📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মসমালোচনার মজলিস

📄 আত্মসমালোচনার মজলিস


হ্যাঁ, কোথাও যদি এ উদ্দেশ্যে সভা অনুষ্ঠিত করা হয় যে, সেখানে আত্ম-সমালোচনা করা হবে। নিজেদের মধ্যে কি কি দোষ রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। আর তাতে মানুষ এই নিয়তে অংশগ্রহণ করে যে, এসব কথা শুনবে, বুঝবে এবং সে অনুপাতে আমল করার চেষ্টা করবে, তাহলে এমন বৈঠক করা ঠিক আছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 মানুষের সর্ব প্রথম কাজ

📄 মানুষের সর্ব প্রথম কাজ


মানুষের সর্ব প্রথম কাজ এই যে, নিজের রাত-দিনের উপর জরিপ চালাবে এবং দেখবে যে, আমি কতোটুকু কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক এবং তাঁর বলা পদ্ধতি অনুপাতে করছি, আর কতোটুকু কাজ তার বিপরীত করছি। যদি দেখা যায় যে, তার বিপরীত করছি, তাহলে তা সংশোধনের পথ কী? আল্লাহ তা'আলা আমাদের অন্তরে এই চিন্তা জাগ্রত করে দিলে আমাদের সমাজও সংশোধিত হয়ে যাবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সমাজ কি?

📄 সমাজ কি?


সমাজ কিসের নাম? মানুষের সমষ্টি হলো সমাজ। প্রত্যেকের যদি নিজের সংশোধনের চিন্তা জাগ্রত হয়, তাহলে পুরো সমাজ নিজে নিজে শুধরে যাবে। আর যদি প্রত্যেক ব্যক্তি অন্যের চিন্তা করে, নিজের চিন্তা বাদ দেয়, তাহলে পুরা সমাজ খারাপই থেকে যাবে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সাহাবায়ে কেরামের কর্মপদ্ধতি

📄 সাহাবায়ে কেরামের কর্মপদ্ধতি


সাহাবায়ে কেরামের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন যে, তাঁদের প্রত্যেকে এই চিন্তায় মগ্ন যে, কীভাবে আমি ঠিক হতে পারি? কীভাবে আমার ব্যাধি দূর করতে পারি? হযরত হানযালা রাযি. একজন বিখ্যাত সাহাবী। তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে আসতেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে অবস্থান করে এবং তাঁর কথাবার্তা শুনে অন্তরে কী ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হতো, আত্মা কেমন বিগলিত হতো, কেমন আবেগ-অনুভূতি সৃষ্টি হতো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিন তিনি অস্থির চিত্তে চিৎকার করতে করতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলেন এবং নিবেদন করলেন,
نَافَقَ حَنْظَلَةُ ، يَا رَسُولَ اللَّهِ
'হে আল্লাহর রাসূল! হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে।”
হযরত হানযালা রাযি. নিজের সম্পর্কে বলছেন যে, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে মুনাফিক হলে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার মজলিসে বসা থাকি, আপনার কথাবার্তা শুনি, অন্তরে গভীর প্রভাব সৃষ্টি হয় এবং অবস্থা সংশোধনের দিকে মনোযোগ আকৃষ্ট হয়। কিন্তু যখন বাইরে চলে যাই এবং দুনিয়ার কাজে মগ্ন হই, তখন আপনার মজলিসে বসে যে আবেগ-অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছিলো তা লোপ পেয়ে যায়। এটা তো মুনাফিকের কাজ যে, বাইরের অবস্থা থাকবে এক রকম, আর ভিতরের অবস্থা থাকবে অন্য রকম। এ জন্য আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, আমি মুনাফিক হয়ে যাইনি তো!
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, হানযালা! তুমি মুনাফিক হওনি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থা হয়ে থাকে। সবসময় মনের অবস্থা এক রকম থাকে না। কখনো আবেগ-অনুভূতি বেশি হয়, আর কখনো কম হয়। এর দ্বারা এ কথা মনে করা যে, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি, এটা ঠিক নয়।
হযরত হানযালা রাযি.-এর অন্তরে নিজের সম্পর্কে তো চিন্তা জেগেছে যে, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি, কিন্তু তিনি অন্য কাউকে মুনাফিক বলেননি। আত্মসমালোচনা করে নিজেকে নিজে মুনাফিক চিন্তা করে অস্থির হয়ে পড়েছেন। নিজের চিন্তা করেছেন যে, আমার মধ্যে মুনাফিকি নেই তো?

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯৩৭, সুনানে তিরমিযী, হাদসী নং ২৪৩৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৯৪৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00