📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মা থেকে বের হওয়া কথায় প্রভাব হয়ে থাকে

📄 আত্মা থেকে বের হওয়া কথায় প্রভাব হয়ে থাকে


সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা এই ছিলো যে, তাঁদের প্রত্যেকের সবসময় চিন্তা ছিলো যে, আমার কোনো কাজ, আমার কোনো কর্ম, আমার কোনে কথা, আমার কোনো ভঙ্গি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুমের পরিপন্থী নয় তো? এই চিন্তা নিয়ে যখন তাঁরা অন্য কাউকে সংশোধনের কোনো কথা বলতেন, তা মানুষের অন্তরে প্রভাব বিস্তার করতো। এর ফলে জীবনের পরিবর্তন সাধিত হতো। বিপ্লব ঘটতো। বিপ্লব ঘটিয়ে তাঁরা জগতবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন। আল্লামা ইবনে জাউযী রহ. বিখ্যাত বক্তা ছিলেন। ঐতিহাসিকরা লিখেছেন, তাঁর একেক ওয়াযে নয়-নয়শ' মানুষ তাঁর হায়ে গোনাহ থেকে তাওবা করেছে। ওয়ায করেছেন, আর মানুষের মন কেরে নিয়েছেন। তাঁর বক্তৃতা খুব আবেগ উদ্দীপ্ত ছিলো না। তাঁর বক্তব্য সাহিত্য অলংকারপূর্ণ ছিলো না। আসল বিষয় এই ছিলো যে, মন থেকে উত্থি আবেগ যখন মুখে চলে আসে, তখন তা অন্যদের অন্তরে প্রভাব সৃষ্টি করে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আমলহীন মানুষের কথায় প্রভাব সৃষ্টি হয় না

📄 আমলহীন মানুষের কথায় প্রভাব সৃষ্টি হয় না


আমাদের অবস্থা এই যে, আমি আপনাকে একটি বিষয়ে নসীহত করছি, কিন্তু তার উপর আমার নিজেরই আমল নেই। এজন্য প্রথমত এ কথার প্রভাবই সৃষ্টি হবে না, আর যদি প্রভাব সৃষ্টি হয়ও তাহলে শ্রোতা চিন্তা করবে যে, এটা যদি ভালো কাজই হতো, তাহলে প্রথমে সে নিজে এর উপর আমল করতো। এভাবে তার কথা বাতাসে উড়ে যায়। এর কোনো প্রভাব সৃষ্টি হয় না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায

📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায


হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ বিপ্লব ঘটিয়েছে। মাত্র তেইশ বছর সময়ে পুরো আরব উপদ্বীপের রূপ পাল্টে দিয়েছে। বরং সমগ্র পৃথিবীর চেহারার পরিবর্তন সাধন করেছে। এই বিপ্লব এজন্য ঘটেছে যে, তিনি উম্মতকে যে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রথমে নিজে তার উপর সর্বাধিক আমল করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আমাদেরকে তিনি হুকুম দিয়েছেন প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ো, অথচ তিনি নিজে প্রতিদিন আট ওয়াক্ত নামায পড়তেন। অর্থাৎ, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ছাড়া ইশরাক, চাশ্‌ত ও তাহাজ্জুদও পড়তেন। বরং তাঁর অবস্থা তো এই ছিলো যে,
إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ صَلَّى
অর্থাৎ, যখন তাঁর কোনো পেরেশানী দেখা দিতো, সাথে সাথে নামাযের জন্য দাঁড়াতেন এবং আল্লাহমুখী হয়ে দু'আ করতেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
جُعِلَ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ
'আমার চোখের শীতলতা নামাযের মধ্যে।২

টিকাঃ
১. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১১২৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭০
২. সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩৮৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১১৮৪৫

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা

📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযা


এমনিভাবে অন্যদেরকে সারা বছরে শুধুমাত্র রমাযানের এক মাস রোযা রাখার হুকুম দিয়েছেন, কিন্তু তিনি নিজে বছরের প্রতি মাসে কমপক্ষে তিন দিন রোযা রাখতেন। কতক সময় তিন দিনের অধিকও রাখতেন। অন্যদেরকে তো হুকুম দিচ্ছেন যে, ইফতারের সময় হলে অবিলম্বে ইফতার করবে। দুই রোযা একত্র করাকে নাজায়েয সাব্যস্ত করেছেন। এভাবে রোযা রাখাকে 'সওমে বেসাল' বলা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00