ পাল্টে দিয়েছে। বরং সমগ্র পৃথিবীর চেহারার পরিবর্তন সাধন করেছে। এই বিপ্লব এজন্য ঘটেছে যে, তিনি উম্মতকে যে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রথমে নিজে তার উপর সর্বাধিক আমল করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আমাদেরকে তিনি হুকুম দিয়েছেন প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ো, অথচ তিনি নিজে প্রতিদিন আট ওয়াক্ত নামায পড়তেন। অর্থাৎ, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ছাড়া ইশরাক, চাশ্ত ও তাহাজ্জুদও পড়তেন। বরং তাঁর অবস্থা তো এই ছিলো যে,
إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ صَلَّى
অর্থাৎ, যখন তাঁর কোনো পেরেশানী দেখা দিতো, সাথে সাথে নামাযের জন্য দাঁড়াতেন এবং আল্লাহমুখী হয়ে দু'আ করতেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
جُعِلَ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ
'আমার চোখের শীতলতা নামাযের মধ্যে।২
টিকাঃ
১. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১১২৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭০
২. সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩৮৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১১৮৪৫
📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা
এমনিভাবে অন্যদেরকে সারা বছরে শুধুমাত্র রমাযানের এক মাস রোযা রাখার হুকুম দিয়েছেন, কিন্তু তিনি নিজে বছরের প্রতি মাসে কমপক্ষে তিন দিন রোযা রাখতেন। কতক সময় তিন দিনের অধিকও রাখতেন। অন্যদেরকে তো হুকুম দিচ্ছেন যে, ইফতারের সময় হলে অবিলম্বে ইফতার করবে। দুই রোযা একত্র করাকে নাজায়েয সাব্যস্ত করেছেন। এভাবে রোযা রাখাকে 'সওমে বেসাল' বলা হয়।
📄 ‘সওমে বেসালে’র নিষেধাজ্ঞা
কতিপয় সাহাবীকে তিনি দেখলেন, তারা দুই রোযাকে মিলিয়ে 'সওমে বেসাল' রাখে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিষেধ করে বললেন, তোমাদের জন্য এভাবে মিলিয়ে রোযা রাখা জায়েয নেই, হারাম। কিন্তু তিনি নিজে 'সওমে বেসাল' রাখতেন এবং বলতেন, তোমরা নিজেদেরকে আমার সাথে তুলনা করো না। কারণ, আমার প্রভু আমারে পানাহার করান। অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে এভাবে রোযা রাখার শক্তি নেই, আমার মধ্যে আছে, এজন্য আমি রাখি। অন্যদের জন্য সহজ ও সুবিধাজনক পথ বলে দিয়েছেন যে, ইফতারের সময় খুব পানাহার করো। সারারাত খাওয়ার অনুমতি রয়েছে।'
টিকাঃ
১. সহীহ বোখারী, হাদীস নং ১৮২৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৪৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪৫২২, মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদীস নং ৫৯১, সুনানে দারেমী, হাদীস নং ১৬৪১