📄 হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি.-এর বৈশিষ্ট্য
হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি.-কে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের অনেক রহস্যের কথা বলেছিলেন। তাঁকেই গোপনে মুনাফিকদের পুরো তালিকা বলেছিলেন যে, মদীনা শরীফের অমুক অমুক ব্যক্তি মুনাফিক। এতো আস্থাপূর্ণভাবে বলেছিলেন যে, মদীনা শরীফে কারো মৃত্যু হলে সাহাবায়ে কেরাম লক্ষ করতেন যে, এর জানাযার নামাযে হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. অংশ নিয়েছেন কি না। যদি হযরত হুযাইফা রাযি. অংশ নিতেন তাহলে এটা আলামত ছিলো যে, এ ব্যক্তি মুমিন। আর যদি তিনি ঐ জানাযায় অংশ না নিতেন তাহলে সাহাবায়ে কেরام অনুমান করতেন যে, হয় তো এ ব্যক্তি মুনাফিক। যদি মুমিন হতো তাহলে হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি. তার জানাযার নামাযে অবশ্যই অংশগ্রহণ করতেন।
📄 দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর নিজের সম্পর্কের মুনাফেকির আশঙ্কা
হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, হযরত ওমর ফারুক রাযি. খলীফা হয়েছেন। দুনিয়ার বেশি অর্ধেকের উপর তাঁর রাজত্ব চলছে। প্রসিদ্ধ আছে যে, সবসময় তিনি মানুষের সংশোধনের জন্যে ছড়ি নিয়ে ঘুরতেন। এমন প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত, এমতাবস্থায় তিনি হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রাযি.-কে তোষামোদ করে বলছেন যে, হে হুযাইফা! আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বলো, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে মুনাফিকদের যেই তালিকা বলেছেন তার মধ্যে খাত্তাবের পুত্র ওমরের নাম নেই তো? হযরত ওমর ফারুক রাযি.-এর অন্তরে চিন্তা জাগছে যে, এ তালিকায় আমার নাম নেই তো? আমি তো মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত নই?'
টিকাঃ
১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৯
📄 আত্মা থেকে বের হওয়া কথায় প্রভাব হয়ে থাকে
সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা এই ছিলো যে, তাঁদের প্রত্যেকের সবসময় চিন্তা ছিলো যে, আমার কোনো কাজ, আমার কোনো কর্ম, আমার কোনে কথা, আমার কোনো ভঙ্গি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুমের পরিপন্থী নয় তো? এই চিন্তা নিয়ে যখন তাঁরা অন্য কাউকে সংশোধনের কোনো কথা বলতেন, তা মানুষের অন্তরে প্রভাব বিস্তার করতো। এর ফলে জীবনের পরিবর্তন সাধিত হতো। বিপ্লব ঘটতো। বিপ্লব ঘটিয়ে তাঁরা জগতবাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন। আল্লামা ইবনে জাউযী রহ. বিখ্যাত বক্তা ছিলেন। ঐতিহাসিকরা লিখেছেন, তাঁর একেক ওয়াযে নয়-নয়শ' মানুষ তাঁর হায়ে গোনাহ থেকে তাওবা করেছে। ওয়ায করেছেন, আর মানুষের মন কেরে নিয়েছেন। তাঁর বক্তৃতা খুব আবেগ উদ্দীপ্ত ছিলো না। তাঁর বক্তব্য সাহিত্য অলংকারপূর্ণ ছিলো না। আসল বিষয় এই ছিলো যে, মন থেকে উত্থি আবেগ যখন মুখে চলে আসে, তখন তা অন্যদের অন্তরে প্রভাব সৃষ্টি করে।
📄 আমলহীন মানুষের কথায় প্রভাব সৃষ্টি হয় না
আমাদের অবস্থা এই যে, আমি আপনাকে একটি বিষয়ে নসীহত করছি, কিন্তু তার উপর আমার নিজেরই আমল নেই। এজন্য প্রথমত এ কথার প্রভাবই সৃষ্টি হবে না, আর যদি প্রভাব সৃষ্টি হয়ও তাহলে শ্রোতা চিন্তা করবে যে, এটা যদি ভালো কাজই হতো, তাহলে প্রথমে সে নিজে এর উপর আমল করতো। এভাবে তার কথা বাতাসে উড়ে যায়। এর কোনো প্রভাব সৃষ্টি হয় না।